মস্কো আঙ্কারার কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবী করেছে

সিরিয়ার যাত্রীবাহী বিমান, যেটিতে রুশ নাগরিকরা ছিলেন, সেটি নিয়ে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া তুরস্কের পক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা দাবী করেছে. এই বিষয়ে বলা হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র আলেকজান্ডার লুকাশেভিচের মন্তব্যে. মস্কো একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না হয় তা সম্বন্ধে দাবী জানিয়েছে.

বুধবার সন্ধ্যাবেলায় তুরস্কের বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান সিরিয়ার বিমান কোম্পানীর বিমানটিকে আঙ্কারা শহরে অবতরণে বাধ্য করেছিল. সেটি মস্কো থেকে দামাস্কাস যাচ্ছিল. সেই বিমানের যাত্রীদের মধ্যে একই সঙ্গে ছিলেন রুশ নাগরিকরা. এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই ঘটনা সম্পর্কে রাশিয়ার পক্ষ জানতে পেরেছিল বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যম থেকে, এটা লক্ষ্য করেছেন আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ ও তিনি তুরস্কের পক্ষকে এই বিষয়ে আঙ্কারায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাসকে অবহিত না করার জন্য অভিযোগ করেছেন. মস্কো একই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, সিরিয়ার যাত্রীবাহী বিমানটিকে অবতরণে বাধ্য করার সময়ে রুশ নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন করা হয়েছিল.

“রেডিও রাশিয়াকে” তুরস্কের রুশ দূতাবাসের তথ্য ও জনসংযোগ মুখপাত্র ইগর মিতিয়াকভ বলেছেন যে, কূটনীতিবিদেরা সঙ্গে চিকিত্সক নিয়ে বিমান বন্দরে গিয়েছিলেন. তাঁরা যে মুহূর্তে জানতে পেরেছিলেন যে, রুশ নাগরিকরা তুরস্কের এলাকায় রয়েছে, তখনই তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন. তিনি আরও বলেছেন:

“এসেনবর্গ বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত্রি আড়াইটের সময়ে বিমানটি আবার উড়ে গিয়েছিল, রুশ নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের কর্মীদের সরাসরি দেখা করার সম্ভব হতে দেওয়া হয় নি. আর এই বিমানের যাত্রীদের মধ্যে আমরা জানতে পেরেছিলাম যে, সতেরোজন রুশী ছিলেন. আমাদের কূটনীতিবিদেরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন শুধু টেলিফোনে”.

এই বিমানটি বিমানবন্দরে আটকে পড়েছিল আট ঘন্টা ধরে. এই সমস্ত সময়ে রাশিয়ার নাগরিকদের বিমানবন্দরের যাত্রী নিবাসে আসতে দেওয়া হয় নি, খুবই অল্প সময়ের জন্য তাদের উড়ানের এলাকায় নেমে দাঁড়াতে দেওয়া হয়েছিল. তাঁদের কোন রকমের খাবার ও জল দেওয়া হয় নি. রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের পক্ষ থেকে অনুরোধের প্রত্যুত্তরে তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, বিমানটি উড়ানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে. আর এর অর্থ হল যে, এটির কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হবে না, ব্যাখ্যা করেছেন রুশ দূতাবাসের তথ্য ও জনসংযোগ মুখপাত্র ইগর মিতিয়াকভ, তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন:

“আমাদের কর্মীদের উদ্দেশ্য ও কাজকর্ম দূতাবাস কর্মীদের কনভেনশন অনুযায়ী করা হয়েছিল, এই প্রসঙ্গে দূতাবাস কর্মীদের পারস্পরিক চুক্তিও রয়েছে. দূতাবাসের সরাসরি দায়িত্ব ও প্রাথমিক কাজের মধ্যে রুশ নাগরিকদের বিদেশে অধিকার সুরক্ষাও পড়ে”.

তুরস্কের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আখমেত দাভুতোগলু যেমন ঘোষণা করেছেন যে, এই বাধ্যতা মূলক অবতরণের কারণ ছিল এই বিমানে নিয়ে যাওয়া মাল পরীক্ষা করে দেখা. তুরস্কের পক্ষের কাছে তথ্য ছিল যে, এই বিমানের মধ্যে এমন মালপত্র রয়েছে, যা যাত্রীবাহী বিমান পরিবহনের নিয়মাবলীর উপযুক্ত নয়.

তুরস্কের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী সিরিয়ার বিমানটিকে পরীক্ষার সময়ে তাতে পাওয়া গিয়েছিল যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, রেডিও ও সক্রিয় ভাবে বেতার তরঙ্গে গোলযোগ সৃষ্টি করার যন্ত্রপাতি. এই সবই নিয়ে নেওয়া হয়েছে, বিশদ কোনও খবর পাওয়া যায় নি. একই সঙ্গে এই সমস্ত যন্ত্রপাতির বিবরণ থেকে বুঝতে পারা গিয়েছে যে, এই ধরনের যন্ত্রপাতির মধ্যে যে কোন ধরনের তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত যন্ত্রই পড়তে পারে. যাই হোক না কেন, রাশিয়ার আঙ্কারা শহরের দূতাবাসের কনস্যুল বিভাগের প্রধান এলেনা কারা- সাল যেমন জের গলায় বলেছেন যে, এই মালপত্র রাশিয়াতে উত্পাদিত নয়.

সিরিয়ার পরিবহন মন্ত্রী মাখমুদ সৈদ তুরস্কের সরকারের এই কাজ কারবারকে নাম দিয়েছেন আকাশ পথে দস্যূবৃত্তি বলে. নিজের পক্ষ থেকে তাঁর তুরস্কের সহকর্মী বিনালি ঈলদীরীম ঘোষণা করেছেন যে, তুরস্কের সরকার সিরিয়ার বিমানকে অবতরণে বাধ্য করেছে দেশের জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারেই. পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান আখমেত দাভুতোগলু নিজের পক্ষ থেকে ঘোষণা করেছেন যে, এই ঘটনা রুশ – তুরস্ক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না. কিন্তু রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিক্রিয়া দেখে মনে হয়েছে যে, মস্কো শহরে রাশিয়ার নাগরিক সহ বিমানকে অবতরণে বাধ্য করার বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াস ভাবে নেওয়া হয়েছে.