তালিবান আন্দোলনের ঐস্লামিকেরা দুই দিন আগে যে ১৪ বছরের মেয়েটিকে পাকিস্তানে হত্যা করতে চেয়েছিল, তার মেরুদণ্ডে আটকে থাকা গুলি চিকিত্সকরা বের করতে সক্ষম হয়েছেন. খুবই ভারী আঘাত প্রাপ্ত এই মানবাধিকার রক্ষায় চেষ্টা করা মেয়েটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে, তবে সে এখনও রয়েছে কোমায় ও খুবই সঙ্কট জনক অবস্থায়, এই খবর দিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম. সারা দেশের স্কুল পড়ুয়ারা ওর জন্য প্রার্থনা করছে. পাকিস্তানের ও বিশ্বের নেতৃত্ব খুবই কড়া ভাবে তালিবদের এই বাচ্চা মেয়েটির উপরে হামলার সমালোচনা করেছেন, যে শুধু নিজের শিক্ষার অধিকার নিয়ে সরব হয়েছিল. তাঁরা এই আক্রমণকে বলেছেন ঘৃণ্য ও ভয়ঙ্কর, যা সেই অশান্ত সোয়াত উপত্যকায় করা হয়েছে গত মঙ্গলবারের সন্ধ্যায়.

দেশের ধর্মীয় সংগঠন গুলি ও মুসলিম নেতৃত্ব বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই কোন রকমের ঘোষণা থেকে বিরত রয়েছে. “এই সমস্ত ধর্মীয় দল গুলি খুবই শক্তিশালী ধারণা সংক্রান্ত যোগাযোগ তালিবদের সঙ্গে রেখেছে. একটির সঙ্গে অন্যটির কোন নীতিগত পার্থক্য তেমন লক্ষ্যণীয় নয়. তারা চাইছে দেশের নিয়ন্ত্রণ ও পশ্চিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে”, - ব্রিটেনের “ফাইনান্সিয়াল টাইমস” পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইজাজ খট্টক. মালালে (পুস্তুন ভাষায়) নামের মেয়েটির উপরে আক্রমণ পাকিস্তানে ক্রোধ ও বিরক্তির উদ্রেক করেছে সারা দেশ জুড়েই, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে এক সাক্ষাত্কারে পাকিস্তানের সাংবাদিক আরিফ আলি খান উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

“মালালে নামের মেয়েটির উপরে আক্রমণ পাকিস্তানে ক্রোধ ও বিরক্তির এক ঘূর্ণি সৃষ্টি করেছে. সারা দেশ জুড়েই সমাবেশ ও মিছিল চলছে. তা আয়োজন করছে রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংস্থা গুলি. সকলেই একটি বিষয়ে সহমত: এই ঘৃণ্য অপরাধ কোন ভাবেই শাস্তি এড়াতে পারে না. মালালে যাতে দ্রুত আরোগ্য লাভ করে, তাই মসজিদে, হিন্দু মন্দিরে ও খ্রীষ্টান গির্জায় প্রার্থনা করা হচ্ছে. সারা দেশ জুড়ে রেডিও ও টেলিভিশন সম্প্রচারে এই মেয়েটির স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই প্রসারিত ভাবে জানানো হচ্ছে, আর তারই সঙ্গে সারা দেশ জুড়ে হওয়া মিছিল ও সমাবেশের ঘটনা সম্পর্কেও. আর আজ এই ঘটনা নিয়ে রেডিও টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হচ্ছে. জানানো হয়েছে যে, তার স্বাস্থ্য কিছুটা ভালোর দিকে যাচ্ছে, কিন্তু তাঁর বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সার সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া হয় নি. গতকাল করাচী শহরে এক বহু সহস্র মানুষের সমাবেশ হয়েছে, যাতে অংশ নিয়েছিলেন মহিলা, পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে. তা শেষ হয়েছিল সকলের একত্রিত ভাবে মালালে নামের মেয়েটির স্বাস্থ্য কামনার প্রার্থনা দিয়ে. একই সময়ে তালিবান আন্দোলনের কাছাকাছি থাকা লোকরা ঘোষণা করেছে যে, এই মেয়েটিকে তারা আবার হত্যা করার চেষ্টা করবে. এই ধরনের হুমকি আরও বেশী করেই “তালিবদের” সম্পর্কে ঘৃণাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে, যারা এক নির্দোষ মেয়ের উপরে আক্রমণ করেছে. এই ধরনের খুবই ঘৃণ্য অপরাধের প্রতি সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের মেনে নেওয়ার অনিচ্ছা ও সমালোচনায় সমস্ত ধর্মীয় গোষ্ঠীই একমত হয়েছে, তাদের ছাড়া বাম ও দক্ষিণ পন্থী রাজনীতিবিদ, পার্লামেন্ট সদস্য, সামরিক বাহিনী, সরকার ও পাকিস্তানের সমস্ত জনতাই এই বিষয়ে একমত”.

