মস্কোতে সদ্য সমাপ্ত হওয়া ৩৯তম ফেডারেল ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশের ১৩০ জন পোশাক রপ্তানিকারকরা অংশ নিয়েছেন. বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, প্রথমবারের মত এত বড় একটি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশ অংশ নিয়েছে. তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একদমই হতাশ নই. বেশ কিছু স্পট অর্ডার আমরা পেয়েছি’.

মোহাম্মদ হাতেম রেডিও রাশিয়াকে বলেন, “মেলায় অংশগ্রহণকারী আমাদের একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে মস্কোর শীর্ষ একটি পোশাক আমদানীকারকদের সাথে ৭ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয়েছে. দুই কোম্পানীর মধ্যে এটি ২য় চুক্তি. বাংলাদেশের ওই কোম্পানী রাশিয়ায় ক্রীড়া পোশাক রপ্তানী করে থাকে. রাশিয়ার ক্রেতারা আমাদের দেশে তৈরী পোশাকের গুনগত মান যাচাই করেছে এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়. এরই ফলশ্রুতিতে দুই দেশের মধ্যে বানিজ্যিক সম্পর্ক সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের নিট-ব্যবসায়ীরা রাশিয়ায় পণ্য রপ্তানীর ক্ষেত্রে খুবই আশাবাদী”.

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও নীট পোশাক রুশী ক্রেতাদের কাছে বেশ ভাল করেই পরিচিত. আমরা সোভিয়েত ইউনিয়নের সময়ও বাংলাদেশের তৈরী পোশাক ব্যবহার করেছি. যদিও কটোনের তৈরী পোশাক ও মেয়েদের থ্রি-পিচ যা রাশিয়ায় আসছে ইউরোপ হয়ে. আর এ কারণেই মূল্যও অনেক চড়া থাকে. বলা যেতে পারে রপ্তানীকারকদের কাছ থেকে কেনা মূল্যের ২ থেকে ৩ গুন বেশী দামে কিনতে হচ্ছে. যদিও রাশিয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হওয়ায় এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে. এ আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশী ব্যাবসায়ী সিদ্দীকী. তিনি আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল মেলায় অংশগ্রহন করেন. তিনি এ আশা প্রকাশ করেছেন, অদূর ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ব্যবহ্রত শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের জন্য “নরবাকোম” নামে কোম্পানীর দ্বারা উত্পাদিত নীট পণ্যের সাথে বাংলাদেশের সস্তা পোশাক রাশিয়ায় সরাসরি পাঠানো হবে. সিদ্দিকী বলেছেন, “ আমাদের কোম্পানী রাশিয়াতে সর্বপ্রথম নীট মেলায় অংশগ্রহন করেছে. আমাদের পোশাকের প্রতি কয়েকজন পাইকারী ক্রেতা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন. তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে. আশা করছি, রাশিয়ার বাজারে প্রবেশ করতে এবং শুধু তা নয় বহু বছর ধরে এ বাজারে কাজ করতে চাই. আমরা চাই যেমন রাজধানীর তেমনি অন্য অঞ্চলের সাথে কাজ করতে. রাশিয়া হল বড় বাজার, আর বাংলাদেশ এ বাজার ধরতে পারে নি. তাই এ বাজারে কাজ নিঃসন্দেহে পরিপ্রেক্ষিতপূর্ণ”.

মস্কোর আন্তর্জাতিক নীট মেলার সময় বাংলাদেশের বেশ কিছু কোম্পানী নিজের পণ্যদ্রব্য পাঠানোর জন্য কয়েকটি চুক্তি সাক্ষর করেছে. এক বছর ধরে এ চুক্তি বাস্তবায়িত হবে. এ সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ)রাশিয়ায় পোশাক পাঠানোর উদ্দেশ্যে মস্কোতে নিজের প্রতিনিধিত্ব ভবন স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে. তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে ভাল নীট পণ্য রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাতে প্রস্তুত”.