রাশিয়ার বিমান নির্মাতারা নতুন ইল- ৪৭৬ বিমান প্রকল্পের উপরে কাজ শেষ করেছেন. এই বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন শিল্পও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান দেনিস মান্তুরভ. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এই বিমানের ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল.

বাস্তবে ইল- ৪৭৬ – এটা খুবই ভাল করে সারা পৃথিবীতে জানা সামরিক পরিবহনের উপযুক্ত ইল- ৭৬ বিমানেরই খুব গভীর রকমের আধুনিকীকরণের ফল. নতুন বিমান ইতিমধ্যেই একাধিকবার আকাশে উঠেছে. আর বর্তমানে তৈরী হচ্ছে খুবই সিরিয়াস সমস্ত পরীক্ষার জন্যই. ইল – ৪৭৬ তৈরীর জন্য নতুন করে উত্পাদনের জায়গা তৈরী করতে হয়েছে বলে উল্লেখ করে “স্বাধীন সামরিক পর্যালোচনা” সংবাদপত্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত সম্পাদক ভিক্টর লিতোভকিন বলেছেন:

“আধুনিকীকরণ এই জন্যই প্রয়োজন পড়েছে যে, সোভিয়েত সময়ে এই ধরনের বিমান উত্পাদিত হত উজবেকিস্তানের তাশখন্দ (তশকেন্ত) শহরের কারখানায়. সোভিয়েত দেশ ভেঙে যাওয়ার পরে এই কারখানার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, প্রয়োজন হয়েছিল কারখানা রাশিয়ার উলিয়ানভস্ক শহরে নিয়ে আসার. যখন এটা করা হয়ে গিয়েছিল, তখন একই সঙ্গে এই বিমানেরও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে. প্রয়োজন হয়েছিল নতুন রকমের দিক নির্ণয় ও বিমান ওঠা নামা করানোর যন্ত্রপাতি ব্যবহারের, বিমানের উপরে সমস্ত রেডিও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা এবং নতুন ধরনের মাল ওঠান ও নামানোর যন্ত্রপাতি লাগানোর”.

ইল- ৪৭৬ একেবারেই নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত মানে উত্তীর্ণ হয়েছে. বিমানের নির্মাতারা এটিকে আরও শক্তিশালী টার্বো রিয়্যাক্টিভ ইঞ্জিন দিয়ে উন্নত করেছেন. এর ফলে জ্বালানীর প্রয়োজন কমেছে ও উড়ানের দূরত্ব বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত. এই কথা উল্লেখ করে “রস বিজনেস কনসাল্টিং” কোম্পানীর বিশেষজ্ঞ সের্গেই স্তারিকভ বলেছেন:

“বিমানে একই সঙ্গে নতুন আধুনিক পাইলটিং-নেভিগেশন ব্যবস্থা বসানো হয়েছে, বিমানের ডানার গঠন ও চাকার জায়গায় বদল আনা হয়েছে. এর ফলে এই বিমান এমনকি একেবারে সম্পূর্ণ রকমের এই ধরনের বিমানের ওঠা নামার উপযুক্ত নয়, এমন বিমান বন্দরেও নামান যাবে”.

নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে ইল – ৪৭৬, ৫০ টন মাল ঘন্টায় ৮৫০ কিলোমিটার গতিতে নিয়ে যেতে পারে. বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবহনের বিমান প্রাথমিক ভাবে রাশিয়াতেই খুব চাহিদা সৃষ্টি করবে. রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কেনার পরিকল্পনা করছে. কিন্তু এই বিমান বিদেশী পরিবহন কোম্পানীর গুলিরও খুব প্রয়োজন পড়বে, এই কথাই উল্লেখ করে “কমসোমোলস্কায়া প্রাভদা” সংবাদপত্রের পর্যবেক্ষক ভিক্টর বারানেত্স বলেছেন:

“এই বিমানের আধুনিকীকরণের প্রায় অশেষ সম্ভাবনা রয়েছে, খুবই দীর্ঘস্থায়ী এর কার্য ক্ষমতাও রয়েছে. এই ধরনের বিমান দরকার প্রাথমিক ভাবে রাশিয়ার জন্যই. আন্তর্জাতিক বাজার সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে তা হল সব মিলিয়ে ন্যাটো দেশ গুলিতে খুব একটা কম সংখ্যক পরিবহনের বিমান বানানো হয় না. কিন্তু রাশিয়ার এই বিমান তার একটা আলাদা মর্যাদা রাখে, তা খুবই সন্তোষের সঙ্গে নেবে ন্যাটো জোটের সেই সমস্ত দেশ গুলি, যারা আগে ওয়ারশ চুক্তির মধ্যে ছিল. বিমানের খুবই বড় সম্ভাবনা রয়েছে চিনের সেনাবাহিনী, ভারতে আর মালয়েশিয়াতে পৌঁছে যাওয়ার, যে সব দেশে রাশিয়ার পরিবহনের বিমান খুব ভাল করেই পরিচিত”.

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য যখন প্রথম দফার নির্মাণ শেষ হবে, তখন আশা করা হচ্ছে যে, চিনই হয়তো হবে প্রথম ইল- ৪৭৬ বিমানের ক্রেতা.