রাশিয়া ও ভারত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমস্যা সঙ্কুল প্রশ্ন গুলির বিষয়ে সমাধান খুঁজে পেয়েছে. এই ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আনাতোলি সেরদ্যুকোভ, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনির সঙ্গে বৈঠকের অব্যবহিত পরেই. রাশিয়ার মন্ত্রী আবারও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী দেশ ও রাশিয়ার সামরিক পণ্যের ক্রেতাদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা ক্ষেত্রে ভারতবর্ষ ও রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের আন্তর্মন্ত্রীসভা পরিষদের আলোচনা সভায় দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বেশ কিছু জটিল প্রশ্ন নিয়ে করা সম্ভব হয়েছে, বলে উল্লেখ করে বিশ্বে সামরিক অস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সফর ও আন্তর্মন্ত্রীসভা পর্যায়ে বৈঠক বেশ কিছু জমে থাকা প্রশ্নের বিষয়ে সমাধান সম্ভব করেছে. অংশতঃ – ভারতকে বিমানবাহী জাহাজ বিক্রমাদিত্য হস্তান্তর করার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে, যা পরীক্ষা করার সময়ে জাহাজের ইঞ্জিন অংশে কিছু সমস্যা উদ্ভব হয়েছিল. এর জন্য আলাদা করে আবার বাড়তি কাজ এই জাহাজে করার দরকার রয়েছে”.

ভারতকে বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” অর্পণের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে আলাদা করে চুক্তি ভঙ্গের জন্য জরিমানা দেওয়ার প্রসঙ্গ ভারতীয় তরফ থেকে এই আন্তর্মন্ত্রীসভা সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার বৈঠকে তোলা হয় নি. “ভারতের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে সবচেয়ে কম সময়ে এই জাহাজের সব প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেষ করে ভারতের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য”. এই খবর দিয়েছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর তথ্য ও জনসংযোগ মুখপাত্রী ইরিনা কভালচুক.

ভারতীয় পক্ষ রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ সমর্থন করেছে, যে “বিক্রমাদিত্য” প্রকল্প খুবই বিরল রকমের. আনাতোলি সেরদ্যুকোভ যেমন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া বাস্তবে একটি নূতন বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণ করেছে, যাতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রাক্তন ভারী ক্রুইজার বিমানবাহী জাহাজ “অ্যাডমিরাল গর্শকভের” খোল. এই আন্তর্মন্ত্রীসভা বৈঠকের পরে জানা গিয়েছে যে, ভারতকে এই বিমানবাহী জাহাজ হস্তান্তর করা হবে ২০১৩ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে.

রাশিয়া ভারত বৈঠকের সময়ে দুই পক্ষ ভারতের নৌবাহিনীর জন্য ফ্রিগেট নির্মাণের প্রসঙ্গ, ভারতে রাশিয়ার লাইসেন্স অধীনে সু- ৩০ এমকাই ও টি -৯০সি ট্যাঙ্ক উত্পাদনের কথা হয়েছে. আরও মি-১৭ভি৫ হেলিকপ্টার সরবরাহের কথাও হয়েছে. ডানাওয়ালা রকেট ব্রামোস যৌথ ভাবে উত্পাদনের প্রসঙ্গ উঠলে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রকল্প যৌথ ভাবে রকেট সমরাস্ত্র তৈরীর বিষয়ে বাস্তবায়নের এক বিরল উদাহরণ. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে এই ধরনের রকেটের সমকক্ষ কোন রকেট বর্তমানে বিশ্বে নেই.

0দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধানরা বহুমুখী যুদ্ধবিমান ও বহু রকমের কাজের উপযুক্ত পরিবহন বিমান সম্মিলিত ভাবে নির্মাণের প্রসঙ্গেও প্রকল্পের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন. “পঞ্চম প্রজন্মের বিমান নির্মাণ সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, অনেক গুলি আয়োজনের প্রশ্নে সমাধান সম্ভব হয়েছে. এই বিমানের রপ্তানী যোগ্য উদাহরণের সমস্ত চরিত্র নিয়ে সহমতে আসা সম্ভব হয়েছে আর প্রকৌশলগত ও প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মসূচীও স্থির করা হয়েছে. আশা করছি ২০২০ সাল নাগাদ সম্ভবতঃ এই ধরনের যুদ্ধ বিমানের গণ হারে উত্পাদন করা সম্ভব হবে”, - রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়েছেন.