চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার সংকট যা পরিণত নিয়েছে তুরস্কের সাথে পূর্ণ সামরিক সংঘাতে. বুধবার তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় আকচকালে শহরের ওপর সিরীয় বাহিনীর মর্টারের গোলা বিস্ফোরণে ৫ জন নিহত ও ৯ থেকে ১৩ জনের মত তুর্কী নাগরিক আহত হয়েছেন. প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়ার অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলা বর্ষণ করে তুর্কী বাহিনী. শনিবার ভোরে পুনরায় সিরয়া-তুরস্ক সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে. তুরস্কের সীমান্তবর্তী প্রদেশ হাতাইয়ে সিরীয় বাহিনীর নিক্ষেপ করা মর্টারের গোলা আঘাত হানে. তুরস্কের পক্ষ থেকেও পাল্টা হামলা চালানো হয়.

এদিকে তুর্কী প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তাইপ ন্যাটোর মিত্রজোটকে এ ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবী জানান. সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এ অঞ্চলে তুরস্ক শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়. আমরা জানি, যুদ্ধের পরিনাম কি ভয়াবহ হয়ে থাকে. তবে তুরস্ক অবশ্যই নিজের নাগরিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা রক্ষা করবে. সিরিয়ার সরকার বলছে যে, আকচকালের ঘটনাকে দুঃখজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে. তবে একই ঘটনা আবার ঘটেছে হাতাই প্রদেশে. এটা কোন ধরণের দুর্ঘটনা যা এক দিন পরপর ঘটছে. আমাদের প্রতিটি মিত্র দেশগুলোকে এ পরিস্থিতিকে গুরুত্ব সহকারে মনোযোগ আকর্ষণের আহবান জানাচ্ছি”.

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তুর্কী ভূখণ্ডে সিরীয় বাহিনীর মর্টার হামলা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং সেই সাথে দামাস্কাসকে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ না কারার ও প্রতিবেশী দেশের স্বার্বভৌমকে সম্মান জানানার আহবান জানিয়েছে. ন্যাটো পরিষদের পক্ষ থেকেও অনুরূপ বিবৃতি দেওয়া হয়. যাতে আংকারার বিরুদ্ধে সব ধরণের আগ্রাসনী কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ করতে সিরিয়ার কাছে দাবী জানায়. মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ার অপেক্ষায় না থেকে তুরস্ক নিজেই যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে. দুদেশের সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পটভূমিতে তুরস্কের পার্লামেন্ট সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছে. এ বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন স্ট্রাটেজিক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আজদার কুরতোভ. তিনি বলেন, “তুর্কী প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে তাতে নিজেদের স্বার্থের কথাই বলা হয়েছে. এটি শুধুমাত্র সামরিক পটচিত্র নয় বরং সামরিক বাহিনীর প্রতি রাজনৈতিক নির্দেশ. প্রয়োজন হল সিরীয় ভূখণ্ডে হামলা চালানো হতে পারে. তাহলে এটি কি যুদ্ধ নয়. যদিও তুর্কী সামরিক অফিসার ও রাজনীতিবিদরা যুদ্ধ শুরু আগে অন্তত ১০ বার চিন্তা করছেন”.

যদিও দামাস্কাসের পক্ষ থেকে বুধবারের ওই ঘটনার পর দুঃখ ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে তার আশ্বাস দেওয়া হয়. কিন্তু এর বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন কাজ. সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিচ্ছিন্নবাদীরা অনেক সক্রিয়. সেই সাথে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন যে জঙ্গীরা তুর্কী সীমান্তে হামলা করে যুদ্ধ শুরু করার জন্য উসকানি দিতে পারে.

ওদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় জানিয়েছে, দুই দেশের সীমান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠ সমাধানের জন্য উভয় দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করা দরকার. ওই অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য মস্কো প্রয়োজনীয় সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. তবে দামাস্কাসের সাথে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশংকা করছে আংকারা ও ন্যাটো. শুধুমাত্র জাতিসংঘের অনুমোদন পাওয়াই নয় বরং সিরিয়ার আর্মি অনেক বেশী চৌকশ ও ভাল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত. এমন মতামত জানালেন মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেরগেই সেরিওগিচেভ. তিনি বলেন, “তুরস্কের প্রতি ওয়াশিংটন ও ন্যাটোভুক্ত শীর্ষ দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক সমর্থন নেই. তাছাড়া তুর্কীরা আশংকা করছে যে, নিজেরাই যদি যুদ্ধ শুরু করে তাহলে কুর্দি সমস্যা আবারও শুরু হতে পারে. সিরীয় সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অস্ত্র দিয়ে কুর্দিদের সাহায্য করবে”.

চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে. আলেপ্পোর প্রানকেন্দ্রে সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জনের নিহত ও ৯০ জন আহত হয়. নিহতদের মধ্যে রয়েছে সামরিক ও বেসামরিক মানুষ.