সোচীতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির পর্যবেক্ষক দলের সদস্যদের অষ্টম সফর শেষ হয়েছে, যা করা হয়েছিল আগামী ২০১৪ সালের দ্বাদশ শীত অলিম্পিক ও একাদশ প্যারা- অলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতি নিয়ে এই পর্যটন কেন্দ্র শহরে.

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা করেছেন, খেলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারি কর্মচারী, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনের সদস্যদের সঙ্গে, জাতীয় অলিম্পিক কমিটির সদস্যদের ও তারই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গেও. আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির যোগাযোগ কমিটির সভাপতি জান ক্লদ কিল্লি ঘোষণা করেছেন যে, এই খেলার আয়োজকরা খুবই নিখুঁত ভাবে সময়ের সঙ্গে কাজ করছেন, যার ফলে ২০১৪ সালে সবচেয়ে ভাল স্তরের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা সম্ভব হবে. এই প্রসঙ্গে জান ক্লদ কিল্লি বলেছেন:

“আমরা লক্ষ্য করেছি সোচী শহরে অলিম্পিকের জন্য যে সব জায়গা তৈরী হয়েছে, তাদের অনেক দূর কাজ এগিয়ে যাওয়া. এই পর্যবেক্ষক দল রেলওয়ে স্টেশন দেখতে গিয়েছিল, ট্রাম্পলিনের কমপ্লেক্স দেখেছে, ববস্লে ও স্লেজ প্রতিযোগিতার জায়গা দেখেছে, তারই সঙ্গে দেখা হয়েছে নানা রকমের পরিষেবার বিষয় গুলি. আমি বাড়িয়ে বলবো না – এই কথা সত্যি যে, এখানে কাজ করা হয়েছে কোন রকমের সমালোচনার উর্দ্ধে”.

কিল্লি যে রকম বলেছেন, তাতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিনিধিরা তিনটি অলিম্পিক ভিলেজ দেখেছেন, তার গুণ মান পর্যালোচনা করেছেন. শীত কালে এই সব জায়গায় যে সমস্ত প্রতিযোগিতা হবে, শুধু তাতেই এখন পর্যবেক্ষক কমিটির সদস্যরা আসতে চান. রাশিয়ার মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি কজাক আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে তাঁদের মিত্র সুলভ বিশেষজ্ঞ সাহচর্যের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

“আমরা অলিম্পিকের জায়গা গুলি নিয়ে কাজের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছি. এই বছরে বেশীর ভাগ জায়গাই আমরা শেষ করে ফেলবো. আগামী বছরে শুধু কিছু পরিবহনের জায়গা ও হোটেল তৈরী করা বাকী থাকবে. ফলে অলিম্পিকের সময়ে শহরে তৈরী থাকবে ৪২ হাজার হোটেলের ঘর, যার মধ্যে ২৭ হাজার হবে নতুন তৈরী আর ১৫ হাজার – বর্তমানে যা রয়েছে. ২০১৪ সালে সোচী পাবে আধুনিক পর্যটনের পরিকাঠামো”.

দিমিত্রি কজাক একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বছরের শেষে শুরু হবে এই সব ঘর বুক করা, আর ২০১৩ সালের শুরুতে – অলিম্পিকের টিকিট বিক্রী শুরু. “সোচী ২০১৪” আয়োজক কমিটির সভাপতি দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো বলেছেন যে, এই বছরেই সমস্ত খেলাধূলার জায়গা পরীক্ষা করে দেখা হবে অলিম্পিকের মানে. এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক. তিনি আরও বলেছেন:

“সোচী নিজের কাজ করার উপযুক্ত হওয়া নিয়ে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে – এটা অলিম্পিকের যুদ্ধ প্রস্তুতির মতো. তাছাড়া সোচী লন্ডন, সিডনি, বেজিংয়ের মতো ২০টি সবচেয়ে বেশী খেলাধূলার প্রতিযোগিতা হওয়া শহরের তালিকায় স্থান পাচ্ছে. বাস্তবে সোচী বিশ্বের একটি খেলাধূলার রাজধানী হতে চলেছে”.

এখানে আগ্রহের বিষয় হল যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্যদের সোচী শহরে আসা একই সঙ্গে অলিম্পিকের আগুনের যাত্রাপথ উপস্থাপনা অনুষ্ঠানের সাথে একসাথেই হয়েছে. তা হবে ১২৮টি শহর দিয়ে, আর মশাল বয়ে নিয়ে যাবেন ১৪ হাজার রুশ নাগরিক. অলিম্পিকের আগুন রাশিয়াতে যাবে বৈকাল হ্রদের গভীরে, ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু এলব্রুসের পাহাড় চূড়ায়, উত্তর মেরুতে এমনকি মহাকাশেও. “সোচী – ২০১৪” আয়োজক পরিষদ আশ্বাস দিয়েছে যে, এটা হবে অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিলে রেস.