রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর তুরস্কের এলাকায় গোলা বর্ষণের সমালোচনা করেছে, যার ফলে শান্তিপ্রিয় জনগনের মৃত্যু হয়েছে. বৃহস্পতিবারে নেওয়া এক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা পরিষদ দাবী করেছে যাতে এই ধরনের নিয়মভঙ্গ অবিলম্বে বন্ধ করা হয় ও তা ভবিষ্যতে আর কখনও না হয়. পরিষদ একই সঙ্গে সিরিয়াকে প্রতিবেশী দেশ গুলির সার্বভৌমত্ব মর্যাদা দিতে বলেছে.

দামাস্কাস এই ঘটনা খুঁটিয়ে তদন্ত করছে. এই কথা রাষ্ট্রসঙ্ঘে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বাশার জাফরি সমর্থন করেছেন. দামাস্কাস তুরস্কের এলাকায় গোলা বর্ষণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে. তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বেশির আলাতাই যেমন বলেছেন যে, সিরিয়ার পক্ষ থেকে নিজেদের উপরে এই ঘটনার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে ও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনা আর কখনও ঘটবে না.

বৃহস্পতিবারে সন্ধ্যায় তুরস্কের পার্লামেন্ট দেশের প্রশাসনকে নিজেদের দেশের বাইরে সামরিক অপারেশন করার অনুমতি দিয়েছে, যদি মন্ত্রীসভা তা প্রয়োজনীয় বলে মনে করে. এটা, তার মধ্যে আবার সিরিয়া সম্পর্কেও নেওয়া হয়েছে. এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় দুই দিন ধরে তুরস্কের সেনা বাহিনী সিরিয়া সেই সমস্ত এলাকায় প্রত্যুত্তরে গোলা বর্ষণ করেছে, যেখান থেকে তুরস্কের শহর আকচাকাল আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে.

এখানে এই রকম হতে দেওয়া যেতে পারে না যে, সীমান্ত এলাকায় ঘটা ঘটনা, বিরোধের আগুনকে আরও উস্কে দিক, - এই কথা নিজের টুইটারের ব্লগে লিখেছেন রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ. নিকট প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি মনে করেন যে, কূটনীতিবিদের এই কথা কোনও ফাঁকা আওয়াজ নয়, তিনি বলেছেন:

“সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক ঘটনা যুদ্ধের কারণ হতে পারে. এটা কি সিরিয়ার প্রয়োজন রয়েছে? অবশ্যই নয়. এটা কি তুরস্কের দরকার আছে? খুব সম্ভবতঃ না. ন্যাটো জোটের শক্তি এই ক্ষেত্রে তুরস্ক – সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ হলে টেনে আনা হবে না. এটা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া গিয়েছে সেই বৈঠকের পরিনাম থেকে যা, ঘটনার অব্যবহিত পরেই হয়েছিল . ন্যাটো জোটের এর জন্য না রয়েছে অর্থ, না আছে সামরিক ক্ষমতা, ইচ্ছাও নেই, যদি ন্যাটো জোটের শীর্ষস্থানীয় দেশ গুলির রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইচ্ছার কথা বিবেচনা করা হয়”.

সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা ঠিকঠাক করতে চেষ্টা করছেন সিরিয়া সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের প্রেরিত বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি. এই বিষয়ে বৃহস্পতিবারে নিজের প্রতিনিধিদের দিয়ে জানিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন. তাঁর ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, সিরিয়াতেই পরিস্থিতি আরও বেশী করে জটিল হচ্ছে. অংশতঃ আলেপ্পো শহরে বিস্ফোরণের জন্যই.

সিরিয়া এই প্রাচীন শহরে আত্মঘাতী সন্ত্রাসবাদীরা কয়েকটি গাড়ী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে. যার ফলে তিরিশ জন সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন. দামাস্কাস দাবী করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে. এই বিষয়ে স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মন্তব্য করে বলেছেন:

“দামাস্কাসে সন্ত্রাসবাদী ঘটনা ও আলেপ্পো শহরে এই ধরনের ঘটনার পরে এমনকি পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম গুলিও ভাবতে শুরু করেছে সেই বিষয় নিয়ে যে, সিরিয়ার এই জঙ্গীরা কারা, আর তাদের এতটা সমর্থন করার কি প্রয়োজন রয়েছে. এই প্রসঙ্গে সিরিয়া তথ্য আক্রমণ বাড়াচ্ছে. এই দিক থেকেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার দিক থেকে জোর দেওয়াকে দেখা দরকার. তাদের প্রয়োজন হল, যাতে তাদের অবস্থান যত বেশী করে সম্ভব সকলকে জানানো হয়”.

রাশিয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জন্য এই মর্মে এক ঘোষণার খসড়া তৈরী করে পৌঁছে দিয়েছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদ এই হামলার সমালোচনা করবে. তার উপরে যখন সিরিয়াতে “আল- কায়দার” সঙ্গে জড়িত জঙ্গীরা এই সব অন্তর্ঘাতের জন্য দায়িত্ব নিয়েছে.