বিগত সময়ে পশ্চিমের দেশ গুলিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্বাধীন শিখ রাষ্ট্র খালিস্তানের সৃষ্টি হওয়ার পক্ষের লোকরা, খবর দিচ্ছে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম গুলিই. ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশ গুলিতে শুরু হয়েছে এই চরম পন্থী গোষ্ঠীর কাজকর্মের জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রসারিত ভাবে তহবিল গঠন.

ভারতের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা মন্ত্রকের উত্স থেকে জানানো হয়েছে যে, যেমন ভারতে, তেমনই বেশীর ভাগ পশ্চিমের দেশেই নিষিদ্ধ সমস্ত গোষ্ঠী গুলি, অংশতঃ আন্তর্জাতিক “বাব্বর খালসা দল” ও “খালিস্তান কম্যাণ্ডো ফোর্স” নিজেদের প্রধান লক্ষ্য হিসাবে বেছে নিয়েছে যুব সমাজকে. পশ্চিমের দেশ গুলিতে থাকা অল্প বয়সী শিখদের বিশেষ করে দেখানোর জন্য ইচ্ছে করেই “অপারেশন ব্লু স্টার” নিয়ে কায়দা করে বানানো তথ্য চিত্র দেখানো হচ্ছে – এটা শিখদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র অমৃতসর শহরের স্বর্ণ মন্দিরে ১৯৮৪ সালে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর অপারেশন নিয়ে তৈরী করা. তাদের মধ্যে অন্য ধরনের প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে. এই প্রচারের কাজকর্মের জন্য কম করে হলেও ৫০টি সামাজিক সাইট ও ২০টি ইন্টারনেট সাইট অংশ নিয়েছে. ভারতের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি পিটিআই সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন যে, “এই সবই খুব উদ্বেগ জনক. আমরা চাইব যে, বিদেশের মন্ত্রীসভা এই ধরনের ভারত বিরোধী কাজকর্ম বন্ধ করার ব্যবস্থা করবে. কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, এই সব দেশের উদার পন্থী রাজনীতির জন্যই এই সমস্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোন রকমের সিরিয়াস পদক্ষেপ এখন অবধি নেওয়া হয় নি”.

সন্ত্রাসবাদীদের কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রচার ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি – অন্তত পক্ষে ভারতের বাইরে বসবাসকারী শিখদের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতার বৃদ্ধি, খুবই দূর্যোগের বার্তা বয়ে এনেছে কয়েকদিন আগে লন্ডনে জেনারেল কুলদীপ সিংহ ব্রারের উপরে হত্যার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে, যিনি ১৯৮৪ সালে “অপারেশন ব্লু স্টারের” নেতৃত্ব দিয়েছিলেন. তাঁকে যারা হত্যা করতে গিয়েছিল তাদের মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর জানা গিয়েছে যে, তারা অল্প বয়সী শিখ.

সশস্ত্র যুদ্ধ, ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৯০ এর দশকের শুরু পর্যন্ত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা করেছিল, তা নিয়ে এসেছিল অসংখ্য দুঃখের ঘটনাকে, যার শিকার যেমন হয়েছিল শিখরা, তেমনই ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষরাও. সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে এই সব জঙ্গীদের সঙ্গে পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর লোকরা ছাড়াও প্রচুর নিরীহ লোকের প্রাণ গিয়েছিল. কিছু হিসাব অনুযায়ী সেই সংখ্যা বিশ হাজারেরও বেশী. এই সব ঘটনা পরম্পরার মধ্যে সবচেয়ে বেশী প্রতিধ্বনি তুলেছিল ১৯৮৪ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা. শ্রীমতী গান্ধীকে মেরেছিল, তাঁরই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দেহরক্ষী শিখরা, যারা গোপন করে নি যে, এটা তারা করেছে স্বর্ণ মন্দিরে সেনা বাহিনীর জোর করে ঢুকে পড়ার প্রতিশোধ হিসাবে.

নব্বই দশকের শুরুর দিকে মনে হতে শুরু করেছিল যে, এই আন্দোলনের শক্তি স্তিমিত হয়ে এসেছে: ভারতের পুলিশ ও সামরিক বাহিনী একেবারে গোড়ার দিকেই একটা পরিবর্তন আনতে সমর্থ হয়েছে, আর রাজনৈতিক দল গুলি, যারা শিখদের স্বার্থের বিষয় দেখছিল (যেমন শিরোমণি আকালী দল), তারা ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সফল ভাবেই যুক্ত হতে পেরেছে. কিন্তু দেখা গেল যে, শুধু একটা প্রজন্মের বদল হওয়ার দরকার ছিল, যাতে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ আবার মাথা চাড়া দিতে পারে, তাই রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রজন্ম পাল্টে যাওয়ার সঙ্গে আরও উল্লেখ করা দরকার যে, বর্তমানের ভারতের রাজনৈতিক পটভূমিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বেশী রকম করেই সুবিধা করতে পারছে. কেন্দ্রীয় সরকার দেখাই যাচ্ছে যে, দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর বর্তমানের মন্ত্রীসভার রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সমস্ত ভিত টলিয়ে দেওয়া স্ক্যান্ডাল স্বত্ত্বেও এই সরকারকে একটা “খোঁড়া হাঁসে” পরিণত করেছে. আর এই রকম অবস্থায় আরও বেশী করে সারা দেশ জুড়েই নিজেদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা ঘোষণা করেছেন আঞ্চলিক নেতারা. আর যদিও নরেন্দ্র মোদী বা মমতা ব্যানার্জ্জী অথবা অন্য কোনও ব্যক্তি তাঁর নিজের রাজ্যকে প্রজাতন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেওয়ার কথা বলছেন না, তবুও নিজে থেকেই আঞ্চলিক ভাবে ক্ষমতা অধিগ্রহণ করা সেই অর্থে শক্তি যোগাচ্ছে স্বাধীন খালিস্তান আন্দোলনের মত ধারণাকেই”.

আজকের বিশ্বে সবই এত বেশী রকমের একে অপরের সঙ্গে যুক্ত যে, কোন রকমের আচমকা কাজ অবশ্যম্ভাবী ভাবেই একটা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে. আজকের দুনিয়াতে প্রায় কোনই একক প্রজাতি বসবাস রত রাষ্ট্র নেই, আর এর অর্থ হল বিচ্ছিন্নতাবাদের বিপদ কোন না কোন স্তরে সমস্ত দেশেরই রয়েছে. আর যখন ভারতের রাজনীতিবিদরা আজ শ্রীলঙ্কার তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করেন, তখন তাঁদের ভেবে দেখা দরকার যে, এই রকমের বিচ্ছিন্নতাবাদের ঢেউ তাদের এলাকাতেও এসে পড়বে না তো?