“উত্তরের প্রবাহ” সম্পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে শুরু করছে. এবারে দ্বিতীয় পাইপ লাইন কাজ করতে শুরু করেছে. বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পকে ইউরোপের একটি সবচেয়ে সফল প্রকল্প বলে অভিহিত করেছেন ও আরও বলেছেন যে, তার নির্মাণ কাজ আরও চলা উচিত্.

“উত্তর প্রবাহ” প্রকল্প তৈরী করা হয়েছে রেকর্ড কম সময়ে. ২০০৫ সালে এই গ্যাস পরিবহন পাইপ লাইন তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সংগঠন শেষ অবধি তৈরী হতে পেরেছিল শুধু ২০১০ সালেই. তার হলেন রাশিয়ার “গাজপ্রম” সংস্থা শতকরা ৫১ ভাগ শেয়ার, বাকী অংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে জার্মানী, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের কোম্পানীরা. ২০১১ সালের নভেম্বরে কাজ করতে শুরু করেছিল “উত্তর প্রবাহের” প্রথম পাইপ লাইন, যা রাশিয়ার ভিবোর্গ শহরের সঙ্গে জার্মানীর গ্রাইফস্ভালড শহরকে জুড়েছিল. এবারে এই পাইপ লাইনের সমান্তরাল ভাবে পাতা আরও একটি পাইপে গ্যাস যেতে শুরু করেছে. দ্বিতীয় শাখার উদ্বোধন সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় সঙ্ঘের জন্য এই প্রকল্পের খুবই বড় অর্থ নিয়ে এবং রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিকাশের বিষয়ে, তিনি বলেছেন:

““উত্তর প্রবাহ” ইউরোপের জ্বালানী বিষয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে পূরণ করতে সক্ষম. গ্যাস পাঠানো হবে সরাসরি, সবচেয়ে ছোট দূরত্বের পথে, রাশিয়ার বৃহত্তম গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্র গুলির সঙ্গে ইউরোপের বাজারকে জুড়ে দিয়ে, কোন রকমের ট্রানজিট পথকে এড়িয়ে – স্থিতিশীল ও অব্যাহত ভাবেই. এটার গ্যারান্টি আমরা দিচ্ছি. রাশিয়া ইউরোপীয় বাজারে নির্ভর যোগ্য ও পূর্বানুমান যোগ্য সহযোগী হিসাবে সব সময়েই অন্যদের জন্য নিজেদের দায়িত্ব পুরোপুরি ভাবে পালন করেছে ও তা করবে. আমরা আশা করব যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘও “উত্তর প্রবাহের” ক্ষমতাকে উচিত ভাবেই ব্যবহার করবে”.

এই ঘটনাকে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সেই সমস্ত দেশের নেতারা, যাঁরা এই প্রকল্পে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা এড়িয়ে যেতে পারেন নি. রাশিয়া ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে “উত্তর প্রবাহের” সুদূর প্রসারিত সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করে জার্মানীর চ্যানসেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন:

“আজ আমাদের সময়ে একটি জ্বালানী পরিকাঠামো বিষয়ে বৃহত্তম প্রকল্প তার সাফল্যের দোড়গোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে. এবারে “উত্তর প্রবাহ” গ্যাস পাইপ লাইনের দ্বিতীয় পাইপটি কার্যকরী হওয়াতে দেখা যাচ্ছে যে, রাশিয়া ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে খুবই শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে. আমাদের দীর্ঘস্থায়ী ও সমানাধিকার সম্পন্ন সহযোগিতা দুই পক্ষের জন্যই স্পষ্ট দেখতে পাওয়ার মতো উপকার নিয়ে এসেছে: ইউরোপ জ্বালানী সরবরাহের বিষয়ে খুবই নির্ভর যোগ্যতা পেয়েছে. রাশিয়া আবার নিজের দিকে পেয়েছে স্থিতিশীল চাহিদা”.

ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সুয়া ওল্লান্দ এই প্রকল্পের পরিবেশ বান্ধব বিষয় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন:

“এই ১২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপ লাইন পাতার কাজ হয়েছে সবচেয়ে উচ্চ স্তরের প্রযুক্তিগত শর্ত মেনেই, তার মধ্যে পরিবেশের দাবীও ছিল. “নর্ড স্ট্রীম” একই সঙ্গে ইউরোপের জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়েছে, গ্যাস পরিবহনের বিষয়ে পথের বৈচিত্র এনে”.

সবচেয়ে বড় কথা হল যে, “উত্তর প্রবাহের” স্রষ্টা কোম্পানী গুলি তাঁদের এই সাফল্যের পরেই খামতি দিতে রাজী নন, তাঁরা এর মধ্যেই যাচাই করে দেখছেন গ্যাস পাইপ লাইন আরও দীর্ঘ করার উপায়, আরও দুটি পাইপ লাইন বানিয়ে, যার একটি যাবে গ্রেট ব্রিটেনে. এটা খুবই লাভজনক প্রকল্প হবে সকলের জন্যই, এই রকম মনে করে জাতীয় জ্বালানী নিরাপত্তা তহবিলের জেনারেল ডিরেক্টর কনস্তানতিন সিমোনভ বলেছেন:

“ব্রিটেনের বাজারে গাজপ্রম বিগত কিছু বছর ধরে নিজেদের খুব একটা খারাপ অনুভব করছে না. সেখানে গাজপ্রম মার্কেটিং অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানী রয়েছে. যদি পাইপ লাইন তৈরী করা হয়, তবে এটা বাড়তি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সুবিধা করে দেবে, আর রাশিয়ার গ্যাস অন্যান্য উত্পাদকদের সঙ্গে ব্রিটেনের বাজারে খুবই সফল প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে, যেমন নরওয়ের সঙ্গে”.

“উত্তর প্রবাহের” জন্য শেষ পরীক্ষা হবে এই বছরের শীত কাল. রাশিয়ার “গাজপ্রম” সংস্থায় বিশ্বাস করা হয় যে, কোন রকমের সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যা হবে না. এই নতুন পাইপ লাইন দিয়ে বছরে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস পাঠানো যাবে.