মস্কো ও সেন্ট-পিটার্সবার্গের মোটামুটি মাঝখানে অবস্থিত স্তারায়া রুসসা নামক গঞ্জে দ্বিতীয়বার ‘প্রাচীন রুশের বাগান’ নামক আন্তর্জাতিক মেলা হয়ে গেল. সেখানে যোগ দিয়েছিল রাশিয়া ও বেলোরুশের কৃষিবিদরা. যোগদানের মুল শর্ত ছিল আপেল সম্পর্কে.

সংগঠকেরা জানাচ্ছে, যে সব পণ্যদ্রব্যই মোটামুটি আপেলের সাথে সম্পর্কিত ছিল গতবছরের মতোই. এখানে বিস্মিত হওয়ার কোনো কারণ নেই, রাশিয়ায় আপেল হল মুখ্য ফল. এমনকি রুপকথাতেও এর উল্লেখ রয়েছে, কোনো এক ধরনের আপেল খেয়ে মানুষ নাকি যুবন্ত হয়ে উঠতো.

এখন শরত্কালে রাশিয়ার সর্বত্র লোকে আপেল বিক্রি করছে, যা তারা নিজের হাতে ফলিয়েছে. রাশিয়ায় প্রথম আপেলের বাগিচা গজায় একবিংশ শতকে. চতুর্দশ শতাব্দীতেই রাশিয়ায় আপেলের ছড়াছড়ি ছিল. আপেলের বড় বড় সব বাগিচা মুলতঃ সাজানো হয়েছিল ১৯-২০ শতাব্দীতে. আজকের দিনে রাশিয়ায় সর্বত্র আপেল ফলে, যেখানে শীতের প্রভাব খুব প্রবল নয়.

রাশিয়ানদের ফল খাওয়ার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই আপেল. চিকিত্সকদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী দেশের প্রত্যেক বাসিন্দা বছরে ১৫-২০ কিলো আপেল উদরস্থ করে. তবে এত বাগিচা থাকা সত্বেও রাশিয়া সবচেয়ে বড় আমদানীকারক. কেনা হয় পোল্যান্ড, চীন, ফ্রান্স থেকে.

তবে ‘তোচকা রোস্তা’ নামক গবেষণাকেন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শীতকালে অধিকাংশ মস্কোবাসী রাশিয়ান আপেল খেতে পছন্দ করে. মনে করা হয় যে ঐ সব আপেল বেশি সুস্বাদু, তাজা ও প্রকৃতিগতভাবে নির্মল. আমদানীকৃত আপেলের তুলনায় স্থানীয় আপেলের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে সরবরাহ করার দরকার নেই, দীর্ঘদিন গুদামে মজুত করে রাখার প্রয়োজন নেই, ওদের মধ্যে কোনোরকম রাসায়নিক ভেজাল নেই.

তবুও রাশিয়ায় নিজস্ব ফলের বাগিচার ঘাটতি. বিশেষজ্ঞদের মতে বাগিচা পালন ঝুঁকির কাজ. এ দেশে ঠান্ডা জলবায়ু, কঠোর শীতকাল শুধুমাত্র আগামী মরসুমের ফলই নয়, গোটা বাগিচাকেই নস্যাত করে দিতে পারে. মাঝেমধ্যেই গোটা বাগিচা ঠান্ডায় নস্যাত হয়ে যায়.

বিগত ২০ বছরে রাশিয়ায় বড় বড় অনেক ফলের বাগিচা গজিয়ে উঠেছে. স্তারায়া রুসসা গঞ্জে আয়োজিত মেলা ছিল কৃষিবিদদের মদত দেওয়ার জন্য. সেখানে দেশের সেরামানের সব চারাগাছ বন্টণ করা হয়েছে. ঐ এলাকায় গত ২ বছর ধরে তীব্রহারে কৃষিচর্চা করা হচ্ছে. প্রত্যেক বছরের সাথে সাথে ওখানে ফুলবাগিচার ভুখন্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে.