বিশ্ব অর্থনীতির গতিময় আরোগ্য আশা করা হচ্ছে না. আনন্দের সম্ভাবনা অনির্দিষ্টতা দিয়ে চাপা দেওয়া রয়েছে. এটা, বাস্তবে, সেই মুখ্য বিষয়, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কার্যকরী ডিরেক্টর ক্রিস্টিন লাগার্ড টোকিও শহরে আসন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের বাত্সরিক সম্মেলনের আগে বলেছেন. এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশ্ব অর্থনীতি পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্টে নিরানন্দ মূলক সিদ্ধান্ত সেই সমস্ত মুখ্য অঞ্চল গুলি রয়েছে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ. একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা কেউই বলতে রাজী নন ২০০৮ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের অবধারিত আসন্ন পুনরাবৃত্তি নিয়ে, যদিও সেই রকমের সম্ভাবনা খুবই বেশী.

এখানে কষ্ট হয় না ধরে নিতে যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের নেতৃত্ব – বেশীর ভাগ স্বাভাবিক লোকের মতই – নতুন বিশ্ব জোড়া অসুবিধার কথা মনে হওয়া থেকে বের হতে পারছেন না.

২০০৮ সালের সঙ্কট পুনরাবৃত্তি হওয়া খুবই সম্ভব, কিন্তু আসন্ন বছর গুলিতে এটা সম্ভবতঃ হবে না, এই রকম মনে করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিশ্বায়নের সমস্যা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মিখাইল দেলিয়াগিন বলেছেন:

“আট সালের সঙ্কট – এটা ছিল আমেরিকার গৃহঋণ ব্যবস্থার সঙ্কট ও বিভিন্ন রকমের শেয়ারের উপরে বাড়তি বুত্পত্তি হওয়া লাভ সংক্রান্ত বিষয়ে পিরামিডের মতো বেড়ে ওঠার সঙ্কট, যার অনেকটাই এই সঙ্কট ধ্বংস করে দিয়েছিল. দক্ষিণ ইউরোপের সঙ্কট. এটা ছিল সঙ্কটের দ্বিতীয় ঢেউ, এখন বোঝা গিয়েছে যে, এই সঙ্কট না ইউরো মুদ্রার, না ইউরোপীয় সঙ্ঘের অথবা সারা বিশ্বের কোন রকমের সর্ব ব্যাপী অর্থনৈতিক ধ্বংস ডেকে আনবে. তাই এখন, আমি মনে করি খুবই মনোযোগ দিয়ে সেই দিকে দেখা দরকার, যা হচ্ছে চিনে. কারণ কয়েক বছর পরেই চিনের অর্থনৈতিক উন্নতির বিকাশ আরও দ্রুত কমে আসতে পারে. আর যখন এই উন্নতির হার বলা যাক শতকরা পাঁচ শতাংশ ছোঁবে, তখন চিনেই শুরু হবে খুবই সিরিয়াস ও জটিল প্রবণতার উদ্রেক, যা সারা বিশ্বকেই আঘাত করবে. তাই আজ চিন যেন অ্যাটলাস, নিজের কাঁধের উপরে সারা বিশ্বের অর্থনীতিকে ধরে রেখেছে. সুতরাং আমি এখন আপাততঃ চিনকেই দেখব”.

২০০৮ সালের ঘটনা অনেকটাই ছিল আচমকা, তাই সবই যা সে সঙ্কট ছুঁয়েছে কাজ করেছিল বাড়তি রকমের আবেগ নিয়ে, এই কথাই রেডিও রাশিয়াকে মনে করিয়ে দিয়ে “আলর” গ্রুপ কোম্পানীর নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টর সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“এখন সেই বাস্তব যে, সঙ্কট নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবে ২০০৮ সাল থেকে থেমে যায় নি, এই পরিস্থিতি ইচ্ছা অনিচ্ছার উর্দ্ধে অর্থনৈতিক বিষয় গুলিকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার দিকেই প্রস্তুত করছে. তাই, খুব সম্ভবতঃ, অর্থনীতির কিছুটা মন্থর ভাব এখনও চলবে, কিন্তু তা সেই ধরনের তীক্ষ্ণ ও আতঙ্কের চরিত্র নিয়ে আসবে না, যা ঘটেছিল ২০০৮ সালে. কারণ বেশীর ভাগ অর্থনৈতিক বিষয় গুলিই, তা সে নাগরিক, কারখানা, বা যাই হোক না কেন সঙ্কটের অপেক্ষায় রয়েছে, আর ফল হিসাবে, অনেক বেশী করেই তার জন্য তৈরী”.

অন্যভাবে বলতে হলে, নিজের থেকেই নিয়মিত সঙ্কটের ভয় এক রকম করে অর্থনীতিকেই তীক্ষ্ণ ও কঠোর কোনও পরিবর্তনের বা বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করছে. অন্য প্রশ্ন হল যে, অর্থ ও বাণিজ্যের পণ্য – এই গুলি খুবই বাস্তব বস্তু, আর যখন সঙ্কটের সময়ে তার যোগানের অভাব হয়, তখন তা কাউকেই খুশী করতে পারে না.