রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আশা করেন যে, ইরাকের নেতৃত্ব রাশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস উত্তোলনের কোম্পানী গুলির এই দেশে কাজকর্মের বিষয়ে সমর্থন করবেন. ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল- মালিকির সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বিশেষ কে উল্লেখ করেছেন যে, এখানে কথা হচ্ছে “এক বিশাল সংখ্যক বড় জ্বালানী সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করা কোম্পানীদের সম্বন্ধে, আর তার মধ্যে শুধু রাশিয়ার কোম্পানীই নেই, বরং বলা যেতে পারে আন্তর্জাতিক বিশাল কোম্পানী গুলির কথা”. পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, কিছু বাধা নিষেধ দূর করার প্রয়োজন রয়েছে, যা ইরাকে রুশ ব্যবসায়ীরা সম্মুখীণ হচ্ছেন. এখানে কথা হচ্ছে রাশিয়ার পাইপ সরবরাহ নিয়ে, অংশতঃ কিছু বিশেষ ধরনের ইস্পাত নিয়ে ও ইরাকের ভূমি খণ্ডে রাশিয়ার কোম্পানী গুলির শাখার নথিভুক্ত হওয়া নিয়ে. যদি আমরা পারস্পরিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু বাধা দূর করতে পারতাম, তবে তা আরও দ্রুত গতিতে উন্নতি করতে পারত, - বলেছেন পুতিন. নিজের তরফ থেকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, তাঁদের তরফ থেকে এই বাধা ইতিমধ্যেই দূর করা হয়েছে. পুতিন যোগ করেছেন যে, দুই দেশই সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম. এই সাক্ষাত্কারের সময়ে দেশের প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে মানবিক স্তরেও যোগাযোগ বজায় রয়েছে. নিজের পক্ষ থেকে আল- মালিকি রাশিয়ার নেতাকে জানিয়েছেন এর অব্যবহিত পূর্বে তাঁর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে সাক্ষাত্কার সম্বন্ধে. দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা স্থির করেছেন যে, সহযোগিতার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় দিকে লক্ষ্য স্থির করার ও নির্দিষ্ট মন্ত্রীদের আরও খুঁটিয়ে এই বিষয়ে পর্যালোচনা করার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করার. এখানে কথা হচ্ছে খনিজ গ্যাস ও তেলের ক্ষেত্রে, বিদ্যুত শক্তি উত্পাদনের ক্ষেত্রে, বাণিজ্যে, বাস্তু নির্মাণে, বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ইত্যাদি বলে মালিকি ব্যাখ্যা করেছেন. তার ওপরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও তারই সঙ্গে সামরিক দিকেও সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলেছেন. এর আগে দিনের বেলায় আল- মালিকি “ইন্টারফ্যাক্স” সংবাদ সংস্থাকে তাঁর এই মস্কো সফর শুরু হওয়ার আগে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে নতুন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সম্বন্ধে ঘোষণা করেছিলেন. এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, সব মিলিয়ে ক্রয়ের পরিমান হতে পারে চারশো কোটি ডলার অর্থ মূল্যের বেশী. তাঁর কথামতো, ইরাক রাশিয়ার কাছ থেকে শুধু প্রতিরক্ষার অস্ত্র ও সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে মোকাবিলার অস্ত্র ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে.

এর আগে ইরাকের মন্ত্রীসভা দশ নম্বর খনিজ তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের ব্লক সংক্রান্ত চুক্তি স্বীকার করেছে, যার অপারেটর রাশিয়ার “লুক অয়েল” কোম্পানী. তাছাড়া ঘোষণা করা হয়েছিল যে, রাশিয়া ও ইরাক এই বছরের দ্বিতীয় অর্ধে সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি প্রায় চারশো দুই কোটি ডলার অর্থমূল্যের সম পরিমানে স্বাক্ষর করেছে. ইরাকের বাজারে একই সঙ্গে এক গুচ্ছ বড় রুশ কোম্পানী কাজ করছে যেমন, “লুকঅয়েল”, “গাজপ্রম নেফ্ত”, “বাশনেফ্ত”, “জারুবেঝনেফ্ত” ও অন্যান্য.