ক্ষমতাসীন দল “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” নিজেদের নির্বাচন সংক্রান্ত অবস্থান আবারও মজবুত বলে প্রমাণ করতে পেরেছে. রাশিয়ার পাঁচটি অঞ্চলে, যেখানে রাজ্যপালদের নির্বাচন করা হয়েছে, সেখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দল রুশ কমিউনিস্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও “ন্যায় বাদী রাশিয়া” দলের প্রার্থীদের হারিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দলের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন.

“ঐক্যবদ্ধ” রাশিয়া দলের জয় হয়েছে সেই ছয়টি অঞ্চলেও, যেখানে স্থানীয় আইন প্রণেতা সভার নির্বাচন হয়েছে. রাশিয়ার লোকসভায় অধিকাংশ স্থান অধিকার করা দল গত ডিসেম্বরে লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে ভাল ফলই করতে পেরেছে, এই কথা উল্লেখ করে “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের নেতা ও রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

“আমাদের দেশের ৭০টি এলাকায় নির্বাচন হয়েছে নতুন নিয়মে ও তা হয়েছে সভ্য ভাবেই, যতটা আমি বুঝতে পারি, কোন রকমের লক্ষ্যণীয় রকমের নিয়মভঙ্গ কেউ আপাততঃ উল্লেখ করেন নি. এটা একটা আশার সঞ্চার করে যে, পরবর্তী কালেও এই ধরনের নির্বাচন হবে একই ভাবে”.

ইন্টারনেটে নির্বাচনের বিষয়ে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলির ভিতরের অবস্থা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল. সুতরাং ভোট কি রকম হচ্ছে, তা যে কোন ব্যক্তিই মূল্যায়ণ করতে পেরেছেন.

এই বারে ভোটের দিন ছিল প্রায় কুড়িটিরও বেশী নতুন দলের প্রথম নির্বাচনে অংশ গ্রহণ. এই ধরনের সম্ভাবনা তাদের হয়েছে, এই বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে নতুন করে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করার আইন হওয়ার পর থেকে. এবারে রাজনৈতিক দল তৈরী করার জন্য যথেষ্ট হবে ৫০০জন দলের নীতি মেনে চলা ব্যক্তি থাকলেই, - এটা আগের চেয়ে ৮০ ভাগ কম.

প্রসঙ্গতঃ, রাশিয়ার নির্বাচন কমিশনে এই নতুন দল গুলির নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ণ করা হয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রুশ নির্বাচন কমিশনের উপ সভাপতি লিওনিদ ইভলেভ বলেছেন:

“গত কয়েক মাসের মধ্যেই, যখন থেকে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করা নিয়ে নিয়ম শিথিল হয়েছে, তখন থেকেই এই নতুন সব দল নিজেদের কার্যকরী কাঠামো তৈরী করতে পেরেছে ও নিজেদের দিকে নির্বাচকদের নিতে পেরেছে. এটা এই কথাই বলে যে, ভবিষ্যতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে সাফল্য. অবশ্যই তারা এখনও কম শক্তিশালী, কিন্তু তাদেরও রয়েছে প্রয়োজনীয় “কাঠামো”, এবার তার উপরে দরকার হবে পেশী স্ফীত অবস্থায় যোগ করার”.

এই নির্বাচন হয়েছে যেমন প্রার্থীদের দপ্তরের থেকে পাঠানো পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে, তেমনই সামাজিক সংগঠনের লোকদের উপস্থিতিতেও. বিদেশ থেকে আসা পর্যবেক্ষকরাও ছিলেন. রাশিয়াতে ভোট হয়েছে স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ভাবেই, এই কথা উল্লেখ করেছেন ফ্রান্সের সাংবাদিক ফাব্রিস-প্যাট্রিক বিওর, তিনি বলেছেন:

“সেই সমস্ত ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলিতে, যেখানে আমি যেতে পেরেছি, ভোট নেওয়া হয়েছে কোন রকমের নিয়মভঙ্গ না করেই. তাছাড়া বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা, তাদের মধ্যে নতুন তৈরী হওয়া দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন, যাদের সঙ্গে আমি কথা বলতে পেরেছি, তাঁরা আমাকে বলেছেন যে, তাঁদের ভোট নেওয়া দেখাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করে নি. তারা কোন নিয়ম ভঙ্গের ব্যাপার নথিবদ্ধ করেন নি”.

রাশিয়ার নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় দপ্তরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক দলের সংখ্যা বাড়ানো হলেই ও তার ফলে বেড়ে যাওয়া রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচকদের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে আসার বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে. মনে করিয়ে দিই যে, রাশিয়া জুড়ে এই একক নির্বাচনের দিন কোন রকমের বাড়াবাড়ি ছাড়াই শেষ হয়েছে. যদিও ছোটখাট ঘটনা সম্পূর্ণ ভাবে এড়ানো যায় নি. তবে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোন বড় রকমের নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা কোথাও হয় নি.