মার্কিন কংগ্রেস পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের কাজকর্ম খতিয়ে দেখা শুরু করেছে. তাদের উপরে দায়িত্ব রয়েছে কূটনৈতিক মিশন ও কূটনীতিবিদদের নিরাপত্তা রক্ষার. এই ঘটনার কেন্দ্রে লিবিয়ার বেনগাজী শহরে ১১ই সেপ্টেম্বর আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফার স্টিভেন্স নিহত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে প্রত্যেকেই চরম ভাবে রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন ও এই কংগ্রেসে বিষয় উত্থাপন অনেকটা আগে থেকেই “রায় দেওয়া শুনানীর” মতই দেখাচ্ছে. কংগ্রেস সদস্যরা, বিশেষ করে যাঁরা রিপাব্লিকান দলের লোক, তাঁরা বুঝতে চাইছেন যে, পররাষ্ট্র দপ্তরের এত শক্তিশালী গুপ্তচর বিভাগ, যাঁদের দায়িত্ব রাষ্ট্রদূত ও আমেরিকার কূটনীতিবিদদের সুরক্ষা, তাঁরা কি নিজেদের কাজ ঠিক মতন করেছিলেন.

কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের সংখ্যা সত্যই অনেক. এই শুনানীর ঠিক একদিন আগে পররাষ্ট্র দপ্তর সাংবাদিকদের কাছে স্টিভেন্সের মৃত্যুর সব থেকে বেশী খুঁটি নাটি তথ্য সমেত ধারণা প্রকাশ করেছে. তিনি বেনগাজী শহরে রাষ্ট্রদূতের ভিলার উপরে আক্রমণের সময়ে শ্বাসরোধ হয়ে মারা গিয়েছেন. কিন্তু যেমন, দেখা গিয়েছে যে, ব্যুরোর এজেন্টরা হামলার সময়ে গণ্ডগোলের মধ্যে রাষ্ট্রদূতকে হারিয়ে ফেলেছিলেন ও পরে তাঁকে এই বাড়ীতে নয়, বরং স্থানীয় হাসপাতালে আবিষ্কার করে, যেখানে রাষ্ট্রদূতকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা পৌঁছে দিয়েছিল. ব্যুরোর সমালোচকরা বলছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদেরা বিদেশে দূতাবাস গুলিতে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রায়শঃই অভিযোগ করেন. পররাষ্ট্র দপ্তর জোর গলায় বলছে যে, বিশ্বে এর কারণ হল বহু অঞ্চলে পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হওয়া.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস গুলিতে নিয়মিত হামলার কারণ ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র নীতিতে আগ্রাসী মনোভাব বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতেই হচ্ছে. রাশিয়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়েভ এর মধ্যে অনেক কারণ দেখতে পেয়েছেন. তার মধ্যে খুবই গভীর সমস্ত কারণ রয়েছে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, এখানে কারণের একটা ব্যবস্থাগত চরিত্র রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য হওয়ার থেকে কোথাও পালাতে পারবে না, অংশতঃ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের লক্ষ্য হওয়া থেকেও. উন্নতিশীল দেশ গুলির অসন্তোষ থেকে এবং বর্তমানের বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের নিয়মের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা ব্যুরো, সেটি বর্তমানের রূপে রয়েছে গত ২৬ বছর ধরে. তারা কাজ করে দেশের হয়ে গুপ্তচরের ও অন্য দেশের গুপ্তচর বৃত্তি প্রতিরোধের, কূটনৈতিক দপ্তরের সর্বোচ্চ স্তরের কর্মী ও অন্য দেশে আসা আমেরিকার সরকারি নেতৃত্ব ও কূটনীতিবিদদের নিরাপত্তার জন্য. আর তারই সঙ্গে পররাষ্ট্র দপ্তরের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ক্যুরিয়ার পরিষেবা এবং নকল ভিসা ও পাসপোর্ট উদ্ধারের কাজ.

আজ বিশ্বের ১৫৯টি দেশে এই দপ্তরের কর্মীরা কাজ করেন. এই বিভাগের বাজেট আড়াইশো কোটি ডলার. গত ২০ বছরে এই দপ্তরের কর্মীর সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে. এজেন্ট ও পরিষেবা বিষয়ক কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি থেকেই সহজে অনুমান করা যেতে পারে আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতিতে আগ্রাসী মনোভাব বাড়ার মাত্রা সম্বন্ধে. বিশেষ করে এই লোকবল বৃদ্ধি হয়েছে গত শতকের ৭০ ও ৮০র দশকে. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিকটপ্রাচ্যে পররাষ্ট্র নীতি বিশেষ করে আগ্রাসী হতে শুরু করেছিল, যা চরমপন্থী ঐস্লামিক গোষ্ঠী গুলির প্রতিক্রিয়া বাড়িয়েছে. ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে আমেরিকার বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক দপ্তর গুলির উপরে প্রায় ৩০০টিরও বেশী সন্ত্রাসবাদী হামলা ও আক্রমণ হয়েছিল. আর ২০০১ সালের পরে আফগানিস্তান ও ২০০৩ সালের পরে ইরাকে সামরিক অনুপ্রবেশের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদদের জন্য একেবারেই “শত্রুর এলাকায়” পরিণত হয়েছিল মুসলিম দেশ গুলি. আর বেনগাজী শহরে আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ট্র্যাজেডি এই প্রবণতাকেই সমর্থন করে.