এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির আবহাওয়া সংক্রান্ত সম্মেলন সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হয়েছে. তা কৃষির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যকে জানা ও ব্যবহার নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে. প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানী এসেছেন এখানে বিশ্বের নানা দেশ থেকে, তাঁদের মধ্যে আছেন ভারতবর্ষ, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ইত্যাদি দেশ থেকেও আসা বিজ্ঞানীরা. তাঁরা সকলে মিলে আলোচনা করছেন কি করে আবহাওয়া বিজ্ঞান খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে সাহায্য করতে পারে.

আবহাওয়া যে বদলে যাচ্ছে – এটা তো বিতর্কের উর্দ্ধে. আর এই প্রক্রিয়া দেখাই যাচ্ছে যে, চলতেই থাকবে. যেমন, রাশিয়াতে বিজ্ঞানীদের কথামতো, খুবই বেশী করে সম্ভব যে, বছর কুড়ি বাদেই কমলা লেবুর গাছ জায়গা নেবে গমের ক্ষেতের. কৃষি কাজের বিকাশের জন্য প্রকৃতির সমস্ত চমক খুবই বড় নীতিগত সংজ্ঞা বহন করে. বিজ্ঞানের কাজই হল যে, আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী একটা পূর্বাভাস দেওয়া. আজ বিজ্ঞান ও কৃষি উত্পাদকদের সম্পর্ক তৈরী হয়েছে সেই নীতি অনুযায়ী বোকা প্রশ্ন ও মূল্যহীণ উত্তর দিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে এই আবহাওয়া সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী রাশিয়ার প্রধান ভূ- পদার্থবিদ্যা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির কাত্সভ বলেছেন যে, একদিকে আবহাওয়া নিয়ে তথ্যের গ্রাহকদের প্রায়ই যথেষ্ট শিক্ষা তাকে না, যাতে তাঁরা সঠিক ভাবে প্রশ্ন তুলতে পারেন, আর অন্য দিকে বিজ্ঞানীদের উত্তরও যথেষ্ট বিমূর্ত হয়ে থাকে অথবা অবোধ্য হয়, তাই কাত্সভ আরও যোগ করে বলেছেন:

“যেমন বিজ্ঞান বলে: আপনার এলাকায় তাপমাত্রা বাড়বে গড়ে দুই ডিগ্রী. গ্রাহক প্রশ্ন করেন, এর মানে কি? অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণাম এড়ানোর জন্য খরচ কত হবে? এখানে আবহাওয়া বিজ্ঞান আর কিছুই বলতে পারে না, কারণ তাঁরা অর্থনৈতিক কোন মূল্যায়ন করে দিতে পারেন না. সঠিক পথ হল – এই গ্রাহক ও আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্যের উত্পাদকদের মধ্যে যোগাযোগ, আলোচনা ও একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার ব্যবস্থাকে একটা কাঠামোর মধ্যে ফেলতে হবে. কথা বলতে শিখতে হবে একই ভাষায়”.

যাতে কৃষি ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে ঝুঁকির হিসাব করা যায়, তার জন্য দরকার হবে চরম সব ঘটনা ও ব্যতিক্রমী আবহাওয়া কি করে পাল্টে যাচ্ছে প্রত্যেক বছরের সঙ্গেই, তারও একটা হিসাব কর, তাই ভ্লাদিমির কাত্সভ বলেছেন:

“এই গুলি খুবই সিরিয়াস বিষয়, যা বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত, কোন এক ধরনের কৃষি পণ্যের জায়গায় অন্য রকমের পণ্যের চাষ করা. বলা যাক, যেমন, সেই সমস্ত জায়গায় আরও বেশী খরা সহ্য করতে পারে এমন কৃষি পণ্যের চাষ করা দরকার, যেখানে খরা প্রবণতা বাড়ছে. অথবা, যেমন, কোন জায়গায়, যেখানে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে, সেখানে আরও বেশী করেই এখনকার চেয়ে উষ্ণ আবহাওয়া ভালবাসে এমন উদ্ভিদ লাগানো দরকার. এটা স্ট্র্যাটেজি করে পরিকল্পনা করার বিষয়, যা সেই সমস্ত লোককে স্পর্শ করে, যাঁরা রাজনৈতিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, যাঁরা আঞ্চলিক ও বিভিন্ন শিল্পের বিকাশের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন”.

সেই ২০০৯ সালেই আবহাওয়াবিদরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তথাকথিত বিশ্বজোড়া আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিষেবা ব্যবস্থা তৈরী করার. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার আবহাওয়া নিয়ে সম্মেলন সেই জন্যই একটা আলোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার মঞ্চ হওয়া উচিত্. এখানে মুখ্য হল যে, সমস্ত কিছুই করা যাতে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা কোন রকমের প্রাকৃতিক বিপর্যয় নষ্ট করতে না পারে, এই বিষয়ে সমস্ত অংশগ্রহণকারীরাই একমত হয়েছেন.