সেন্ট পিটার্সবার্গে অভিবাসিত লোকদের বাচ্চাদের রুশ ভাষা পড়ানো হচ্ছে আর তার সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে রুশ সংস্কৃতির সঙ্গেও. এর ফলে তাদের সেন্ট পিটার্সবার্গের স্কুলে ভর্তি হতে সুবিধা হবে, পড়াশোনার প্রক্রিয়ায় ও সামাজিক সমাকলন সুবিধাজনক হবে, আর তারই সঙ্গে নিজেদের সমবয়সীদের সঙ্গে কথাবার্তার ক্ষেত্রে বুঝতেও সুবিধা হবে. যখন বাবা মায়েরা কাজে যাচ্ছেন, বাচ্চারা অক্ষর পরিচয় করছে ও তাদের জন্য অপরিচিত দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে.

এই দেশে চলে আসা ছোটদের স্বেচ্ছাসেবকরা বিনা মূল্যেই পড়াচ্ছেন. তারা এদের সঙ্গে একসাথে রুশী প্রবচন শিখছে, গান আর কবিতাও শিখছে. আর এই সব ছাড়া বাচ্চাদের আঁকা, অ্যাপ্লিকার কাজ শেখানো, প্লাস্টিলিন দিয়ে মূর্তি বানানো শেখানো হচ্ছে. স্বেচ্ছায় যারা এই সব শেখাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছে – ভাষাবিদ, উচ্চারণ বিশেষজ্ঞ, আর একই সাথে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা রয়েছে. তারা সকলেই এক জায়গায় হয়েছেন, একটাই ইচ্ছা নিয়ে – যাতে তাদের শহরে রোজগারের আশায় আসা অভিবাসিত লোকদের বাচ্চারা সেই সব বিষয়ে জানতে পারে, যা এই শহরের আদি বাসিন্দারা জানেন ও সকলের সাথে সহজে রুশ ভাষায় কথা বলতে পারে.

পড়াশোনা শেখানোর প্রকল্প “পিটার্সবার্গের বাচ্চারা” শুরু হয়েছিল একটা ইন্টারনেট সমাজ হিসাবে. কিন্তু আজ, ভার্চুয়াল স্পেসের বদলে সত্যিকারের পড়াশোনা শেখানোর ক্লাস হচ্ছে. পড়ানো হয় শহরের এক লাইব্রেরীতে, এর জন্য কোন রকমের বইপত্রের দরকার নেই, কারণ বেশীর ভাগ বাচ্চাই পড়তে, লিখতে জানে না, এমনকি একেবারে সাধারন কথাও রুশী ভাষায় সঠিক ভাবে উচ্চারণ করে বলতে পারে না. তাই স্বেচ্ছাসেবকরা নিজেরাই এদের জন্য নানা রকমের খেলার মাধ্যমে পড়ানোর কায়দা তৈরী করেছে: রুশ ভাষা খেলাধূলার মাধ্যমে ছেলেমেয়েরা শেখে, প্রতিযোগিতা ও এমনকি নাটকের মতো উপস্থাপনার মাধ্যমেও শেখানো হয়. দেশের আর শহরের ইতিহাস আর সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করানোর জন্য তাদের জন্য শহরের সেরা জাদুঘর গুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়. ছেলেমেয়েরা এর মধ্যেই সেই গুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত গুলিতে গিয়েছে: হারমিটেজ মিউজিয়াম, রুশ জাদুঘরে, বোটানিক্যাল গার্ডনে, প্রত্নত্বত্ত্ব জাদুঘরে.

এই পড়াশোনা শেখানোর প্রকল্পের লক্ষ্য হল বাচ্চাদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার মতো করে তৈরী করে দেওয়া. আর সেখানে ভাষা নিয়ে অভ্যাসের বিষয় থাকবে অনেক. এই কেন্দ্রের এক প্রথম পড়ুয়া সাত বছরের রোমা – ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষা সাফল্যের সঙ্গেই পার হয়েছে. সে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কবিতা শুনিয়েছে, দেখিয়েছে, সে কেমন পড়তে আর অঙ্ক করতে পারে. স্কুলে তাকে নেওয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্নই ওঠে নি. তার ওপরে আবার পিটার্সবার্গের এই স্কুলে সব সময়েই অন্য দেশ থেকে আসা লোকদের ছেলেমেয়েদের সানন্দে নেওয়া হয়ে থাকে. এখানে প্রতি দশটি ছেলেমেয়ের একটি বিদেশী. নিজেদের মধ্যে একে অপরকে বোঝার অভাব এখানে কখনও হয় নি. স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন যে, তিনি একেবারেই বিদেশী বাচ্চাদের জন্য আলাদা করে অন্য স্কুলে পড়তে দেওয়ার বিরুদ্ধে. রাশিয়ার যে কোন শহরে থাকতে হলেই সেখানের লোকজনের সঙ্গে সমাকলনের প্রয়োজন, সেই পরিবেশেই মিশে যেতে হবে, যা সম্ভব শুধু এই ভাষা ভাষী লোকদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা দিয়েই. এটা শুধু বাচ্চাদের জন্যই নয়, তাদের বাবা মায়ের জন্যও প্রযোজ্য. রাশিয়ার অন্যান্য শহরের মত সেন্ট পিটার্সবার্গেও বহু সংখ্যায় বিদেশ থেকে লোকজন কাজ করতে আসার ফলে এখানে বিদেশীদের জন্য রুশ ভাষা শেখার অনেক কোর্স খোলা হয়েছে.