ফুটবল সংস্থা গুলির আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফা রাশিয়াতে সেই সমস্ত শহরের কথা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, যেখানে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করা হতে চলেছে. এই শহর গুলির সংখ্যা ১১ – যেমন খেলাতেও অংশ নিয়ে থাকেন প্রতি দলে এগারো জন করেই খেলোয়াড়. প্রতিযোগিতার আয়োজন করার অধিকার পেয়েছে মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ, সোচী, কাজান, ইকাতেরিনবুর্গ, নিঝনি নভগোরদ, সামারা, রস্তভ-অন-ডন, কালিনিনগ্রাদ, ভলগোগ্রাদ আর সারানস্ক.

ফিফা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে চেষ্টা করেছেন এই প্রতিযোগিতা দিয়ে যত বেশী সম্ভব এই দেশে প্রসারিত করার, এই কথাই উল্লেখ করে খেলা নিয়ে পর্যবেক্ষক আরতিওম লোকালভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, এই কারণেই ঠিক করা হয়েছে যে, বিশ্বকাপের খেলা ক্রাসনাদার শহরে হবে না. এই প্রতিযোগিতা যে সব শহরে হতে চলেছে, তার একটা হল সোচী, যা ক্রাসনাদার থেকে স্বল্প দূরেই রয়েছে. আর বোধহয় সেই কারণেই আয়োজক পরিষদে ঠিক করা হয়েছে যে, এক এলাকার দুটো শহরকে এই রকমের মর্যাদা দেওয়া বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে. এই কারণেই আমার মনে হয়, ইয়ারোস্লাভল শহরকে বাদ দেওয়া হয়েছে. সেটা মস্কোর এত কাছে বলেই”.

অবশ্যই ভৌগোলিক অবস্থান নির্বাচনের প্রধান কারণ নয়. ফিফা সংস্থার বিশেষজ্ঞরা সমস্ত প্রতিযোগিতার আয়োজক হতে চাওয়া শহর গুলিতেই গিয়েছেন, যাতে নিজেরা দেখে নিতে পারেন সেই সব জায়গায় ফুটবল খেলোয়াড় ও ফ্যানদের খেলা হলে কি ধরনের সুবিধা বা অসুবিধা হতে পারে, স্থানীয় লোকদের এই ক্ষেত্রে কি হবে, এই কথা উল্লেখ করে ফুটবল বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মালসোলভ বলেছেন:

“ফিফা খুবই খুঁতখুঁতে ভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে খেলার চরিত্র ও তার আইন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে থাকে. আর এটাও ঠিক যে, বেছে নেওয়া হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এই সব শহরের আজকের দিনের পরিকাঠামো ও ভবিষ্যতের পরিকাঠামোর সম্ভাবনার কথা ভেবেই. পরিবহনের কাঠামো, পরিষেবার বিকাশ, নানা ধরনের সার্ভিস ও এই রকমের আরও অনেক কিছুর বিষয়ে বিচার করে তবেই”.

মস্কোর “লুঝনিকি” ষ্টেডিয়াম পাচ্ছে এই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলা ও ফাইনাল ম্যাচের আয়োজনের অধিকার. এটা বিশ্বের একটি অন্যতম বড় ফুটবল মাঠ. তা তৈরী করা হয়েছিল ১৯৫৬ সালে. তার পর থেকে বেশ কয়েকবার এই ষ্টেডিয়াম পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল. ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নশীপের সময়ে এটাকে আরও একবার নতুন করে সারানো হবে.

মস্কোর দ্বিতীয় ষ্টেডিয়াম যা এই বিশ্বকাপের খেলার আয়োজনে অংশ নিতে পারবে, তা “স্পার্তাক” দলের মাঠ, এটা মস্কো শহরের উত্তর পশ্চিমে তৈরী করা হচ্ছে, আগামী ২০১৪ সালে সেখানে প্রথম দর্শকরা যেতে পারবেন.

ফিফা সংস্থার দাবী অনুযায়ী নতুন ষ্টেডিয়াম তৈরী করা হবে সেন্ট পিটার্সবার্গে, সারানস্কে, কাজানে ও সোচী শহরে. বাস্তবে সমস্ত শহরেই শুধু মস্কো, পিটার্সবার্গ ও সোচী বাদ দিয়ে নতুন খেলাধূলার জায়গা ছাড়াও ভাবতে হবে নতুন সব হোটেলের কথা.

কিন্তু যা নিয়ে একেবারেই ভাবার দরকার নেই, তা হল যে, এই বিশ্বকাপ দেখতে আসা অতিথিদের খেলার অন্তর্বর্তী সময় গুলিতে কি ভাবে মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হবে, কারণ এই সব কটি শহরই হয় ইউনেস্কো সংস্থার বিশ্ব ঐতিহ্যের নিদর্শনের শহর অথবা সারা বিশ্ব বিখ্যাত কোন না কোন দ্রষ্টব্য স্থানের জায়গা. প্রত্যেক শহরেই বিশ্বকাপের আগে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে সমস্ত খেলোয়াড় ও ফ্যানদের জন্য, এই রকমই আশ্বাস দিয়েছেন আয়োজকরা.

রাশিয়া বিশ্বের ফুটবল মহা সম্মেলনের অধিকার পেয়েছিল এই ফিফা সংস্থার কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের ফলে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে. তখন প্রতিযোগিতায় রাশিয়া হারিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে, তাছাড়া যৌথ ভাবে খেলা আয়োজনের জন্য আবেদন করেছিল স্পেন ও পর্তুগাল, আর হল্যান্ড ও বেলজিয়াম. এই বিশ্বকাপের খেলায় যোগ দিতে আসবে বিশ্বের ৩২ টি দেশের জাতীয় দল. রাশিয়া এই বিশ্বকাপে যে অংশ নেবে, তা নিশ্চিত, কারণ আয়োজক দেশ.