তুরস্কের সামরিক বাহিনীর লোকরা তুরস্কের সীমান্তের কাছের দশ কিলোমিটারের মধ্যে সিরিয়ার কোন বিমান বা হেলিকপ্টার উড়ে এলে, তা গুলি করে নামানোর অনুমতি পেয়েছে, এই খবর দিয়েছে তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি. সিরিয়ার পক্ষকে এই বিষয়ে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে ও এবারে সিরিয়ার বিমান বাহিনীর বিমান তুরস্কের সীমান্তের কাছে আসছে না.

দেখা যাচ্ছে সিরিয়ার এলাকায় তুরস্ক বাস্তবে “উড়ান বিহীণ এলাকা” তৈরী করতে চাইছে. অবশ্যই এটা একেবারে লিবিয়াতে যা হয়েছিল, ঠিক তার মত নয় – তবুও নির্দিষ্ট উদাহরণ এই ক্ষেত্রে বাধ্য হয়েই দিতে হচ্ছে.

প্রসঙ্গতঃ এখনই কোনও রকমের বিপদ সঙ্কেত দেওয়া তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে, বলে মনে করে ইজিপ্টের স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মুস্তাফা লাব্বাদ বলেছেন তার সারার্থ:

“তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে বিরোধ বহু দিন আগেই শুরু হয়েছে, আর তা যেমন আঞ্চলিক ক্ষেত্রে, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হচ্ছে. তুরস্ক ন্যাটো জোটের সদস্য, কিন্তু ন্যাটো জোটও যেমন বিগত সময়ে ব্রাসেলস থেকে করা ঘোষণায় বুঝতে পারা গিয়েছে, তেমনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বও আপাততঃ সিরিয়াতে সামরিক ভাবে আক্রমণের কোন পরিকল্পনা বিচার করে দেখছে না. সেই অনুসারে সিরিয়ার বিরুদ্ধে তুরস্কও কোনও সামরিক যুদ্ধ আসন্ন ভবিষ্যতে শুরু করতে যাবে না”.

একই সময়ে কিছু বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলেছেন যে, তুরস্ক এরই মধ্যে বাস্তবে সিরিয়াতে অনুপ্রবেশ শুরু করেছে. তুরস্কের সামরিক বাহিনী, এবারে আঙ্কারা থেকে পার্লামেন্টের অনুমতি পেয়ে সিরিয়ার এলাকায় নিয়মিত ভাবে গোলা বর্ষণ করছে. এটা খুবই সেই “বাফার জোন” তৈরী করার ধারণার সঙ্গে মিলে যায়, যা প্রসঙ্গতঃ, এই “উড়ান বিহীণ এলাকা” তৈরী করার ধান্ধার সঙ্গেও খাপ খায়.

জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো মনে করেন যে, “তুরস্ক আরও বেশী করেই সিরিয়ার ঘটনার সঙ্গে লিপ্ত হচ্ছে”, তিনি তাই বলেছেন:

“যে কোন দেশই, এই ক্ষেত্রে যেমন সিরিয়া, নিজেদের এলাকার মধ্যে থাকা আকাশ পথকে নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করতে পারে. আর তাদের যে এটা করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক নিয়ম বিরুদ্ধ. তুরস্ক সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা খুব সম্ভবতঃ এই যে, তাদের পক্ষ থেকে সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় সিরিয়ার বিমান বাহিনীর জন্য উড়ান বিহীণ এলাকা তৈরী করার চেষ্টা সেই জন্যেই করা হচ্ছে যেহেতু সেখানেই সেই সমস্ত জঙ্গীদের প্রধান সব ক্যাম্প রয়েছে, যারা বাশার আসাদের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে”.

তুরস্কের নেতৃত্বের ঘোষণার পরে বাস্তবে কিছু করাও হতে পারে বলে ইগর করোতচেঙ্কো মনে করেন, তিনি তাই বলেছেন:

“তুরস্ক বাস্তবে সিরিয়ার উপরে উড়ান বিহীণ এলাকা বানাতে চাইছে অবশ্যই ন্যাটো জোটের শক্তির উপরেই নির্ভর করে. আর এটা খুব সম্ভব যে, সিরিয়ার বিমানের জন্য এই উড়ান বিহীণ এলাকা পরে বাড়ানো হতেই পারে”.

এটা জানা রয়েছে যে, তুরস্কের সেনা বাহিনী গত দেড় বছর ধরেই দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় যুযুধান অবস্থায় তৈরী আছে. কিন্তু সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করা তুরস্কের মন্ত্রীসভার জন্য খুবই ঝুঁকি পূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারত, কারণ, শেষ নেওয়া জনমতের ভিত্তিতে তুরস্কের বেশীর ভাগ জনতাই প্রতিবেশী দেশে সামরিক ঝুঁকি পূর্ণ কাজের বিপক্ষে.