রাশিয়াতে অলিম্পিকের আগুন বৈকাল হ্রদের গভীরে, ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এলব্রুসের চূড়ায়, উত্তর মেরুতে ও এমনকি মহাকাশেও পরিক্রমা করবে. আগামী বছরের ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হবে অলিম্পিকের এক মুখ্য প্রতীকের রিলে দৌড়. সোচী – ২০১৪ আয়োজক কমিটি আশ্বাস দিয়েছে যে, এটি হবে অলিম্পিক আন্দোলনের সমস্ত সময়কালের মধ্যে সবচেয়ে প্রসারিত রিলে দৌড়.

এই রিলে দৌড়ে প্রায় সব রাশিয়ার লোকই অংশ নিতে পারেন. দেশের প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ জনগনই এই অলিম্পিকের মশাল যাওয়ার পথের থেকে মাত্র ১ ঘন্টার দূরত্বের মধ্যেই থাকবেন, এটা প্রায় ১৩ কোটি মানুষ. এটা হবে অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম মশাল বয়ে নিয়ে যাওয়ার দৌড়. প্রাথমিক ভাবে আয়োজকরা চেয়েছেন রাশিয়ার সবচেয়ে আগ্রহ জনক কোণ গুলির দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, এই কথা উল্লেখ করে সোচী -২০১৪ আয়োজন কমিটির প্রধান দিমিত্রি চেরনীশেঙ্কো বলেছেন:

“পশ্চিমের কালিনিনগ্রাদ থেকে সুদূর পূর্বের ভ্লাদিভস্তক, আমাদের এই প্রকাণ্ড জন্মভূমির ৯টি আলাদা ঘন্টার সমস্ত এলাকা দিয়েই এই রিলে দৌড় করে আমাদের এক খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও দায়িত্ব পূর্ণ মিশন করতে হবে...আমরা নতুন করে রাশিয়ার বহু রকমের রূপ ও সৌন্দর্যকে খুলে ধরবো...আমরা রাশিয়ার প্রতিটি রাজ্যকেই সুযোগ দিতে চাই নিজেদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার প্রদর্শনের, নিজেদের সন্দেহাতীত সাফল্য দেখানোর, আর রাশিয়ার প্রত্যেক অধিবাসীকেই অনুভব করতে সুযোগ দিতে সোচী অলিম্পিক প্রতিযোগিতার অংশীদার হওয়ার”.

এই মশাল দৌড়ের জন্য ১৪০০০ মানুষ অংশ নেবেন. গড়ে এঁরা প্রত্যেকেই ২০০- ৩০০ মিটার মশাল হাতে দৌড়বেন.

রাশিয়াতে এই আগুন ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করবে. আয়োজকরা বলেছেন যে, তাদের পথে পড়বে রেকর্ড উচ্চতা ও সবচেয়ে গভীর জলাশয়. আবার খুবই চরম তাপমাত্রা সহ অঞ্চল. তাই দিমিত্রি চেরনীশেঙ্কো বলেছেন:

“এই আগুন সবচেয়ে গভীর জলাশয় বৈকালের নীচে যাবে, ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এলব্রুসের চূড়ায়, এমনকি উত্তর মেরুতেও যাবে. সবচেয়ে আশ্চর্য কাণ্ড হবে মহাকাশেও পাঠানো. যদি আমাদের রসকসমস সংস্থার সঙ্গে সমস্ত কিছু সম্ভব হয় করা. আপাততঃ সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে. অবশ্যই মহাকাশ – খুবই জটিল কাজ কর্মের জায়গা”.

এই রিলে রেস চলবে ১২৩ দিন ধরে ও সব মিলিয়ে ২৯০০ জনপদ রাশিয়ার ৮৩ টি রাজ্যের সর্বত্র জুড়েই যাবে. এই অনুষ্ঠানকে সহায়তা করবে সারা দেশ জুড়ে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক. সোচীর শীত অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির সভাপতি দিমিত্রি চেরনীশেঙ্কোর কথায়, অলিম্পিকের আগুনের রিলে রেস অলিম্পিকের প্রতিযোগিতার চেয়ে কম উত্তেজনার বিষয় নয়. আর এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই – প্রত্যেক দিন তো আর রাশিয়ার শহর ও গ্রামের সারা বিশ্বকে নিজেদের দেখানোর সুযোগ হয় না.