গাজপ্রম সংস্থা এশিয়া অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রথম বৃহত্ ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি করেছে. নিজেদের হোল্ডিংয়ের ভিতরের কোম্পানী গাজপ্রম মার্কেটিং অ্যান্ড ট্রেডিং (জিএমটি) এর মাধ্যমে গ্যাস উত্পাদন ও সরবরাহ করার এই কোম্পানী তরল গ্যাস সরবরাহ করার জন্য ভারতের গ্যাস অথরিটী অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড (গেইল) কোম্পানীর সঙ্গে চুক্তি করেছে. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, স্ট্র্যাটেজিক অর্থে রাশিয়ার জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ.

গেইল সংস্থার সঙ্গে তরল নীল জ্বালানী সরবরাহ নিয়ে হওয়া চুক্তি গাজপ্রমের ইতিহাসে একটি অন্যতম বড় চুক্তি. তা অনুযায়ী ভারত কুড়ি বছর ধরে প্রতি বছরে রাশিয়া থেকে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টন করে রাশিয়ার গ্যাস পাবে. সরবরাহ শুরু হবে ২০১৯ সাল থেকে. এই চুক্তি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে গাজপ্রম কোম্পানীর প্রধান আলেক্সেই মিলার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ভারতীয় বাজারকে একটি সবচেয়ে গতিময় ভাবে বেড়ে ওঠা আঞ্চলিক বাজার বলেই মনে করেন. বিশেষজ্ঞরা তাঁর মতের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভাবেই সহমত হয়েছেন. গেইল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি – এটা গাজপ্রম কোম্পানীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজারে বের হওয়ার জন্য নেওয়া স্ট্র্যাটেজির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, এই কথা উল্লেখ করে স্বাধীন বিশ্লেষক দিমিত্রি ল্যুতিয়াগিন বলেছেন:

“এই দিকে নেওয়া স্ট্র্যাটেজি গাজপ্রম কোম্পানীর বোধহয় সেই ২০০০ এর দশকের শুরু থেকেই রয়েছে. কিন্তু বাস্তবে আমরা এই মুহূর্তে শুধু একটিই কম বেশী কার্যকরী প্রকল্প দেখতে পেয়েছি – এটা তরল গ্যাস প্রকল্প – যা সাখালিনে কাজ করছে. সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে জাপানের দিকে. অন্য কোনও প্রকল্প, গাজপ্রম কোম্পানী সাখালিন প্রকল্প শুরু করার পরে আমরা এশিয়া অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে দেখতে পাই নি. এখন এটা দ্বিতীয় পদক্ষেপ, যে কোন ক্ষেত্রেই এই চুক্তি গাজপ্রম কোম্পানীকে এই চ্যানেল ব্যবহার করে গ্যাস সরবরাহের পরিমান বাড়াতে সাহায্য করবে”.

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এশিয়া জ্বালানী বিষয়ে কম সুযোগ পাওয়া এলাকা. অর্থাত্ রাশিয়া থেকে পাওয়া কার্বন যৌগের বিষয়ে চাহিদা এই অঞ্চলে আসন্ন ভবিষ্যতে খালি বেড়েই চলবে. তাই এশিয়ার দিক বর্তমানে স্ট্র্যাটেজিক কারণেই খুব গুরুত্বপূর্ণ. তার ওপরে এটাও ঠিক যে, ইউরোপে নীল রঙের এই জ্বালানীর ব্যবহার কমছে, আর গাজপ্রম কোম্পানী এই কারণে নিজেদের লাভ হারাচ্ছে, এই রকম বিষয়কে সমর্থন করেই স্বাধীন বিশ্লেষণ কেন্দ্র “ইনফেস্টকাফে” সংস্থার বিশেষজ্ঞ ইউলিয়া ভৈতোভিচ বলেছেন:

“বড় করে দেখলে এখানে দুটি কারণ রয়েছে. প্রথমতঃ, এটা সারা বিশ্ব জুড়ে অর্থ সঙ্কট, ইউরোপের অর্থ সঙ্কট. আর গাজপ্রমের জন্য আরও একটা কারণ হল যে, তারা ইউরোপে সরবরাহ করতে গিয়ে লাভ হারাচ্ছে, কারণ তাদের বহু ইউরোপীয় দেশকে দামের বিষয়ে ছাড় দিয়ে সরবরাহ করতে হচ্ছে. এর ফলে গাজপ্রম নিজেদের সরবরাহ এশিয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারলে ভালই হয়”.

ভারতে শ্টকম্যান উত্পাদন ক্ষেত্র থেকে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে. সেখানে তরল গ্যাস উত্পাদনের কথা রয়েছে পাঁচ বছর পরে. দ্বিতীয় উপায় রয়েছে ভ্লাদিভস্তকের তরল গ্যাসের কারখানা থেকে. যা চালু হওয়ার কথা রয়েছে সেই ২০১৭ সালেই. তাছাড়া, বিচার করে দেখা হচ্ছে সাখালিন – ২ প্রকল্পে তরল গ্যাস উত্পাদনের বিষয়ে প্রসার ঘটানোর. যদি ২০১৯ সালের মধ্যে রাশিয়া অন্য আর একটিও তরল গ্যাস উত্পাদন প্রকল্প তৈরী না হয়েও যায়, তবুও গেইল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি পালন করা সম্ভব হবে গাজপ্রম কোম্পানীর পক্ষ থেকে অন্যান্য উত্পাদকদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে নিয়ে.