তুরস্কের পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার এক আইনের খসড়া আলোচনা করবে, যা তুরস্কের সৈন্যবাহিনীকে সিরিয়ায় অনুপ্রবেশের অনুমতি দেয়, জানিয়েছে তুরস্কের প্রচার মাধ্যম. মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী জরুরী পরামর্শ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেত দউতওগলু, তুরস্কের সৈন্যবাহিনীর সদর দপ্তরের অধিকর্তা নেজেত ওজেল এবং আইন মন্ত্রী সাদুল্লাহ এরগিনের সাথে. প্রায় চার ঘন্টা ব্যাপী এ সাক্ষাতে তাঁরা প্রয়োজনীয় আইনের খসড়া প্রণয়ন করেন. “ডি.পি.এ” সংবাদ এজেন্সি জানিয়েছে যে, তা গৃহীত হতে পারে “তুরস্কের সীমানার বাইরে অভিযান সংক্রান্ত” আইনের সংযোজন হিসেবে, যা তুরস্কের সৈন্যবাহিনীকে, অংশতঃ, উত্তর ইরাকে কুর্দ বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সুযোগ দেয়. গত বুধবার সিরিয়ার ভূভাগ থেকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে আকচাকালে গ্রামে গুলি বর্ষণের ফলে তুরস্কের পাঁচজন নাগরিক নিহত হয়. সিরিয়া সঙ্কট শুরু হওয়ার সময় থেকে তুরস্ক এই প্রথম প্রত্যুত্তরে সিরিয়ার ভূভাগে অগ্নি বর্ষণ করে. ব্রাসেলসে তুরস্কের দাবিতে ন্যাটো পরিষদের জরুরী বৈঠক আহ্বান করা হয়. সাক্ষাতের অংশগ্রহণকারীরা তুরস্কের ভূভাগে সিরিয়ার গুলি বর্ষণের নিন্দে করেন, এবং তাকে “আন্তর্জাতিক আইনের রূঢ় লঙ্ঘন” বলে অভিহিত করেছেন. ন্যাটো জোটের দেশগুলির প্রতিনিধিরা লোকেদের মৃত্যু উপলক্ষে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং একমতে এ গুলি বর্ষণে তুরস্কের তরফ থেকে ভারসাম্যপূর্ণ উত্তর দান সমর্থন করেন, সাংবাদিকদের বলেছেন জোটের এক প্রতিনিধি. তুরস্কের কর্তৃপক্ষ তাছাড়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছেও দাবি করেছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের, যাতে “সিরিয়ার আগ্রাসন থামানো যায়”. ন্যাটো জোটের প্রধান সচিব এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদকও তুরস্ক-সিরিয়া সীমানার ঘটনার নিন্দে করেছেন. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক বান কি মুন সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেশীদের ভূভাগীয় সার্বভৌমত্ব শ্রদ্ধা করার আহ্বান জানিয়েছেন. নিজের তরফ থেকে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং আশ্বাস দিয়েছে যে, নিজস্ব তদন্ত পরিচালনা করবে, তুরস্কের গ্রামে কে গুলি চালিয়েছে তা নির্ধারণের জন্য.