বেশীর ভাগ পাকিস্তানের লোকরাই মালালে ইউসুফজাই নামের মেয়েটি, যে শুধু মেয়েদের জন্য শিক্ষার অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছিল, তার মধ্যে দেশে পরিবর্তন ও আশার চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন, যে দেশ হিংসা ও হতাশায় বর্তমানে কষ্ট পাচ্ছে. পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের প্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি বুধবারে সেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন, যেখানে মালালে রয়েছে. জেনারেল পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী লোক বলেই পরিচিত, তিনি এই বাচ্চা মেয়েটির উপরে আক্রমণকে সন্ত্রাসবাদের ঘৃণ্য কর্ম বলে অভিহিত করেছেন. তিনি বলেছেন, - “সেই সমস্ত ভীরু লোকরা, যারা মালালে নামের মেয়েটিকে ও তার একই ক্লাসে পড়া মেয়েদের আক্রমণ করেছিল, তারা আবার করে দেখিয়েছে যে তারা কত কম দাম দেয় মানুষের জীবনের, আর তারা নিজেদের ধ্যান ধারণা অন্যের উপরে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য কত নীচে নামতে পারে. তারা এমনকি হজরত মহম্মদের কথাও শ্রদ্ধা করে না, যিনি বলেছিলেন: যারা বাচ্চাদের প্রতি দয়ালু নয়, তারা আমাদের মধ্যে নেই”, - এই কথা তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন. কায়ানি বলেছেন, - “আমরা সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করব না, আমরা যে কোন মূল্যেই লড়াই চালিয়ে যাব. আল্লার দোয়াতে আমরাই জিতবো”.

তালিবদের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফ সমালোচনা করেছেন. তিনি বলেছেন, - “মালালে সেই রকমই যেমন আপনার অথবা আমার মেয়ে. যদি এই বুদ্ধিহীণ লোকরা তাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তাহলে কার মেয়ে আর নিরাপদ থাকতে পারবে?” পাকিস্তানের সরকার সেই ধরনের তথ্য যা এই ১৪ বছরের মেয়েকে আক্রমণ করা জঙ্গীদের ধরার জন্য কাজে লাগতে পারে, তার জন্য এক লক্ষ পাঁচ হাজার ডলার অর্থমূল্যের সমান পুরস্কার ঘোষণা করেছে.

0বিশ্ব ইউসুফজাই সম্বন্ধে আগেই জানতে পেরেছিল, যখন পশ্চিমের দেশে তার ডায়েরি ছাপা হয়েছিল, যেখানে সে গল্প করেছিল, কি করে তালিবরা তাকে ও তারই মতো বাচ্চা মেয়েদের স্কুলে পড়তে দিতে নিষেধ করেছিল. বিশ্বের বিকাশের জন্য এটি একটি মর্যাদা সম্পন্ন আন্তর্জাতিক শিশু পুরস্কারের বিজয়ী তালিকায় মনোনীত হয়েছিল.