“বিক্রমাদিত্য” বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ সমস্ত রকমের সামুদ্রিক পরীক্ষা ভাল ভাবেই সম্পন্ন করেছে. কিন্তু বাস্পচালিত বয়লারের তাপ নিরোধক ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়াতে ভারতের নৌবাহিনীকে এই জাহাজ দেওয়ার সময়সীমায় বদল হয়েছে, এই বিষয়ে লিখেছেন আমাদের পর্যবেক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

মঙ্গলবারে রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন, যিনি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প বিষয়ে তদারক করে থাকেন, তিনি যেমন এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন যে, সমস্ত রকমের কঠিনতম প্রশ্নগুলি, যা বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” নিয়ে থাকতে পারে, তা রাশিয়া- ভারত শীর্ষ সম্মেলনের আগেই সমাধান করা হবে, এই সম্মেলন হওয়ার কথা নভেম্বর মাসের পুরোভাগে. উপ প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন যে, সমস্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হবে দুটি আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের কাঠামোর মধ্যেই. প্রথমটি – সামরিক- প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে – যা ৪ঠা অক্টোবর দিল্লী শহরে অনুষ্ঠিত হবে. আর ১৫ই অক্টোবর, সেই দিল্লী শহরেই, এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হবে তথাকথিত প্রসারিত ভাবে আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের সভায়. রাশিয়ার ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর সহসভাপতি কনস্তানতিন সিভকভ মনে করেন যে, পরীক্ষার সময়ে হওয়া যান্ত্রিক ত্রুটি যা এই জাহাজে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা সংশোধন করতে বেশী সময় লাগবে না. তিনি বলেছেন:

“জাহাজের ইঞ্জিন ও বয়লার ব্যবস্থা সারিয়ে ফেলা ও তা আবার নতুনের মতো করতে অন্যান্য কাজ গুলির সঙ্গে তুলনায় - একেবারেই কঠিন কিছু নয়. আর আমি উপ প্রধানমন্ত্রী রগোজিনের মতের সঙ্গে সহমত যে, এই কাজ কোন সমস্যা নয়”.

একই সময়ে ভারতীয় পক্ষ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, বিমানবাহী জাহাজ “বিক্রমাদিত্য” সমস্ত রকমের পরীক্ষাই সফল ভাবে পার হতে পেরেছে. সেই রকমেরই প্রোটোকল ভারতের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেছেন ভাইস অ্যাডমিরাল নাদেল্লা নিরঞ্জন কুমার. এই দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাহাজটি খুবই ভাল সমুদ্র যাত্রার ক্ষমতা ও দিক পরিবর্তনের ক্ষমতার প্রদর্শন করেছে. আর তার আধুনিক রেডিও-ইলেকট্রনিক ও নেভিগেশন যন্ত্রপাতি খুবই রসার যোগ্য এবং ফলপ্রসূ হতে পেরেছে, এই কথা উল্লেখ করে সামরিক অস্ত্রের বিশ্ব বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“ভারতীয় নাবিকেরা, যারা এই বিমানবাহী জাহাজে নিয়মিত ভাবে রয়েছে, তারা খুব ভাল করেই মূল্যায়ন করেছে, সেই বিশাল পরিমান কাজকর্মের, যা রাশিয়ার জাহাজ নির্মাতারা এই জাহাজে করেছেন”.

ব্যারেন্ট সাগরে এই জাহাজের পরীক্ষার সময়ে যাঁরা পর্যবেক্ষক ছিলেন সেই ভারতীয় সামুদ্রিক অফিসার ও বিশেষজ্ঞদের উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে উড়ানের কার্যক্রম. এই বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ থেকে যারা পরীক্ষায় এসেছেন, সেই পরিষদের মুখপাত্রের কথা বলে উল্লেখ করে “দ্য হিন্দু” সংবাদপত্র জানিয়েছে মিগ- ২৯ কা ও মিগ – ২৯ কে ইউ বি ধরনের বিমান, যেগুলি ৪++ প্রজন্মের বিমান, সেই গুলি এই “বিক্রমাদিত্য” জাহাজের উপরে ৪১ বার অবতরণ করেছে. তার মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে অস্ত্র সজ্জিত অবস্থায় ও বাড়তি জ্বালানীর ট্যাঙ্ক সমেত অবস্থায়ও. রাশিয়া ও ভারতীয় প্রযুক্তির সহযোগে সৃষ্ট অপটিক্স ও ইলেকট্রনিক ভাবে জাহাজের ডেকের উপরে অবতরণের ব্যবস্থা সুবিধা করে দিয়েছে পাইলটদের জাহাজের ডেকে শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে তিনটি এয়ারো ফিনিশারের হুকের মধ্যে দ্বিতীয়টিতে বিমান আটকে দিতে. যা মনে করা হয়েছে দারুণ রকমের ফল বলে.

আর সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হয়েছিল বাস্পচালিত টার্বাইনের তাপ নিরোধক ব্যবস্থায় আর সেটাকে সংবাদ মাধ্যমে অনেক ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে লেখা হয়েছে. চিনে উত্পন্ন তাপ নিরোধক ইঁটের বয়লারের উপরে তাপ নিরোধক আবরণে সম্পূর্ণ গতিতে ইঞ্জিন চালনার ফলে আংশিক নষ্ট হয়ে যাওয়া, তা পরীক্ষার উপরে কোনও প্রভাব ফেলে নি. তাপ নিরোধক ব্যবস্থা ছাড়াও সমস্যা হয়েছিল ঠাণ্ডা করার যান্ত্রিক বিভাগে, নাইট্রোজেন জেনারেটর ও কম্প্রেসর ব্যবস্থায়, যেগুলি ভারতের দাবীতেই কেনা হয়েছিল ন্যাটো জোটের দেশ – জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন ও পোল্যান্ড থেকেই. এই সমস্ত বিকল হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি পাল্টে মেরামত করতে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে শেষ হবে ২০১৩ সালের শুরু দিকেই. কিন্তু ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে এই জাহাজ তুলে দেওয়ার আগের শেষ পরীক্ষা শুরু হতে পারে ২০১৩ সালের মে মাসের আগে নয়, যখন উত্তরের সমুদ্র গুলিতে বরফ গলে যাবে. বিশেষজ্ঞদের মতে, “বিক্রমাদিত্য” জাহাজ ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে আগামী বছরের হেমন্তেই.