বিদেশের গুপ্তচর সংস্থা ও আইন রক্ষী বাহিনীর নেতারা মনে করেন যে, “আল- কায়দার” সঙ্গে সারা বিশ্বে জুড়েই লড়াই করার দরকার রয়েছে. মস্কো শহরে এক সভায় তাঁরা রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন.

এই সংস্থার প্রধান আলেকজান্ডার বোর্তনিকোভ ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে নিজেদের এলাকায় উল্লেখ যোগ্য সাফল্য অর্জন করা.

“আল- কায়দা” গোষ্ঠীর নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ধ্বংস করা সম্ভব হওয়া স্বত্ত্বেও এই নেটওয়ার্ক বেঁচে আছে. আর তা আগের মতই বিশ্ব সমাজের জন্য সত্যিকারের বিপদ, এই রকমই মনে করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবা সংস্থার ডিরেক্টর আলেকজান্ডার বোর্তনিকোভ.

এই ধারণার সঙ্গে সহমত হয়েছেন তাঁর বিদেশের সহকর্মীরাও. জার্মানীর রাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলা পুলিশ সংস্থার প্রধান ইয়র্গা শ্যিরকে বলেছেন:

“এই সমস্যা শুধু জার্মানীর নয়, বরং সারা বিশ্ব সমাজেরই সমস্যা. আর এই সমস্যা হচ্ছে “আল- কায়দা” সংস্থার থেকেই. তারা সারা বিশ্ব জুড়েই যথেষ্ট সংখ্যক নিজেদের শাখা খুলে ফেলেছে, তার মধ্যে ইউরোপেও রয়েছে. আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যার এক বিস্ফোরক মিশ্রণ লক্ষ্য করতে পারছি. বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় চরমপন্থীরা শক্তি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে. জার্মানীও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের একটা লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে”.

এই মতের সঙ্গে একমত হয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা. অতি চরমপন্থী ঐস্লামিক গোষ্ঠীর কাজকর্ম সারা বিশ্ব জোড়া একটা আকার নিয়েছে, এই রকম মনে করে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা কমিটির প্রধান হরদীপ সিংহ পুরী বলেছেন:

“আল- কায়দা” থেকে বের হয়ে আসা হুমকি একেবারেই সত্যিকারের, যদিও তার নেতৃত্বকে ধ্বংস করার বিষয়ে নির্দিষ্ট রকমের সাফল্য ইতিমধ্যেই পাওয়া সম্ভব হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও এই গোষ্ঠীই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ চালু রেখেছে. তারা খুবই সক্রিয় আফগানিস্তানে, প্রতিবেশী অঞ্চল গুলিতে, ইয়েমেনে. তারা একই সঙ্গে অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, যেমন অংশতঃ সোমালিতে “আশ – শাবাব” গোষ্ঠীর সঙ্গে. তাই এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সেই সব অঞ্চলেই হওয়া দরকার, যেখানে আল- কায়দা নিজেদের স্বাধীন ও শাস্তির উর্দ্ধে বলে মনে করতে পারে.

রাশিয়ার জন্যও চরমপন্থী ঐস্লামিক মতবাদের সমস্যা বর্তমান ও বাস্তব. উত্তর ককেশাস এলাকায় নিয়মিত ভাবেই চলছে বেআইনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপারেশন. আলেকজান্ডার বোর্তনিকোভ “রেডিও রাশিয়াকে” ব্যাখ্যা করেছেন যে এই এলাকায় বাস্তবে অতি চরমপন্থী সংস্থার কোনও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব আর প্রায় নেই. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“ককেশাসে আমাদের কাজকর্ম বহু দিন ধরে করার অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে, “আল- কায়দা” গোষ্ঠীর বহু সংখ্যক প্রতিনিধিকে ধ্বংস করা গিয়েছে. এই মুহূর্তে এই গোষ্ঠীর লোকরা গোপন ও গা ঢাকা দেওয়া সমস্ত সশস্ত্র গুণ্ডা দলের জন্য আর্থিক ভাবে সহায়তার কাজ করছে. আমি স্পষ্টই বলতে পারি যে, আমাদের পক্ষে উত্তর ককেশাসে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী কাঠামোর কাজ কর্ম ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে”.

সব মিলিয়ে এই অধিবেশনে বিশ্ব সমাজের পক্ষ থেকে সমস্ত অংশগ্রহণকারীরাই একমত হয়েছেন যে, ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে. খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে পারস্পরিক কাজকর্মের পরিকল্পনা তৈরী করা হবে ও এক সঙ্গে সন্ত্রাসের মোকাবিলায় অভিযান করবে.