২০১২ সালে বিশ্বে সাত লক্ষ উদ্বাস্তু বেশী হয়েছে. এঁরা সেই সব মানুষ, যাঁরা অন্যদেশের এলাকায় পালিয়ে এসেছেন প্রাণের দায়ে. এই প্রসঙ্গে দেশের ভেতরেই সশস্ত্র যুদ্ধের কারণে ঘর বাড়ী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে এখনই চার কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে.

বিশ্বে আরও বেশী করেই মানুষ বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের দেশ ছেড়ে নিরাপত্তার অভাবের জন্য চলে যেতে. গত বছরে একবিংশ শতকের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে – ১২ মাসের মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মীরা নথিবদ্ধ করতে পেরেছেন আরও আট লক্ষ নতুন উদ্বাস্তু মানুষকে. এই বছরে এই মাত্রা সেপ্টেম্বর মাসেই ছাড়িয়ে গিয়েছে. প্রসঙ্গতঃ সংখ্যা তত্ত্বে শুধু সেই মানুষদেরই আলাদা করা হয়েছে, যারা সরকারি ভাবে উদ্বাস্তু বলে নির্ণিত হয়েছেন, উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরিচালন ইনস্টিটিউটের অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ বিভাগের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ভোলখ বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৯৫১ সালে নেওয়া কনভেনশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী উদ্বাস্তু, এঁরা বিদেশী নাগরিক অথবা নাগরিকত্ব রহিত মানুষ, যাঁরা অনুসৃত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এই রকমের ভিত্তিমূলক বিপদে পড়ে অথবা সামরিক ক্রিয়াকলাপের ফলে বাধ্য হয়েছেন নিজেদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে”.

বর্তমানে প্রতি দিনে দুই হাজারেরও বেশী লোক সীমান্ত পার হয়ে যাচ্ছেন, যাঁরা নিজেদের দেশে সামরিক সংঘর্ষের হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজছেন. এই ধরনের বিপজ্জনক প্রবণতা বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের বিভিন্ন বিন্দুতে একই সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গেই যোগ করেছেন. বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের উদ্বাস্তু নিয়ে কাজ করার বিভাগকে একই সঙ্গে চারটি খুবই তীক্ষ্ণ সমস্যা সঙ্কুল বিরোধ সামলাতে হচ্ছে – সিরিয়াতে, সুদানে, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ও মালিতে. এই কথা বলা হয়েছে হাই কমিশনার আন্তোনিউ গুতের্রিশা প্রদত্ত রিপোর্টে. আর এটা এই প্রসঙ্গে যে, সেই সমস্ত পুরনো হয়ে যাওয়া সমস্যা, অংশতঃ আফগানিস্তানে, সোমালিতে, লাইবেরিয়াতে, ইয়েমেনে, এরিত্রে, কলম্বিয়াতে ও আরও কিছু অন্যান্য দেশে, সেই গুলিও মনোযোগের দাবী করে.

বেশী সংখ্যায় উদ্বাস্তু হওয়ার ফলে অন্য দেশ গুলি আরও কম ইচ্ছুক নিজেদের সীমান্ত খুলে দিতে. প্রথমতঃ, বিশ্ব সমাজের সাহায্য বিরাট কিছু নয়, আর বিদেশী উদ্বাস্তুদের নিজেদের দেশে থাকতে দেওয়ার বিষয়ে দায়িত্ব বিশেষ করে সেই দেশের ঘাড়েই পড়ছে, যারা থাকতে দিচ্ছে. দ্বিতীয়তঃ, এমনকি যখন সামরিক বিরোধ কমে যাচ্ছে, তখনও উদ্বাস্তুরা ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জনসংখ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর মিখাইল দেনিসেঙ্কো বলেছেন:

“সেই সমস্ত দেশ, যারা উদ্বাস্তুদের আসতে দিয়েছে, তারা এঁদের দেশে ফিরে যাওয়ার আগে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে বাধ্য. কিন্তু সমস্ত ক্ষেত্রেই এটা সম্ভবপর হচ্ছে না. যেমন, যুগোস্লাভিয়া থেকে যাওয়া উদ্বাস্তুরা যথেষ্ট দ্রুতই ফিরে এসেছেন, কিন্তু আমরা জানি যেমন বলা যাক আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া উদ্বাস্তুদের কথা, যারা অনেক দিন হল রাশিয়ার এলাকাতে ছিলেন. তাঁদের একাংশ এখানেই থেকে গিয়েছেন. কারণ যদিও আফগানিস্তানে গত বিশ বছরে অনেকবার সরকার বদল হয়েছে, কিন্তু উদ্বাস্তুদের নিরাপত্তার বিষয়ে কেউই গ্যারান্টি দিতে পারছে না”.

এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন দশ বছরে বিশ্বে সর্ব মোট উদ্বাস্তুদের সংখ্যা শুধু বেড়েই যাবে. সশস্ত্র সঙ্কট ও তার পরেই ধ্বংস ও নিঃস্ব থাকার সময় বাধ্য করবে মানুষকে নিজেদের ঘর বাড়ী ছেড়ে ভাল কিছুর সন্ধানে যেতে. শুধু মানবিক সাহায্য দিয়েই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে না. বিরোধের রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের উপায় ও তা হতে না দেওয়া – এটাই আন্তর্জাতিক সমাজের কাজ.