মহাত্মা গান্ধীর ধারণা বিশ্বায়নের যুগে বাস্তব ও প্রয়োজনীয়, - রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ভারত গবেষণা কেন্দ্রের বিখ্যাত রুশ ভারতবিদ্ প্রফেসর ফেলিক্স ইউরলভ এই রকমই বিশ্বাস করেন. – তিনি নিজের মত দিয়েছেন মস্কোয় আয়োজিত রুশ – ভারত সেমিনার – গান্ধী ও বর্তমানের বিশ্ব নামের অনুষ্ঠানে, যা আয়োজিত হয়েছিল ভারতের জাতির জনকের জন্ম দিবস উপলক্ষে. – গান্ধী, যিনি ভারতের পুনর্জন্মের জন্য আহ্বান করেছিলেন, তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও জাতি গুলির সঙ্গে সহযোগিতার ধারণার বিষয়ে খোলা মনের ছিলেন, - উল্লেখ করেছেন ফেলিক্স ইউরলভ, তিনি বলেছেন:

“নিজের গৃহের দরজা রাখতে চাই খোলা, কিন্তু আমি চাই না যে, ফিরে আসা হাওয়ার ঝড় আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যাক. চাই নিজের জাতীয় সংস্কৃতির জমিতে থাকতে”, - রাশিয়ার বিজ্ঞানী মহাত্মা গান্ধীর এই কথাগুলিকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন. – “বর্তমানের বিশ্বায়নের সময়ে এই কথাগুলিই সংজ্ঞাবহ হয়ে যায়. সেই বিশ্বায়নের সব উপায়, যা লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক মূল্যবোধের উপরে নির্ভর করে তৈরী, তা বিগত বছর গুলির অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে হোঁচট খেতে শুরু করেছে. গান্ধীর এই সব ধারণার বাস্তব গুরুত্ব বোঝার জন্যই বর্তমানের বিশ্লেষকরা আধুনিক ভারতে আসছেন” – বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন ফেলিক্স ইউরলভ, “গান্ধীর ধারণা সংক্রান্ত এই দৃষ্টিকোণ রাশিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ”.

মহাত্মা গান্ধীর উত্তরাধিকার (মহাত্মা শব্দের অর্থ মহান আত্মা) বর্তমানের প্রতিসরণে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের হরিদ্বারের দেব সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ডঃ প্রণব পাণ্ডে. গান্ধী মানবিক মূল্যবোধের প্রাথমিক গুরুত্বের বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তিনি ছিলেন অনিয়ন্ত্রিত ভোগের বিপক্ষে, তা মানুষের জন্যই হোক বা কোন আলাদা দেশ অথবা দেশের গোষ্ঠীর সম্পর্কেও বলা যেতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন:

“ গান্ধী যেন আগে থেকেই পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা গুলিকে দেখতে পেয়েছিলেন, যার আজ আমরা সকলেই সম্মুখীণ হয়েছি, প্রাকৃতিক সম্পদের ক্রমাগত ক্ষয় ও তার অবিরাম ব্যবহার আমাদের বাধ্য করছে নতুন ও পুনর্ব্যবহারের যোগ্য শক্তির উত্স সন্ধানে. গান্ধী বলেছিলেন যে, সভ্যতা সম্পূর্ণভাবে এই শব্দের অর্থ হিসাবে কোন রকমের ভোগের বিষয়ে পরিমান বৃদ্ধি নয়, বরং ভাল করে ভেবে, স্বাধীন ভাবে নিজের ইচ্ছা গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা. আজ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মহাত্মা গান্ধীর এই দৃষ্টিকোণকে বোঝা ও তা মেনে চলা”.

মহাত্মা গান্ধীর উদ্দেশ্যে বহু শত বই লেখা হয়েছে. এই ধরনের একটি বইয়ের লেখক রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভারত বিশেষজ্ঞ ডঃ রস্তিস্লাভ রীবাকভ, তিনি বিশ্বাস করেন যে, মহাত্মা গান্ধী ভবিষ্যতের মানুষদের মধ্যেই পড়েন, তাই বলেছেন:

“বিংশ শতাব্দীতে বেঁচে থাকা এই ধরনের মানুষদের মধ্যে ছিলেন – রাশিয়ার মহাকাশ বিজ্ঞানের জনক কনস্তানতিন শিয়ালকোভস্কি, শিল্পী ও দার্শনিক নিকোলাই রোয়েরিখ. আর ভারতে – স্বামী বিবেকানন্দ ও মহাত্মা গান্ধী. তাঁদের সময় এখনও আসে নি. যদিও তাঁরা আমাদের সাথে কথা বলেছিলেন, চেষ্টা করেছিলেন আমাদের চোখ খুলে দিতে. আমরা কেবলমাত্র এখন শুরু করছি তাঁদের কাজকর্মের অর্থ অনুধাবন করার”.

আন্তর্জাতিক জনমতের ভিত্তিতে মহাত্মা গান্ধীকে পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত লোক বলা হয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার সিদ্ধান্তে অক্টোবর মাসে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস বলেই পালন করা হয় – যা ভবিষ্যতের মানুষ মহাত্মা গান্ধীর বিশ্বের সংস্কৃতি, পারস্পরিক সহনশীলতা, বোধ ও অহিংসার জন্য কাজের স্বীকৃতী হিসাবেই নিবেদন করা হয়েছে.