পেন্টাগন থেকে সমর্থন করা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকে ঠিক করা সময়সীমা অনুযায়ী ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে, আর সেখানে শুধু রেখে দেবে খুবই কম উল্লেখ্য উপস্থিতি. এই বিষয়ে সাংবাদিকদের জন্য এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময়ে ঘোষণা করেছেন আমেরিকার সেনাবাহিনীর দপ্তরের প্রধান লিওন প্যানেত্তা.

কতটা কম উল্লেখযোগ্য হবে এই উপস্থিতি, তা নিয়ে এখনও কোন রকমের তথ্য নেই. প্রসঙ্গ নিয়ে পিওতর গনচারভ মন্তব্য করেছেন.

আজকে স্পষ্টই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে কিছু অংশে সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে – এটাই রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা জোর দিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন. কিন্তু অন্য একটি বিষয় স্পষ্ট নয়, থেকে যাওয়া বাহিনীর সংখ্যা ও উপযোগিতা কি রকমের হবে. আর তারই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট আফগানিস্তানে কি রকমের ঘাঁটি তৈরী করতে চাইছে. হোয়াইট হাউস থেকে একটি তথ্য বেরিয়েছে যে, এই প্রশ্ন গুলি নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করা হবে, কিন্তু একটাই পরিষ্কার যে, তাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা ঠিক করেছে যে, সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে, ওয়াশিংটন ও কাবুলের মধ্যে. অন্তত, পেন্টাগন বেশী করেই এই ধরনের ঘটনা পরম্পরার কথা উল্লেখ করছে.

তারা এই প্রশ্নে কতদূর এগিয়েছে? আপাতত-, মস্কো শহরে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত আজিজুল্লা কারজাইয়ের কথা মতো, চুক্তি “শুধু কাগজেই রয়েছে”. তিনি বলেছেন:

“এটা সত্যি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশ্বাস দিয়েছে ২০১৪ সালের শেষে আফগানিস্তান থেকে চলে যাবে. কিন্তু খুবই বোধগম্য কারণে, তাদের একাংশ সেখানে থেকে যাবে, যাতে আমাদের দেশের সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের ও পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, দেশের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষার কাজের জন্য. আর ঘাঁটি সম্বন্ধে কি বলা যেতে পারে? যদি এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েও থাকে, তবে তা এখনও যুক্তিসঙ্গত সমাধান অবধি করা হয় নি. ঘাঁটি নিয়ে কোনও চুক্তি এখনও করা হয় নি. কোন রকমের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে কোন পক্ষই এখনও আসে নি”.

পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস ও আফগানিস্তানে থাকা আমেরিকার জেনারেল বর্গ, নিয়মিত ভাবে নানা ধরনের তথ্য দিয়ে যাচ্ছেন, আর তা যেমন থেকে যাওয়া সেনাবাহিনীর সংখ্যা নিয়ে, তেমনই তাদের মধ্যে কারা থাকছেন ও তাদের কাজ কি হবে, তা নিয়ে. বলা হয়েছিল “তিন- চার হাজার সামরিক কর্মীর” কথা আর বেশ কিছু পরামর্শদাতার কথা. এই শক্তি দিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি ভবন সুরক্ষা ও আফগানি সেনাদের প্রশিক্ষণ করা হবে.

কর্নেল জেনারেল মিখাইল সোত্সকভের মত অনুযায়ী, যিনি এক সময়ে আফগানিস্তানে সোভিয়েত দেশের আফগানিস্তানে উপস্থিতির ঘটনার শেষ করেছিলেন প্রধান সামরিক পরামর্শদাতার পদে থাকা অবস্থায়, “তিন- চার” হাজার সৈন্য খুবই কম হবে দূতাবাস ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য, ঘাঁটির কথা তো উঠছেই না, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“বাগরামের একটি ঘাঁটি শুধু সুরক্ষিত রাখতে কম করে হলেও এক ব্রিগেড সেনা দরকার, আর যদি আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অপারেশনের কথা ভাবা হয়, - তাহলে দরকার পড়বে এক ডিভিশন সেনার. আর এই ধরনের বেশ কয়েকটা ঘাঁটি রয়েছে, আর তার সঙ্গে রয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলি. তাই কথা হওয়া উচিত্ বেশ কয়েক সহস্রের. তার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের মতে শুরুর জন্য অন্তত এমন পরিস্থিতি থাকা দরকার যে, তাদের চলে যাওয়ার পরেই যেন দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু না হয়. তাই সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের অব্যবহিত পরেই পরিস্থিতি খুব সহজেই সমস্যা সঙ্কুল হয়ে উঠতে পারে, যা নিয়ে আফগানিস্তান ঐতিহ্যগত ভাবেই “অসুস্থ”. এখানে কথা হচ্ছে সেই সব সমস্যা নিয়েই: “পুস্তুন উপজাতি অধিকৃত উত্তর”, কাবুলের দুর্বল ক্ষমতাসীন প্রশাসন ও শক্তিশালী পাকিস্তান”.

জানাই আছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাবুলের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই বছরের শেষের মধ্যেই স্ট্র্যাটেজিক চুক্তির সঙ্গে আলাদা সমঝোতা পত্রে স্বাক্ষর করবে বলে, যাতে ঘাঁটি গুলির স্ট্যাটাস ও সেনার সংখ্যা সম্বন্ধে নির্দিষ্ট করে বলা হবে, আর তাদের কাজের পরিধি নিয়েও কথা থাকবে. যদি কর্নেল জেনারেল সোত্সকভের কথা হিসাবের মধ্যে আনা যায়, তবে এই সমঝোতা হবে খুবই বিশাল রকমের.