আজকের দিনে রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের জন্য সবচেয়ে পরম্পরা মেনে চলা সহকর্মী দেশ. বিগত বছর গুলিতে ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তির পরিমান রাশিয়ার সমস্ত অস্ত্র রপ্তানী ব্যবসার শতকরা ৩০ ভাগ ছাড়িয়েছে. এই বিষয়ে ভারতে নভেম্বর মাসে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পিত সফরের আগে টাইমস অফ ইন্ডিয়া পত্রিকায় এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন. রাশিয়ার রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া সামরিক সহযোগিতার আওতায় ভারতের সঙ্গে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে অথবা উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কাজ করে নি. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “আমরা ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের কখনোই অস্ত্র সরবরাহ করি নি”. একই সঙ্গে ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সালের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের চুক্তির অর্থমূল্যের পরিমান তিন হাজার কোটি ডলারের বেশী হয়েছিল, স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০টিরও বেশী আন্তর্প্রশাসনিক চুক্তি. বর্তমানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার দিক গুলির সম্বন্ধে দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন ভারতে লাইসেন্স দেওয়া যুদ্ধ বিমান সু- ৩০এমকাই নির্মাণ, ট্যাঙ্ক – টি ৯০ এস তৈরী ও তারই সঙ্গে মিগ- ২৯ বিমানের আধুনিকীকরণ. একই সঙ্গে সফল বলে রগোজিন রাশিয়া ও ভারতের নির্মাতাদের তৈরী ব্রামোস নামের ডানাওয়ালা শব্দাতীত রকেট উত্পাদনের কথাও বলেছেন.

ভারতের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলামের তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর ব্লক সংক্রান্ত আলোচনা বর্তমানে তার চুক্তি পূর্ব স্তরের অন্তিম পর্যায়ে রয়েছে বলে উপ প্রধানমন্ত্রী রগোজিন জানিয়েছেন. রগোজিন উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর কোনও সন্দেহ নেই যে, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে. এর জন্য কয়েকটি বাকী রয়ে যাওয়া প্রশ্নের বিষয়ে সমাধান করতে হবে. রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা ভারতের জন্য যে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করছেন, তা কি ভারতে গৃহীত রপ্তানী কারকের নতুন অসামরিক দায়িত্ব সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী হতে চলেছে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে রগোজিন বলেছেন যে, কুদানকুলাম – বিশ্বের প্রথম পারমানবিক কেন্দ্র, যা প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে পারে ও জাপানের ফুকুসিমা – ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের দুর্ঘটনার পরে তৈরী করা হচ্ছে. রাশিয়ার এই উচ্চপদস্থ সরকারি প্রতিনিধির মতে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ভূমিকম্প ও ত্সুনামির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে, এমনকি বিমান দুর্ঘটনাও এটি সহ্য করতে সক্ষম. রাশিয়া নিজেদের দেওয়া আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন ও ভারতের সঙ্গে ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করছে. পারমানবিক জ্বালানী পরিবহন ও তার সমৃদ্ধি করণ নিয়ে যে শান্তিপূর্ণ পরমাণু ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি ভারতের সঙ্গে ২০১০ সালে করা হয়েছে, তাতে এই বিষয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর রয়েছে. রাশিয়া এই প্রসঙ্গে ভারতের কাছে সমস্ত রকমের প্রস্তাবই উপস্থিত করেছে.

সিস্টেমা শ্যাম টেলিসার্ভিসেস কোম্পানী, যেটি ভারতের শ্যাম টেলিসার্ভিসেস কোম্পানী ও রাশিয়ার এমটিএস সিস্টেমা কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে তৈরী হয়েছে এবং যেটিতে রাশিয়ার প্রশাসন অর্থ বিনিয়োগ করেছে, সেটি ভারতের মোবাইল পরিষেবা ক্ষেত্রে উত্কর্ষ সাধনের জন্য ৩২০ কোটি ডলারের সম পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায়ে যদি এই রুশ সরকারের ভারতের সঙ্গে অসামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় ও আইন সম্মত কোম্পানীর লাইসেন্স বাতিল হয়, তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে, যা রাশিয়ার পক্ষ চায় না. তাই রাশিয়া আশা করে যে, ভারতের সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন, যাতে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতে বিনিয়োগের বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারেন, বলেছেন রগোজিন.