অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিজ্ঞানে প্রযুক্তি সম্ভাবনা গবেষণা সংস্থা সেই সমস্ত কোম্পানী গুলির সঙ্গে সাক্ষাত্কার করবে, যারা সাইবার যুদ্ধের জন্য অস্ত্র বানায়. এখানে কথা হচ্ছে যদিও ভার্চুয়াল, তবুও তার প্রভাবের ফলে গণ হারে নিধন যোগ্য সম্পূর্ণ মানের অস্ত্রের. বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই নেতৃস্থানীয় দেশ গুলির মধ্যে কম্পিউটার মাধ্যমে ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রতিযোগিতার কথা বলতে শুরু করেছেন.

“আরব বসন্ত” ঘটানো হচ্ছে সামাজিক সাইট ব্যবহার করেই, ইরানের উপরে সাইবার আক্রমণ... এই রকমেরই ঘটনা, যাতে এত ঘনিষ্ঠ ভাবে বিশ্বের ঘটনা গুলি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে ভার্চুয়াল থেকে বাস্তব বিশ্বেও, যা বিশেষজ্ঞদের আরও বেশী করে কারণ জুটিয়ে দিচ্ছে বলার জন্য আসন্ন সাইবার যুদ্ধ নিয়ে. আপাততঃ, তার অংশগ্রহণকারীরা শুধুমাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট পরিধিতে আঘাত করে দেখে নিচ্ছে, কিন্তু তাদের পক্ষেও বোধগম্য হয়েছে যে, কম্পিউটার চালিত অস্ত্র হতেই পারে যে, খুবই ভয়ঙ্কর.

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন ২০০০ এর দশকের বিশ্বজোড়া আড়ি পেতে শোনার ব্যবস্থা “এশেলন” এর কথা, যা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ও তাদের জোটের লোকদের কাছে. কিন্তু সবচেয়ে টাটকা ইতিহাস – ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলিকে স্টাক্সনেট নামক ভাইরাস ব্যবহার করে খারাপ করে দেওয়ার চেষ্টা. এর পেছনে খবর ছিল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ছিল. এই সব ঘটনা গুলিই, কম্পিউটার অস্ত্র কোন দিকে উন্নত হচ্ছে তার বিষয়ে একটা ধারণা দিয়ে থাকে এই কথা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে গুপ্তচর কাজ কারবারের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইভগেনি ইউশ্যুক উল্লেখ করে বলেছেন:

“প্রথম হল – এটা ইন্টারনেটে তথ্য বিষয়ে লক্ষ্য রাখা. ধরে নেওয়া যাক এখন লোকদের ব্যক্তিগত ভাবে একে অপরের সঙ্গে চিঠি লেখা সবই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এটা এক ধরনের ডাটাবেস তৈরী করে তাতে জমা করা হচ্ছে, যা থেকে পরে বের করা হচ্ছে নতুন করে উঠে আসা নেতাদের সম্বন্ধে ও নানা রকমের মতামতের ফল্গু ধারা. দ্বিতীয় দিক হল – বিপক্ষের কম্পিউটার ব্যবস্থাকে বিকল করে দেওয়া”.

অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, অনেক দেশই সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা ধরনের বর্মের ব্যবস্থা করছে. সবচেয়ে বেশী সক্রিয় মনে করা হয়েছে চিনকে, যারা বিশ্ব থেকে নিজেদের মহান আগুনের প্রাচীর দিয়ে আলাদা করে রেখেছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার “জাতীয় প্রতিরক্ষা” জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“সাইবার হুমকির বিষয়ে খুবই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে চিন. এই সব প্রশ্ন এখন খুবই উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ে রয়েছে, এই গুলি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছে সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে. বিগত বছর গুলিতে খুবই সক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ নিয়ে প্রতিরক্ষা বিষয়ে কাজ করছে ইরান. এটা ঠিক যে, আমাদেরও রাশিয়াতে উচিত্ হবে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ ব্যবস্থা সহ নিজেদের প্রতিরক্ষা কেন্দ্র তৈরী করার. রাশিয়ার তথ্য প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি রয়েছে. জানানো হয়েছে যে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ধরনের কাজের প্রতি মনোযোগ দেবে বলেছে, আর সামরিক বাহিনীর কাঠামোয় সাইবার প্রতিরক্ষা দপ্তর তৈরী করা উচিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে”.

বহু বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে, পশ্চিমে হয় ইতিমধ্যেই তৈরী করা হয়ে গিয়েছে অথবা “কম্পিউটার আক্রমণের” ব্যবস্থা তৈরী করা হচ্ছে. এই ধরনের প্রকল্প নিয়ে কাজ স্রেফ খুবই গোপনীয় রাখা হয়েছে.