দিমিত্রি মেদভেদেভ সোমবারে ফেসবুক কোম্পানীর প্রধান মার্ক শুকেরবের্গের সঙ্গে দেখা করেছেন. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী (যিনি নিজেই ইন্টারনেটের একজন সক্রিয় ব্যবহারকারী) বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক সাইটের জনকের সঙ্গে ইন্টারনেটে বুদ্ধিস্বত্ত্ব সংক্রান্ত প্রশ্ন ও ফেসবুক সাইটের নতুন সব যৌগ গুলির বিষয়ে রাশিয়ার পেশাদার লোকদের নিয়েও কথা বলেছেন.

দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে মার্ক শুকেরবের্গের সাক্ষাত্কার হয়েছে রাশিয়ার মন্ত্রীসভার কোন সরকারি ক্যাবিনেটের মধ্যে নয়, বরং মন্ত্রীসভার প্রধানের মস্কো শহরের বাইরের বাসভবনে. মেদভেদেভ – বহু দিন ধরেই কম্পিউটার প্রযুক্তির ফ্যান, তাঁর নিজের ভিডিও ব্লগ রয়েছে, নিজের পাতা রয়েছে ফেসবুক, টুইটার ও লাইভজার্নালে. আর তাই রাশিয়ার মন্ত্রীসভা প্রধানের এই বিশ্ব সেরা সামাজিক সাইটের (৯৫ কোটির বেশী ব্যবহারকারী) প্রধানের সঙ্গে দেখা হওয়া বিষয়টিতে বেশী মনোযোগ ছিল. তাই দেখা হওয়ার শুরুতে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

“যদি সামাজিক সাইট নিয়ে কথা বলতে হয়, তবে তা এখন বিশ্বে খুবই জনপ্রিয় বিষয়, তা হওয়ার একটি কারণ ফেসবুক. আমাদের দেশে, আমি যতদূর জানি প্রায় ১ কোটি ফেসবুক সাইটে লোক রয়েছেন, আমার নিজেরই সেখানে একটা পাতা রয়েছে. এটা অবশ্য খুব একটা বেশী নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো. আমার সহকর্মী বারাক ওবামা এর মধ্যেই প্রায় তিন কোটি ব্যবহারকারীর সঙ্গে সখ্য করেছেন. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও আমাদের দেশের সংখ্যাও মনে রাখার মতো. এমনকি যদি ধরা হয় যে, আমাদের দেশে নিজেদেরই সামাজিক সাইট রয়েছে, যেমন “আদ্নোক্লাসনিকি”, “ভ্কনটাক্টে”, এটা স্বাভাবিক যে, প্রায় সকলেই “টুইটার” ব্যবহার করেন. এই ব্যাপারে সব কিছু মোটেও খারাপ নয়. কিন্তু আমরা যে এখন একটা একেবারেই অন্য বিশ্বে বাস করছি, তা নিয়ে আর কারোরই কোন সন্দেহ নেই. বোধহয়, এটাতেই আপনার কৃতিত্ব রয়েছে”.

মার্ক রাশিয়াতে এসেছেন যাতে ফেসবুক ওয়ার্ল্ড হ্যাক প্রোগ্রামারদের সঙ্গে দেখা করা যায়, একটি বক্তৃতা তিনি দেবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য. আর সেই সমস্ত কোম্পানীদের সঙ্গে দেখা করবেন, যারা সামাজিক সাইটের জন্য নানা রকমের অ্যাড অনস্ বানাচ্ছেন. এই প্রসঙ্গে মার্ক বলেছেন:

“প্রথমতঃ আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই যে, আপনি আমাদের আপনার সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন. আর আমি বলতে চাই যে, এখানে শুধু এই জন্য আসি নি যে, রাশিয়ার দল ওয়ার্ল্ড হ্যাক প্রতিযোগিতায় জিতেছে, বরং আরও সেই জন্যও যে, এখানে সামাজিক সাইটের খুব ভাল সব প্রোগ্রামার রয়েছেন. রাশিয়া আমি কেন এখন এসেছি, তার একটা প্রধান কারণ হল আমরা বিশ্বজোড়া প্ল্যাটফর্ম তৈরী করতে চলেছি, তাই আমাদের চাই নানা রকমের সামাজিক অ্যাপ্লিকেশন ও প্রোডাক্ট, যা আমরা বাইরের কোম্পানীদের তৈরী করতে দিয়ে থাকি. আর তাই আমার এই মস্কো সফরের সময়ে আমি এই সব কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলবো. চেষ্টা করব তাদের নতুন সব প্রোডাক্ট তৈরী করার বিষয়ে উত্সাহ দিতে, নতুন সব ওয়েব সার্ফার তৈরী করাতে, যা আমি বিশ্বাস করি যে, রাশিয়ার গ্রাহকদের খুবই ভাল লাগবে”.

এই দেখা হওয়ার সময়ে সেই সমস্ত সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে, যা এখন সেই ব্যবসায়ীদের অসুবিধার কারণ হয়েছে, যারা ইন্টারনেটে নতুন সব প্রোগ্রাম বানাচ্ছেন, আর গ্রাহক দেরও অসুবিধা করছে. তার মধ্যে প্রধান হল – বুদ্ধিস্বত্ত্ব নিয়ে, দিমিত্রি মেদভেদেভ এই ক্ষেত্রে নিজের ধারণা ব্যক্ত করেছেন:

“আমার মতে, খুব জরুরী হল ভারসাম্য বার করা, যা একদিকে ঐতিহ্য মেনে বুদ্ধিস্বত্ত্ব রক্ষা করে, আবার অন্য দিকে শুধু ইন্টারনেটে বিশেষ করে থাকা নতুন ধরনের সঙ্গে মানিয়ে চলে, যা স্বাধীন ভাবে বুদ্ধিস্বত্ত্ব সম্পন্ন বিষয় ব্যবহার করতে দেয়. আর সেই ভারসাম্য বের করতে যাওয়াই যেমন উকিলদের জন্য হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন কাজ, তেমনই ব্যবসায়ীদের জন্যও, আবার তাদের জন্যও, যারা সামাজিক সাইটে কাজ করেন. আমি শুধু আপনাকে একটাই কথা বলবো, তা হল যাতে প্রাথমিক ভাবে বুদ্ধিস্বত্ত্ব আদতে যার কাছে রয়েছে তিনি নিজেই ঠিক করেন এই আইনের ক্ষেত্র তাঁর নিজের দেওয়া সীমান্ত কতদূর হবে. আর সেই ভাবে ইন্টারনেটে আগে থেকেই ধরে নেওয়া ঠিক হবে যে, যদি কোন বিষয়ে ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট করে বলা না থাকে, তবে ধরে নিতে হবে যে, তা অবাধে ব্যবহার যোগ্য. এই বিষয়ে আমি আগ্রহ নিয়েই কথা বলছি, কারণ এক সময়ে আমি এই সমস্যা নিয়ে নিজের আইন বিষয়ে ও উকিল হিসাবে কাজকর্মের সময়ে কাজ করেছি”.

দেখা শেষ হওয়ার সময়ে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভকে মার্ক শুকেরবের্গের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে একটি টি-শার্ট, যার উপরে তাঁর নিজের ফেসবুক সাইটের ঠিকানা রয়েছে.