সিরীয়-তুরস্ক সীমান্ত এখন পরিণত হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে. তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর আজমারিনে সিরীয় আর্মি ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ চলছে. বিদ্রোহীরা ট্যাঙ্ক দখল এবং সরকারি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে. অন্যদিকে আর্মিরাও আকাশপথে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা করছে. নিজেদের সীমান্ত রক্ষা করতে তুরস্কের সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে.

বর্তমানে সিরিয়া ও তুরস্কের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে. তুর্কী বিমান সিরিয়ার ভূখন্ডে প্রবেশ করছে না এবং সিরিয়ার মর্টার শেল পার্শ্ববর্তী এলাকায় আঘাত হানছে. তাছাড়া যে কোন সংঘাত ঘটার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে. তুর্কী সেনারা ক্রমশই সিরিয়ার সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সিরীয় সরকার দাবী করছে. শুধুমাত্র ১ দিনের ব্যবধানে সীমান্ত এলাকায় ৬০টি ভারী সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২৫০টি ট্যাঙ্ক মজুদ রয়েছে.

এদিকে দামাস্কাস ও আঙ্কারার মধ্যে যখন সম্পর্কের এই টানাপোড়ন চলছে ঠিক তখনই মস্কো থেকে দামাস্কাসগামী সিরীয় বিমান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে. ওই বিমানে অস্ত্র বহন করা হচ্ছিল বলে দাবী করে তুরস্ক সরকার বিমানটি আঙ্কারা বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য করেছে. সামরিক বিশেষজ্ঞ ইগর কারোতচেনকো মনে করেন যে, বিমানে অস্ত্র রয়েছে তার কেন প্রমাণ নেই. তিনি রেডিও রাশিয়াকে বলেন, “যখন কোন কিছুর প্রমাণ থাকে তা লুকানো হয় না. তা পরীক্ষা না করে সরাসরি দেখানো হয়. এ মুহূর্তে আমাদের কাছে কোন কিছুই পরিস্কার নয়. তাই আমি তুরস্কের এ কর্মকান্ডকে একটি প্ররোচনা বলেই মনে করছি. সত্যিকার অর্থে এ ঘটনা আন্তর্জাতিক আকাশপথে এক ধরণের ডাকাতি. তুর্কী কর্তৃপক্ষের কাছে বিমান আটক করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছিল না. তাছাড়া সিরিয়া জাতিসংঘের কোন নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ন্যাটো সিরিয়ার বিরুদ্ধে একমুখী কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করে নি. তুরস্কের এ কাজ সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী ছিল”.

এ ঘটনার পরই অনেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা রাশিয়াকে দোষারোপ করে গনমাধ্যমে মতামত দিয়েছেন. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ এ ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন. ল্যাভরোভ বলছেন, “অবশ্যই ওই বিমানে কোন অস্ত্র থাকতে পারে না এবং থাকার প্রশ্নই ওঠে না. বিমান কোম্পানীর পূর্ণ অনুমোদন নিয়েই রাশিয়ার সরবরাহকারী নির্দিষ্ট্র ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাচ্ছিল. এগুলো ছিল রাডার স্টেশনের জন্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি. কোন আন্তর্জাতিক আইনকে তা লঙ্ঘন করে নি”.

যাত্রীবাহী বিমানে ওই ধরণের পণ্য বহন করা যা রীতিমত সাধারণ একটি ঘটনাই বলা যায়. তাছাড়া সেগুলো বহন করার জন্য সবধরণের অনুমতি পত্র ছিল.

বিমান নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে তা সিরীয়-তুর্কী সম্পর্কের দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করার কথা জানালেন বরিস দলগোভ. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “সিরিয়ার সাথে তুরস্ক যে সম্পর্ক বজায় রাখছে, এটি সেই রাজনীতিরই চলমান একটি ধারা. এর অর্থ হচ্ছে, সিরিয়ার অভ্যন্তরে যে সব অস্ত্রধারী গোষ্ঠী রয়েছে তুরস্ক তাদের সমর্থন করছে. তুরস্কে এমন ঘাঁটি রয়েছে যেখানে আর্মি অফিসারদের দিয়ে বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে. ওই সব অস্ত্রধারী দলের জন্য অবৈধ পথে তুরস্ক থেকে অস্ত্র সিরিয়া সরবরাহ করা হচ্ছে. এর মূল উদ্দেশ্য হল বাশার আসাদকে উত্খাত করা. দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি ও বিমান নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার এটাই হল প্রধান কারণ”.

আগামী সপ্তাহে দামাস্কাস ও আঙ্কারা সফর করবেন সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমী. ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যাকে জরুরিভিত্তিতে সমাধান করার চেষ্টা করবেন তিনি.