বেশ কয়েকটি ইংরেজ খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে যে, এবার থেকে ব্রিটেনের সেই সব কূটনীতিবিদ যারা ভারতে যাবেন, তাদের বাধ্য হতে হবে হিন্দী ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে যেতে অথবা আরও একটু ঠিক করে বললে ইংরাজী ও হিন্দী ভাষার একটা মিশ্রণ যাকে নাম দেওয়া হয়েছে “হিংলিশ”, তা শিখে যেতে.

বোঝাই যাচ্ছে যে, গত ৬৫ বছর ধরে স্বাধীন থাকা দেশে মাতৃভাষায় নিজেদের বাড়ীতে কথা বলার মতো বেশ কয়েকটি প্রজন্ম তৈরী হয়েছে, আর দেশের অন্যান্য ভাষাভাষীদের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাষ্ট্র ভাষায় কথা বলা হয়ে থাকে, আর তাই তারা হয় জানে না, অথবা খুবই খারাপ জানে সাবেক কলোনির মালিকের ভাষা, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রসঙ্গতঃ এখানে শুধু দেশের কম লেখাপড়া জানা লোকজনের কথা হচ্ছে না, বরং অনেক বড় ও মাঝারি ব্যবসাদার লোকদের কথাও হচ্ছে, আর এমনকি রাজনীতিবিদদের সম্বন্ধেও কথা হচ্ছে, যেমন সেই সমস্ত রাজ্যে, যেমন উত্তর প্রদেশ অথবা বিহার.

স্থানীয় ভাষার সংজ্ঞা বৃদ্ধি হওয়ার পটভূমিতে ও বিশেষত হিন্দী ভাষার বিকাশে সেই রকমের ভাষাগত ব্যাপার দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যেমন “হিংলিশ” – এটা দুটি ভাষার মিশ্রণ, যখন কোন বাক্য তৈরী হয় হিন্দী ভাষার গঠনের ভিত্তিতে ও তাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে বহু বিশেষ্য ও ক্রিয়া পদ ইংরাজী ভাষা থেকে নিয়ে. “এক উওম্যান স্ট্রীট ক্রস করতি হ্যায়” (এক মহিলা রাস্তা পার হচ্ছেন), অথবা কিছু দিন আগের বিজ্ঞাপনের স্লোগান – “কাম অন গার্লস, ওয়াক্ত হ্যায় শাইন করনে কা!”(মেয়েরা এগিয়ে যাও, সময় হয়েছে উন্নতি করার!) – এই ধরনের “হিংলিশ” ভাষায় চলতি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে. এই ধরনের ঘটনা হওয়ার মধ্যে নতুন কিছু হয় নি. ভাষা তত্ত্বে এই ধরনের ঘটনাকে বহুদিন আগে থেকেই নাম দেওয়া হয়েছে – পিজিন (pidgin) বলে, অর্থাত্ কোন একটা রকমের মিশ্রণ, যা এই মুহূর্তে কথাবার্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ, তা কোন রকমের নিয়ম দিয়ে বাঁধা নয় আর তাই পরবর্তী প্রজন্মের শিশুদের জন্য তা মাতৃভাষায় পরিণত হচ্ছে না”.

এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসার জন্য পথ বাস্তবে একটা. তা হল বিভিন্ন ধরনের ভাষার মানুষদের আলোচনার প্রয়োজনে একে অপরের ভাষা শেখা. প্রসঙ্গতঃ এটা বহু দিন আগেই রাশিয়াতে বোঝা হয়েছিল (তখন তা ছিল সোভিয়েত দেশ). বহু বিশ্ববিদ্যালয়েই ও এক গুচ্ছ পড়াশোনার জায়গায় ভারতীয় ভাষার বিভাগ খোলা হয়েছিল, যাতে শুধু হিন্দী নয় বরং আরও অনেক আধুনিক ভারতীয় ও প্রতিবেশী দেশের ভাষা পড়ানো হত. প্রসঙ্গতঃ এখানে পড়ানো এখনও সেই ভাবেই হয় যে, ছাত্ররা শুধু প্রাথমিক কথাবার্তা বলার ভাষাই শেখে না, যা বর্তমানে ব্রিটেনের কূটনীতিবিদেরা বাধ্য হবেন শিখতে, বরং সম্পূর্ণ ভাবে সেই সব সাংস্কৃতিক ধারণাও শেখে, যা ভাষায় নিজের প্রতিফলন ফেলেছে. বহুবারই বিভিন্ন সভা সমাবেশে সোভিয়েত ও পরবর্তী কালে রুশ কূটনীতিবিদদের হিন্দী ও অন্যান্য ভারতীয় ভাষায় বক্তৃতা শুনতে গিয়ে দেখা সম্ভব হয়েছে এই ধরনের ভাষা জ্ঞান স্থানীয় লোকরা কি ভাবে গ্রহণ করে থাকেন!

খুব সম্ভবতঃ, ব্রিটেনের পররাষ্ট্র বিভাগ ঠিক করেছে অন্য পথে যাওয়ার. এর কারণও বোধগম্য: যদিও ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে আজ ৬৫ বছর পার হয়ে গিয়েছে, তবুও গ্রেট ব্রিটেনে এই দেশকে দেখা হচ্ছিল যে, তারা এখনও অধীনে ও বাধ্য নিজেদের প্রাক্তন রাজধানীর ভাষা জানতে, উল্টো নয়. বিবিসি সংস্থাকে গ্রেট ব্রিটেনের দিল্লী শহরের হাই কমিশনের সরকারি মুখপাত্র মার্কাস উইনস্লি যেমন জানিয়েছেন যে, আজ ভারতে অবস্থিত ব্রিটেনের ১৫০ জন কূটনীতিজ্ঞদের মধ্যে মাত্র একজন হিন্দী ভাষা জানেন.