ন্যাটো জোট নিজেদের অস্ত্র সম্ভারের মধ্যে রাশিয়ার আগ্নেয়াস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করতে পারে. “ভেপর” নামের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জার্মান বাহিনীর প্রশিক্ষণের সময়ে খুবই সাফল্যের সঙ্গে পরীক্ষিত হয়েছে. ন্যাটো জোটের অস্ত্র সম্ভারের মধ্যে এই অস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্বীকৃতী মিলেছে. এখন জোটের ১৭টি দেশের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে এই ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করার কথা হচ্ছে বলে উত্পাদকরা জানিয়েছেন.

“ভেপর – ১২” রাইফেল, “রসটেকনলজি” কোম্পানীর একটি কারখানায় নির্মিত হয়েছে. তার মূল গঠন – “কালাশনিকভ” মেশিনগানের থেকে নেওয়া. “ভেপর” – এই ব্যবস্থারই একটি সবচেয়ে ভাল রকমের নতুন রূপান্তর, যা কাছাকাছি যুদ্ধের জন্য খুবই ভাল, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” উল্লেখ করে ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর প্রথম উপ সভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ বলেছেন:

“এই রাইফেল কাছাকাছি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষ বাহিনীর কাজের জন্য বানানো হয়েছে, এটাকে বদ্ধ জায়গায় ব্যবহার করাও সম্ভব. সম্ভবতঃ, এটিকে ন্যাটো জোটের এই জাতের ব্যবস্থা সম্পন্ন অস্ত্রের উপযুক্ত গুলি ব্যবহারের উপযুক্ত করেই তৈরী করা হবে. এই ধরনের অস্ত্রের প্রধান ব্যবহার হবে খুব সম্ভবতঃ বিশেষ কাজের উপযুক্ত বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর কাজে”.

“ভেপর” সরবরাহ করা নিয়ে আলোচনা ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও ন্যাটো জোটের বাহিনীর জন্য শুরু হয়েছিল এই বছরের বসন্ত কালে. সেপ্টেম্বর মাসে জার্মানীর সামরিক বাহিনীর অফিসাররা এই অস্ত্র তাঁদের প্রশিক্ষণের সময়ে ব্যবহার করে দেখেছেন – কেল্লা দখলের অভিযানে. আর যদিও “ভেপর” যুদ্ধের অস্ত্র নয়, তবুও তা সামরিক বাহিনীর লোকরা গুলি করার গুণাগুণ ও খুবই ভাল রকমের লক্ষ্যভেদের ক্ষমতার কারণে মর্যাদা দিয়ে মূল্যায়ণ করেছেন.

ন্যাটো জোটের অর্ধেকের বেশী দেশ, অর্থাত্ ১৭টি দেশের জন্য রাশিয়ার অস্ত্রের প্রথমবার স্বীকৃতী এটা একটা উল্লেখযোগ্য প্রাথমিক ঘটনা. এর আগে পর্যন্ত ন্যাটো জোট রাশিয়ার কাছ থেকে ন্যাটো জোট শুধু একবারই আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করেছিল: আমেরিকা তাদের আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্য বেশ কয়েক হাজার কালাশনিকভ মেশিনগান কিনেছিল. এবারে সরাসরি ন্যাটো জোটের শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রয়োজনে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের কথা হচ্ছে. জোটের বহু দেশেই সোভিয়েত দেশের সময়ে তৈরী সমরাস্ত্র বহু দিন ধরেই ব্যবহার হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে “স্বাধীন সামরিক পর্যবেক্ষণ” জার্নালের কার্যকরী সম্পাদক ভিক্টর লিতোভকিন বলেছেন:

“ন্যাটো জোটের দেশ গুলি, বিশেষত পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলিতে আমাদের সহযোগিতায় নিজেদের অস্ত্র আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে. এই রকম করছে হাঙ্গেরী, চেখ, বালগেরিয়া. গ্রীসের যেমন সমস্ত আকাশ পথে আক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই রাশিয়ার ব্যবস্থায় দিয়ে তৈরী. তুরস্কও রাশিয়া থেকে সাঁজোয়া গাড়ী ও কালাশনিকভ মেশিনগান ক্রয় করে থাকে”.

ন্যাটো জোটের পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু সোভিয়েত সময়ে তৈরী অস্ত্র আগের ওয়ারশ চুক্তির অন্তর্গত পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলিতে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে. সঙ্কটের কারণেই বহু দেশ পশ্চিম থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও রসদ কিনতে পারছে না. কিন্তু একই সময়ে রাশিয়াতে তৈরী অস্ত্র গুণমানের দিক থেকে অনেক সময়েই ভাল হওয়া স্বত্ত্বেও বেশ সস্তাই হয় দামের ক্ষেত্রে.