এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সিরিয়া প্রসঙ্গে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে. আগামী দিনে দেশটির ভবিষ্যত কেমন হবে তা নিয় ত্রিমুখী মতামত পাওয়া গেছে. সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছে কাতার. আর তার সমর্থন করেছে ফ্রান্স ও তিউনেশিয়া. অন্যদিকে মস্কো, তেহরান ও কায়রো এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছে. এ আলোচনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন তার মতামত দিয়েছেন. তিনি বলেছেন, জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে শক্তি দিয়ে একটি দেশের সার্বভৌমকে হুমকির মুখে ফেলতে দেওয়া যাবে না.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশী রাষ্ট্রদূতদের পরিচিতি গ্রহণ উপলক্ষে মস্কোতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে অবান্তর কাজ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান. পুতিন বলেন, “আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে শীর্ষ অধিকার প্রয়োগ করা উচিত. মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাসহ বিশ্বের যে সব জায়গায় সংকট চলছে সরাসরি সেখানের জন্যই তা প্রযোজ্য. সমর্থন ছাড়া আন্তর্জাতিক আইন আধুনিক বিশ্বে প্রয়োগ করা যায় না. জাতিসংঘের সনদপত্রকে একমুখী করে শক্তি প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যাওয়া হয় তাহলে কোন সুফল তা বয়ে আনবে না. এ ধরণের কর্মকান্ড তা শুধু পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলবে”.

সংকট তা শান্তিময় পরিবেশের মধ্যদিয়েই সমাধান করা উচিত. জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সাধারণ অধিবেশনে নিজের বক্তব্যে বলেন, “সিরিয়ার সংকট এখন ওই অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বের জন্যই হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে. নারীরা ও শিশুরা নিহত হচ্ছে. আমি প্রতিটি দেশকে জানাতে চাই যে, সামরিক হস্তক্ষেপ করে এ প্রশ্নের সমাধান করা যাবে না”.

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে পশ্চিমা নেতারা দামাস্কাস ও তেহরানের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপ করার পরিকল্পনা করছে এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিকাঠামো পুরোটাই নষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে. এর কিছুটা আভাস দিয়েছেন কাতারের আমির শেখ হামাদ বেন খালিফ. সাধারণ অধিবেশনে তিনি সিরিয়ায় নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করার প্রস্তাব জানান. যেমনটি করা হয়েছিল লিবিয়ার ক্ষেত্রে. যা সত্যিও খুবই বিপদজনক হতে পারে. এমনটি বলেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইগর কারাতচেনকো. “কাতার প্ররোচকের ভূমিকা পালন করছে. এই দেশের রয়েছে অঢেল অর্থ. যা তাদের উচ্চাভিলাষের অবতারণা ঘটিয়েছে. আমরা জানি, উত্তর আফ্রিকার পরিস্থিতি অবনতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাতার অর্থ যোগান দিচ্ছে. কোন সন্দেহ নেই যে, কাতার সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরও অর্থ সরবরাহ করছে. আমার মনে হয় এর বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত”.

এদিকে মিশরের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুরসি সিরিয়ার সংকট সমাধানকে নিজেদের অন্যতম একটি অত্যাবশ্যকীয় সমস্যা বলে অভিহিত করেছেন.

তিনি আরও বলেন, সিরিয়া বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপের হুমকির মুখে রয়েছে এবং মিশর এর বিরুদ্ধে অবস্থান করছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ মনে করেন, জাতিসংঘের নীতিমালার অন্তর্গত থেকেই জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিরিয়ার সংকট সমাধান হওয়া উচিত. ল্যাভরোভ বলেন, “আমরা যে কোন প্রকার শক্তির অপব্যাবহার ও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি. তা সিরিয়ার সরকার বা অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর কাছ থেকেই হোক না কেন”.

মে মাসে সিরিয়ার হুলা শহরে যে হত্যাকান্ড ঘটেছিল তার তদন্তের জন্য সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ শুক্রবার একটি খসড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং ওই ঘটনার তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক কমিশনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে. উল্লেখ্য, হোমসের নিকটতম শহর হুলায় ৩০ জন শিশুসহ অন্তত ১০০ জনকে হত্যা করা হয়. বিরোধী দল ও পশ্চিমা এ ঘটনার জন্য সিরিয়ার সরকারকে দায়ী করে. খসড়ার বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন ও কিউবা.