রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের না হওয়া পাকিস্তান সফর ও ২রা অক্টোবর হবে বলে আগে ঠিক হওয়া “দুশানবে চতুষ্টয়” (রাশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান) শীর্ষবৈঠক মুলতুবি হওয়া ইসলামাবাদে প্রবল সমালোচনার ঝড় তুলেছে – বিশেষ করে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমেই. পাকিস্তানে অনেকেই শুধু অবাক হন নি, বরং খুবই আহত হয়েছেন এই কারণে যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি, যাঁর সফর নিয়ে পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম সপ্তাহ দুয়েক আগে ঘোষণা করেছিল, তিনি পাকিস্তান যাচ্ছেন না.

সফর বাদ দেওয়া হয়েছে বলে যে সমস্ত কারণ দর্শানো হচ্ছে, তার মধ্যে সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ করে নিম্নলিখিত বিষয় গুলি উল্লেখ করা হয়েছে. প্রথমতঃ, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে “গাজপ্রম” সংস্থাকে ইরান – পাকিস্তান – ভারত গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্পের পাকিস্তানের অংশটি বানাতে দিতে অস্বীকার করা. দ্বিতীয়তঃ, সম্ভাব্য নেতিবাচক ফল, যা এই সফরের ফলে রুশ- ভারত সম্পর্কে হতে পারত ও এই বছরের শেষে পুতিনের আগে থেকে ঠিক করা ভারত সফরের সম্পূর্ণ সাফল্যের ক্ষেত্রে হতে পারত. অন্যান্য কারণের মধ্যে বলা হয়েছে বর্তমানের সমস্ত মুসলমান বিশ্বে, তার মধ্যে পাকিস্তানেও গণ প্রতিবাদের ঢেউ ওঠাতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা, আর তারই সঙ্গে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পরিস্থিতি: সেই দেশ এখন নতুন (সম্ভবতঃ, সময়ের আগেই) সর্বজনীন নির্বাচনের দিকে চলেছে, আর পরবর্তী কালের ক্ষমতাসীন প্রশাসনের কাঠামো কি হবে তা একেবারেই স্পষ্ট নয়.

এই সব কারণ গুলিই, সন্দেহ নেই যে, অর্থবহ, যখন সব মিলিয়ে রাশিয়া- পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে কথা ওঠে. কিন্তু যদি শীর্ষ পর্যায়ে সফর নিয়ে বলতে হয়, তবে সব সময়েই একটি প্রশ্ন করা যেতে পারে: এই গুলি হওয়ার মানে কি – স্রেফ পারস্পরিক ভাবে শুভেচ্ছা বিনিময়ে সফর অথবা কোন সংজ্ঞাবহ অনুষ্ঠান, যার সময়ে সহযোগিতা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রশ্নের সমাধান করা হয়? যেহেতু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির তথ্য জন সংযোগ মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ উল্লেখ করেছেন যে, “পুতিন ইসলামাবাদ সফর সম্বন্ধে আপত্তি করেন নি – শুধু সফর এখন ঠিক করা হয় নি, রাষ্ট্রপতির কর্মসূচী এটা হওয়ার জায়গা করতে পারে নি”, তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম, এই সফর ঠিক হয়েই আছে বলে, একটু তাড়াহুড়োই করে ফেলেছে.

পাকিস্তানের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ আহমেদ কুরেশী রাশিয়ার “কমেরসান্ত” খবরের কাগজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, পুতিন ইসলামাবাদ আসতে পারেন নি কারণ দ্বিপাক্ষিক শিল্প বাণিজ্য সহযোগিতা সংক্রান্ত দলিলের কাজ শেষ হয় নি. অর্থাত্ এই সফর বাতিল করা হয় নি – তা সম্ভবতঃ, আসন্ন ভবিষ্যতেই সম্পন্ন করা হবে, কিন্তু তার জন্য আরও খুঁটিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে.

রাশিয়া- পাকিস্তানের সহযোগিতা যে খুবই প্রয়োজনীয় বিষয়, আর তা বর্তমানের সময়েরই দাবী, তা প্রমাণ করার দরকার নেই, এই কথাই উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভরসা যোগ্যতার বিষয়ে সন্দেহের অবসান করতে বাধ্য, যা সেই ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় থেকেই হয়ে রয়েছে. আর তা মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার সমগ্র এলাকা জুড়েই স্থিতিশীলতার একটি কারণ হতে বাধ্য, যেখানে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে অবধারিত ভাবেই একটা ক্ষমতার বিষয়ে শূন্যতার সৃষ্টি করতে চলেছে. যদি এই এলাকার সমস্ত দেশের শক্তিকে একজোট না করা হয়, তবে এই শূন্য স্থান পূরণ করবে চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী শক্তিরাই”.

আর এটা মস্কোতে খুব ভাল করেই বোঝা হয়েছে, তা হয়েছে ইসলামাবাদেও. এরই সাক্ষ্য হিসাবে – দুটি সফর যা একই সময়ে শুরু হয়েছে. বুধবারে পাকিস্তানে গিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, আর মস্কো এসেছেন পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর নেতা জেনারেল আশফাক কিয়ানি, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“অবশ্যই দুটি সফর – যদিও তা এত উচ্চ পর্যায়ের পদস্থ কর্মচারীদের হচ্ছে – তা দুই রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণে একটি শীর্ষ বৈঠকের বদলী হতে পারে না. কিন্তু এখানে খেয়াল করা দরকার যে, রাশিয়া- পাকিস্তানের সম্পর্ক এখনও তার বিকাশের খুবই প্রারম্ভিক পর্যায়ে রয়েছে, আর তার অর্থ হল যে, দেশের প্রধানদের বৈঠকের আগে সহযোগিতার নির্দিষ্ট বিষয় গুলি নিয়ে বিশাল কাজকর্ম শেষ করার প্রয়োজন রয়েছে, তার মধ্যে সেই সমস্ত ক্ষেত্রও রয়েছে, যেমন অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সহযোগিতা. তাই রাষ্ট্রপতি পুতিন পাকিস্তানে আসেন নি, এই ব্যাপারটা রাশিয়া- পাকিস্তানের সম্পর্কের বিষয়ে কোন রকমের ফাটল বলে ধরা ঠিক হবে না. আসলে সম্পর্কের বিকাশ হচ্ছে, তা জটিলতা ছাড়া নাও হতে পারে, তবে খুবই গতিময় ও এবং অগ্রাভিমুখী”.

এই অঞ্চলের পরিস্থিতির বিচারে রাশিয়া- পাকিস্তান সম্পর্কের অর্থ সব মিলিয়ে খালি বেড়েই যাবে ও বিশেষ করে – আফগানিস্তানে ও তার চারপাশে. সুতরাং সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে সফরের বিনিময় – এটা খুবই আসন্ন ভবিষ্যতের বিষয়.