২০১৮ সালে মস্কো বিশ্ব ফুটবলের মুলকেন্দ্রে পরিণত হবে. মস্কোয় যেমন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে, তেমনই ফাইন্যাল. ইউরোপের সবচেয়ে বড় নগরীতে শুধু ফুটবলই উপভোগ করা যাবে না, চমত্কার ঘোরাঘুরিও করা যাবে.

ফাইন্যাল ম্যাচ আয়োজিত হবে লুঝনিকিতে, যেটা ১৯৮০ সালে ছিল অলিম্পিকের মুল স্টেডিয়াম. এখনো ঐ স্টেডিয়ামকে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে গণ্য করা হয়. সামনের বছরে তার পুণর্নিমাণের কাজ শুরু হবে. ফাইন্যাল ম্যাচের জন্য্ দর্শকদের সংখ্যা ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯০ হাজার পর্যন্ত করা হবে. পি-আর- স্পোর্টের মুখ্য-সম্পাদক আন্দ্রেই সেলিয়ানভ এই প্রসঙ্গে বলছেন –

এই স্টেডিয়ামটি পাঁচতারকা স্তরের, কিন্থু ফিফার বিশ্বকাপ ফাইন্যাল ম্যাচের বিষয়ে কিছু বাড়তি চাহিদা থাকে. চাহিদাগুলি প্রযুক্তিগত – গ্যালারির কোনা সংশোধন করতে হবে, টেলিক্যামেরা বসানোর জায়গা ঠিক করতে হবে, ভি.আই.পি. জোন ঠিক করতে হবে. ১৯৫৬ সালে উদ্বোধিত স্টেডিয়ামটির প্রত্নতাত্ত্বিক রূপ বদল হবে না. তাই বাইরের আদল বদলাবে না, শুধু সর্বাধুনিক চাহিদা অনুযায়ী ভেতরের পরিকাঠামো সংশোধন করা হবে.

লুঝনিকি ছাড়াও মস্কোয় স্পার্তাক স্টেডিয়ামেও খেলা হবে. ঐ স্টেডিয়াম নির্মাণ করা শুরু হবে খুব শীঘ্রই. ওখানে ৪০ হাজার দর্শক আঁটার কথা.

প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ও ফাইন্যাল ম্যাচে লক্ষ লক্ষ বিদেশী অতিথি আসবে. নগরীর সব পার্কে, এমনকি রেডস্কোয়ারেও বিশাল পর্দায় সব ম্যাচ দেখানো হবে.

তাছাড়াও নগরীতে হাজারো ক্লাব, বার ও রেষ্টুরেন্ট, যেগুলো দিবারাত্র খোলা থাকে. রাষ্ট্রীয় পর্যটন এজেন্সীর প্রতিনিধি ইরিনা শেগোলকোভা বলছেন, যে মস্কোয় যেমন রাশিয়ার ঐতিহ্যগত খানাদানা, তেমনই অন্যান্য দেশের খাবারদাবারও পাওয়া যাবে.

প্রথাগতভাবে রাশিয়ায় গ্রীস্মকালে লোকে কভাস নামক ঠান্ডা পানীয় ও অক্রোশকা নামক ঠান্ডা স্যুপ খায়, সাদরে পেটস্থালন করে মিট-ডাম্পলিং, কেবেজ স্যুপগুলো. সবার খুব পছন্দ ক্যাভিয়ের. জ্যাম ও সাওয়ার ক্রীমের পুর দেওয়া পিঠে. এসব খাদ্য সবারই খুব পছন্দ হবে. আমাদের শহরে অসংখ্য ইতালীয়, জাপানী, চীনা ও ভারতীয় রেস্তোঁরা.

হোটেলের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, যে শহরে বহুসংখ্যক পাঁচতারা হোটেল, তিনতারকা হোটেল ও হোস্টেল. শহরে যাতায়াত করার জন্য মেট্রো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে. এটা সস্তা, দ্রুত ও যানজটে পড়তে হবে না.