সিরিয়া ও তুরস্কের সীমানায় পূর্ণ পরিসরের যুদ্ধ শুরু হবে কি ? ৩রা অক্টোবরের সঙ্ঘর্ষ গোটা অঞ্চলে বড় যুদ্ধের অজুহাত হবে না তো ? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করার চেষ্টা করছেন রাজনীতিজ্ঞ এবং রাজনীতি-বিশারদরা.

৩রা অক্টোবর সন্ধ্যায় তুরস্কের দক্ষিণ-পুবে শানলীউরফা প্রদেশের আকচাকালে শহরে সিরিয়ার ভূভাগ থেকে ক্ষেপণ করা কয়েকটি গোলা বিস্ফোরিত হয়. ফলে নিহত হয় পাঁচজন, তাদের মধ্যে ছিলেন এক মা এবং তাঁর তিন শিশু. এটি প্রথম ঘটনা, যখন সিরিয়ার তরফ থেকে গোলা বর্ষণের ফলে তুরস্কের নাগরিক নিহত হয়েছে. প্রত্যুত্তরে তুরস্ক আর্টিলারীর গোলা বর্ষণ করে সেই জায়গার উপর, যেখান থেকে অগ্নি বর্ষণ করা হয়েছিল. তুরস্কের বাহিনী রেডারের সাহায্যে সেই জায়গা নিরূপণ করেছিল, যেখান থেকে গোলা বর্ষণ করা হয়েছিল.

তুর্কী ও মার্কিনী প্রচার মাধ্যম নিশ্চয়োক্তি করছে যে, তুরস্কের ভূভাগে গোলা বর্ষণ করেছিল সিরিয়ার সরকারী বাহিনী, কারণ বিদ্রোহীদের, যারা বাশার আসদের সরকারকে উত্খাত করতে চাইছে, তাদের এমন গোলা বর্ষণের অস্ত্র নেই. তবে, এ কথাটা মোটেই ঠিক নয়. সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে যে, এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে.

সিরিয়া ও তুরস্কের সীমানা ক্রমেই উদ্বেগজনক চরিত্র ধারণ করছে. সকলেই এখন দৃষ্টিপাত করছে ব্রাসেলসে ন্যাটো জোটের সদর দপ্তরের দিকে. জোটে তুরস্কের মিত্রদেশগুলি কিরকম ব্যবহার করবে?

সিরিয়ার তরফ থেকে তুরস্কের ভূভাগে গোলা বর্ষণ এবং তুরস্কের পাল্টা আঘাত বড় যুদ্ধ বাধাবে না. তা মনে করেন রেডিও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ তুর্কী বিশেষজ্ঞ স্তানিস্লাভ তারাসভ :

আমি মনে করি ব্রাসেলস সিরিয়া সঙ্কটে জড়িয়ে পড়বে না. আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে তুরস্কের আবেদন, যাতে অনুরোধ করা হয়েছে “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে” এবং তার ভূভাগে আর্টিলারীর গোলাবর্ষণে প্রতিক্রিয়া দেখাতে, তাকে সিরিয়ার তরফ থেকে “আগ্রাসনী ক্রিয়া” বলে অভিহিত করে, বাস্তবিকপক্ষে এ হল – শাঁখের করাত.

কারণ এ কথা সকলেরই জানা আছে যে, সম্প্রতি কাল পর্যন্ত তুরস্কেরই ভূভাগে ছিল তথাকথিত সিরিয়ার স্বাধীন বাহিনীর সদর দপ্তর, যেখান থেকে সিরিয়ায় বিরোধীপক্ষের সামরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গতি সাধন করা হচ্ছিল, আর সীমান্ত এলাকায় জঙ্গীরা বিশ্রাম নিত, চিকিত্সা পেত এবং নতুন সশস্ত্র ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রস্তুত হত. সেইজন্য দামাস্কাস একাধিকবার আঙ্কারার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীপক্ষকে সাহায্য করার.

উপরন্তু, আন্তর্জাতিক বিধানের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে, সিরিয়া আঙ্কারা-কে দোষ দিতে পারত তার বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সহায়তা করার, এবং প্রতিষেধমূলক আঘাত হানতে পারত বিরোধীপক্ষের ঘাঁটির উপর, যেমন তা করছে খাস তুরস্ক, ইরাকের ভূভাগে কুর্দ শ্রম পার্টির জঙ্গীদের বিরুদ্ধে. কিন্তু তা হচ্ছে না. দামাস্কাস ভাল ভাবেই বোঝে যে, অঞ্চলে এবং তার বাইরে এমন সব শক্তি আছে, যারা সিরীয়-তুর্কী সশস্ত্র সঙ্ঘর্ষ বাধাতে চায়. এ কথা না বললেও চলে যে, সামরিক দিক থেকে সিরিয়ার কোনো তুলনা হয় না তুরস্কের সাথে. তাছাড়া, এ প্রমাণও আছে যে, তুরস্ক পরিস্থিতি আরও তীব্র করে তুলতে চায় না.

রাশিয়া সম্পর্কে বলতে হলে বলব যে, মস্কো সিরিয়া-তুরস্ক সীমানায় এ ঘটনার বাস্তববাদী তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছে. এ সম্বন্ধে ৪ঠা অক্টোবর বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারী প্রতিনিধি আলেক্সান্দর লুকাশেভিচ.

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধির সমস্ত খুঁটিনাটি সম্পূর্ণ বাস্তববাদী ভাবে এবং পূর্ণ মাত্রায় বিশ্লেষণ করা উচিত্. সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত্, যাতে এমন বিপজ্জনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়. মস্কো উভয় পক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে সংযম প্রকাশ করতে, অবশ্যই পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, ভূভাগীয় অখণ্ডতা শ্রদ্ধা করতে”.