ব্যবহারিক জীবন থেকে বহু সংখ্যক ভাষা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে. সব দোষের মূলে – ইন্টারনেটের নীরব সমস্ত যন্ত্র গুলি, যারা সেই গুলি চিনে উঠতে সক্ষম হচ্ছে না. ইউরোপের গবেষণা নেটওয়ার্ক মেটানেট সংস্থার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরবর্তী কালেও এই রকমই যদি চলতে থাকে, তবে বহু ভাষারই অবধারিত ভবিষ্যত হল সাংখ্যিক ভাবে মুছে যাওয়া, অথবা শেষ অবধি মৃত ভাষাতেই পরিণত হওয়া – অন্তত পক্ষে লেখা অবস্থায়. তাদের পক্ষে কোন ভাবেই ইন্টারনেটে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়, কারণ কোন রকমের সফটওয়্যার নেই, যা এই গুলিকে চিনতে সক্ষম, বিশ্লেষণ ও সঠিকভাবে অনুবাদ করতে পারে.

এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী কোন নতুন ব্যাপার নয়. ইন্টার নেট উদয় হওয়ার শুরু থেকেই বই ও ছাপা সংবাদ মাধ্যমের জন্য প্রমাদ গোনা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ তা শুধু বৈদ্যুতিন মাধ্যমেই পড়ছেন না. বেশীর ভাগ মানুষই পছন্দ করেন বাস্তব জীবন, তাদের একেবারেই কোন ব্যাপার মনে হয় না যে, কোন ভাষায় ইন্টারনেটে কথা হচ্ছে.তার ওপরে প্রত্যেক দেশেই মাতৃভাষা সুরক্ষিত হচ্ছে আইন করে, যা হারিয়ে যাওয়ার রাস্তাকে কঠিন করেছে. তাছাড়াও শেষমেষ রয়েছে কথাবার্তার সংস্কৃতি, যা ব্যবহার করা হচ্ছে প্রত্যেক দিনই, এই কথাই বিশেষ করে উল্লেখ করে রাশিয়ার এক অতি বিখ্যাত ভাষাবিদ দিমিত্রি বাক বলেছেন:

“আমি এটাকে মনে করি যথেষ্ট মিথ্যা তথ্য সংক্রান্ত কারণ বলেই, যেহেতু কোন ভাষাই ইন্টারনেটে বাঁচে না. ভাষা বেঁচে থাকে ততদিন পর্যন্ত, যতক্ষণ তা কোন একদল কাছাকাছি থাকা মানুষের মধ্যে নিত্যদিনের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়. শক্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে যাতে ভাষাগুলি ইন্টারনেটেও বাঁচে, কিন্তু প্রধান হল যে, কথাবার্তার, তথ্য সঞ্চারের, প্রশিক্ষণে, সংস্কৃতির অংশ হিসাবে ভাষাকে ব্যবহার করা, যা স্থানীয় লোকজনের ঐক্যকে বজায় রাখে, যারা সেই ভাষাতেই কথা বলে. ইন্টারনেটে ব্যবহৃত ভাষার অনেকটাই - এটা কথ্য ভাষার লিখিত অবস্থায় সংরক্ষণ, তাই আমি এটাতে কোন সমস্যাই দেখতে পাচ্ছি না. ভাষা ইন্টারনেট ছাড়াও রয়েছে, খুব ভাল করেই কথ্য ও লিখিত অবস্থায়, যদি তাতে দলিল দেওয়া নেওয়া চালু থাকে তাহলেই, যদি পড়ানো ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে বই লিখতে তাকে ব্যবহার করা হয়, যদি সেই ভাষায় সাহিত্য থাকে”.

ইন্টারনেট কোন ভাষা মৃত হওয়ার বিষয়ে কোন রকমের সহায়তা করতে পারে না, কারণ তা মোটেও সর্বত্র নেই. বিশ্বের জনসংখ্যার মোটামুটি এক তৃতীয়াংশ বিশ্ব জোড়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন, যা মেটানেট সংস্থার ভবিষ্যদ্বাণী বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশের অবকাশ রাখে – অন্তত পক্ষে বর্তমানের ঐতিহাসিক অধ্যায়ে. তার ওপরে ইন্টারনেট ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীরা নিজেরাই যথেষ্ট আগ্রহী, যাতে ইন্টারনেটে যত বেশী সম্ভব গ্রাহকদের উপযুক্ত পরিষেবা থাকে, তার মধ্যে ভাষা সংক্রান্তও.

সুতরাং ভাষা সংক্রান্ত মহা প্রলয় নিয়ে যতই আমাদের গবেষকরা ভয় দেখাতে চান না কেন, খুবই কম সম্ভব. স্রেফ মেটানেট সংস্থার গবেষণা বিভাগের লেখকরা একটা আর্থিক পুরস্কার পেতে চাইছেন, ভাষা সংরক্ষণের উপযুক্ত কম্পিউটার প্রোগ্রাম বানানোর জন্য. এটা সত্যি যে, সেই ধরনের সফটওয়্যার সমস্ত ভাষার জন্য বানানো – নরম করে বললে – খুব একটা সহজ কাজ নয়.