আঙ্কারা শহরে সিরিয়ার যাত্রীবাহী বিমানকে জোর করে নামানোর ঘটনায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট রয়ে গিয়েছে. আবার একই সময়ে বোঝা গিয়েছে যে, এই ঘটনা এমনিতেই এই সামান্য কিছু দিন আগের দুটি মৈত্রী ভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশের সদ্য ম্লান সম্পর্ককে ভাল করবে না. অনেকেই মনে করেন যে, তুরস্ক ও সিরিয়ার সম্পর্ক সেই রকমের বিপজ্জনক কিনারায় এসে গিয়েছে, যেখানে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই. যেমন, “মিল্লেত” নামের সংবাদপত্রের পর্যবেক্ষক কাদরি গ্যুরসেল এই বিমান নিয়ে ঘটনার আগেই লিখেছিলেন যে, “তুরস্কের রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের ভুল রাজনীতির ফলে তা এক ভুল যুদ্ধের দিকেই অবধারিত ভাবে নিয়ে যাচ্ছে, আর সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তাতে তুমি আগ্রহী অথবা নও, কারণ যুদ্ধকে রাজনীতির একটা প্রসার বলে মনে করা – এটাই যুদ্ধ শুরু করার প্রথম পদক্ষেপ”.

আর কিছু পর্যবেক্ষক নিজেদের প্রস্তাবে আরও কিছু এগিয়ে গিয়েছেন – আর তাঁরা সেই অর্থে মন্তব্য করছেন যে, আঙ্কারা ইতিমধ্যেই সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে – স্রেফ এই যুদ্ধ আপাততঃ সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয় নি. কিন্তু এই সব ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে গোলা উড়ছে, আর অসামরিক বিমানের জন্য সীমান্ত মনে হচ্ছে বন্ধই হয়ে গেল.

নরম করে বললে খুবই উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি. পরে কি হতে পারে?

নিজের মত সম্বন্ধে “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে নিকটপ্রাচ্য স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ওইতুন অরহান বলেছেন:

“বলা উচিত্ হবে না যে, বর্তমানে তুরস্ক ও সিরিয়া মধ্যে সর্ব ব্যাপী কোন যুদ্ধ হচ্ছে. বলা যেতে পারে দুই দেশের মধ্যে কিছু এলাকায় স্থানীয় সশস্ত্র সংঘর্ষ হচ্ছে. কিন্তু তুরস্ক কোন ভাবেই সম্পূর্ণ আকারের যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নয়. অন্য দিক থেকে দামাস্কাস যুদ্ধে আগ্রহী নয়. আমি মনে করি না যে, সিরিয়া খুব একটা সিরিয়াস ভাবে তুরস্ক প্ররোচনা দিতে চাইছে. তার ওপরে গত সপ্তাহে আসাদ নিজের সামরিক বিমান বাহিনীকে সিরিয়া – তুরস্ক সীমানার দশ কিলোমিটারের বেশী কাছে আসতে নিষেধ করেছেন. তাই আমার মতে দুই পক্ষই চেষ্টা করবে সম্পূর্ণ ভাবে যুদ্ধ শুরুকে এড়িয়ে যাওয়ার, কিন্তু এই ক্ষেত্রে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজক পরিস্থিতি থেকেই যাবে”.

অন্য রকমের দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের আরও এক আলোচনার সঙ্গী – একবিংশ শতকের ইনস্টিটিউটের নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকা গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ সিবেল কালেমদারোগলু মন্তব্য করেছেন. তিনি মনে করেন যে, বর্তমানের তুরস্কে ক্ষমতাসীন দল ন্যায় ও বিকাশের দলের কাছ থেকে সিরিয়া সংক্রান্ত রাজনীতিতে কোন রকমের পরিবর্তন আশা করা যেতে পারে না, তিনি তাই বলেছেন:

“আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ন্যায় ও বিকাশ দল তুরস্ককে দিয়ে সিরিয়াতে বাফার জোন তৈরী করার জন্য প্রচুর শক্তি ব্যয় করছে, যদিও এর জন্য তারা যথেষ্ট রকমের বিদেশী সমর্থন পাচ্ছে না. ন্যাটো জোট যেমন এই বিষয়ে তুরস্ককে সমর্থন করতে তৈরী নয়, কিন্তু এই দলের নেতারা এই বিষয়েই চাপ দিচ্ছেন. এটা এই কারণেই যে, তাঁদের পররাষ্ট্র নীতিতে নিকটপ্রাচ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে, কিন্তু এই প্রসঙ্গে ন্যায় ও বিকাশের দল “আরব বসন্তের” সম্ভাবনা নিজেদের কাজে লাগাতে পারে নি. আর এই ক্ষতি তারা সিরিয়াতে নিজেদের জন্য পূরণ করতে চাইছে. কিন্তু আপাততঃ তাদের খুবই বেশী রকমের সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো শুধু তুরস্কের জন্য বাড়তি সমস্যাই বয়ে এনেছে – আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সমস্ত সমস্যা. সিরিয়ার এলাকায় উদ্ভব হয়েছে নতুন সমস্ত কুর্দিস্তানের কাঠামো. আর এই সব সেই দিকেই নিয়ে যাচ্ছে যে, ন্যায় ও বিকাশ দলের নেতৃত্বের “গোঁয়ার্তুমির” জন্যই সিরিয়ার সঙ্কটে তুরস্ক খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে সিরিয়াস সমস্যার সম্মুখীণ হতে পারে”.

প্রতিবেদনটিতে ছিল তুরস্কের বিশেষজ্ঞদের তুরস্ক- সিরিয়া সম্পর্কে সঙ্কটের ভবিষ্যত নিয়ে মন্তব্য.