জাপান পারমাণবিক শক্তির বিকাশ করবে এবং নতুন নতুন পারমাণবিক রিয়াক্টর তৈরি করবে. এর প্রমাণ হল আওমোরি জেলায় নতুন “ওমা” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নির্মাণ পুনরারম্ভের সিদ্ধান্ত.

অবশ্য এ বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি শূণ্য থেকে শুরু করা হচ্ছে না. এর নির্মাণ প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে. কাজ থামিয়ে রাখা হয়েছিল দেড় বছর আগে “ফুকুসিমা” পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে দুর্ঘটনার জন্য. সেপ্টেম্বরে জাপানের সরকার ঘোষণা করেছিল যে, নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মিত হবে না. তবে শুরু হওয়া নির্মাণ-কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়. সেই সঙ্গে সরকার ২০৩০ সাল নাগাদ পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির উপর দেশের নির্ভরশীলতা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে চান. অথচ চার বছর আগেও জাপানের পারমাণবিক শক্তি এজেন্সি ২০১০ সাল নাগাদ দেশে পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির অংশ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল. তবে এ সব পরিকল্পনা বেকার হয়ে যায়, যখন জোর ভূমিকম্প ও সুনামি “ফুকুসিমা”-র দুর্ঘটনা ঘটায়. নতুন কেন্দ্র তৈরির সিদ্ধান্ত সম্ভবত জড়িত, জনসমাজের চেতনার পরিবর্তন এবং একই সঙ্গে নিছক অর্থনৈতিক চিন্তাধারার সাথে. একটি-কে অন্যটি-র সাথে আলাদা করা যায় না, বলেছেন পারমাণবিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিউট্রনিক ফিজিক্স ল্যাবরেটারির কর্মী সের্গেই দমিত্রিয়েভ :

মানুষ তা-ই করে, যা লাভজনক বলে মনে করে. অবশ্যই, জাপানে পেশাদারী দক্ষতা বেড়েছে, শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জনসাধারণ নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে এসেছে এমন সব প্রকল্পের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে. আর জাপানের পারমাণবিক বিদ্যুত্শক্তির বিকাশ ছাড়া অন্য বিকল্প নেই. সেখানে খনিজ জ্বালানীর ভান্ডার নেই, গ্যাস, তেল, কয়লা নেই. সেইজন্য তারা পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ করতে বাধ্য, তবে, তারা তা করবে আরও নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক ভাবে.

ফুকুসিমা দুর্ঘটনার পরে পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রতি দাবি কঠোর হয়েছে. তবুও আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সির দ্বারা প্রণয়ন করা সকলের জন্য একক নিয়ম, এখনও পর্যন্ত নেই. নিরাপত্তার নতুন মান প্রত্যেক দেশের জন্য পৃথক পৃথক ভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে, সেই সঙ্গে জাপানেও. প্রত্যেক দেশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি এজেন্সি সাধারণ দাবিগুলিই নিয়ন্ত্রণ করে, জোর দিয়ে বলেন সের্গেই দমিত্রিয়েভ :

জাপান এ এজেন্সির অন্তর্ভুক্ত. কিন্তু জাপানীরা সর্বদা যথেষ্ট আত্মবদ্ধ ছিল এবং নিজেদের পারমাণবিক ব্যাপার সম্বন্ধে খুব একটা বলতে চাইত না. তবে, এখন তারা সমনোযোগে এজেন্সির কথা শুনতে বাধ্য হবে এবং বেশি উন্মুক্ত হবে.

জাপানের দুটি “ফুকুসিমা” কেন্দ্র পাশাপাশি অবস্থিত. একটি তৈরি করা হয়েছে নিচু জায়গায়, অন্যটি উপরে. উপরে অবস্থিত কেন্দ্রটি, বলা যায়, প্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় নি. জমির বন্ধুরতা এবং ভৌগোলিক অবস্থান – এসব কিছু বিবেচনায় রাখা দরকার নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সময়, জোর দিয়ে বলেন জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র “কুর্চাতোভ ইনস্টিটিউটের” কর্মী নিকোলাই কুখারকিন :

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি নিয়ম প্রণয়ন করে না, তারা শুধু পরামর্শ দেয়, যা প্রত্যেক দেশ পুরোপুরি বা আংশিকভাবে গ্রহণ করতে পারে, তার সুযোগ সম্ভাবনা অনুযায়ী. এমন পরিস্থিতি ঠিক, কারণ এক আন্তর্জাতিক সংস্থা সকলের জন্য একই নিয়ম নির্ধারণ করতে পারে না.

নতুন কেন্দ্রের অপারেটর-কোম্পানি ইলেকট্রিক পাওয়ার ডেভলপমেন্ট জানিয়েছে যে, এ কেন্দ্র নির্মিত হবে যখন বিশেষজ্ঞরা জাপানের নিরাপত্তার নতুন মানের সাথে তা সুসঙ্গত কি না সে সম্বন্ধে বিশ্বস্ত হওয়ার পরই. সেই সঙ্গে জাপান পুনর্স্থাপনযোগ্য বিদ্যুত্শক্তি ব্যবস্থার বিকাশ সক্রিয়ভাবে করছে এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়াচ্ছে, সেই সঙ্গে রাশিয়া থেকেও. আর এমনকি হনস্যু দ্বীপের উত্তরে শেল-অয়েলের নিষ্কাশনও শুরু করেছে.