লিবিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে আটক করতে সাহায্যকারী ২২ বছর বয়সী ওমর শাবানের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লিবিয়ার সরকার. ওই যোদ্ধাই প্রথম বলেছিলেন যে, তিনিই নিজের পিস্তল দিয়ে গাদ্দাফিকে গুলি করেন. লিবিয়ার জাতিয় কংগ্রেস শাবানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর হত্যাকারীদের বিচারের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে. আহতবস্থায় তিনি বানি ভালিদ শহরে ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার কোন পরিবর্তন হয় নি. পরে একটি ফরাসী ক্লিনিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন.

এদিকে একই সাথে বানি ভালিদ শহর অভিমুখে সেনারা এগিয়ে যাচ্ছে. স্থানীয় অধিবাসীরা আশঙ্কা করছেন যে, শাবানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হয়ত এখানে সামরিক অভিযান শুরু হবে.

সত্যিকার অর্থে কি ঘটেছিল?. রেডিও রাশিয়ার প্রতিনিধি এ প্রশ্নই করেছেন ওই এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দাকে. তার নাম জেইনাব খালিফা. তিনি বলেন, “লিবিয়ার প্রতিটি জনগনই জানেন যে, ওমর শাবান শুধুমাত্র গাদ্দাফির হত্যাকারীই নয় বরং ফৌজদারী আইনে একজন আসামী. লিবিয়ানরা কখনই তাকে জাতীয় নেতা হিসেবে মেনে নিবে না. আমাদের সবারই মনে আছে সেই বীভত্স ঘটনার কথা. গাদ্দাফির মরদেহ নিয়ে যা করা হয়েছিল. নেতা কি এমন আচারন করতে পারে?. কিছু দিন পূর্বে শাবান আহত হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর জীবন বাঁচায়. নিজেরাই শাবানের জন্য রক্ত দেয়. সুস্থ হওয়ার পর শাবান এলাকা ছেড়ে চলে যায়. দুই মাস পূর্বে বানি ভালিদ শহরে দুই জনকে আটক করা হয়. তাঁরা শহরের পরিস্থিতি ও বাসিন্দাদের অবস্থানের ওপর তথ্য সংগ্রহ করছিল. ওমার শাবান নিজের সমর্থকদের নিয়ে ওই আটক দুইজনকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে আনতে যায়. ওই সময় তিনি আবারও আহত হন এবং চিকিত্সার জন্য তাকে ফ্রান্সে পাঠানো হয়.

এর এখন আমি লিবিয়ার সরকারের ভূমিকা থামাতে চাই. শুরু থেকে সরকার বলে আসছে য, শহরে শাবানের ওপর হামলার ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই. আর এখন শাবানের মৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে সরকারি সেনাদের আমাদের শহরে মোতায়েন করতে চাচ্ছে. রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক সমস্যা সমাধান না করে সরকার লিবিয়ার বিভিন্ন শহরে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করা নিয়ে ব্যস্ত আছে. আর মানুষের জীবনের সম্পর্কের সাথে যদি তুলনা করা হয় তবে তাদের সাহায্য করার চেয়ে মেরে ফেলাই সহজ কাজ বলে মনে করেন”.

বানি ভালিদ শহরের বাসিন্দারা ভয়ে আছেন এই ভেবে যে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে. তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নিকোলাই স্তারিকোভ বললেন ভিন্ন কথা. সরকারের প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব হয়ত নেই. তিনি বলেন, “বর্তমান লিবিয়ায় কোন অভিন্ন রাষ্ট্রীয় আইন নেই. গোষ্ঠীভুক্ত সম্পর্কই হচ্ছে এখানে আইন. উপরন্তু, লিবিয়া বরং ফিরে গেছে তার অতীত জীবনে যা ৬০ বছর পূর্বে ছিল. সরকারি সেনাদের মোতায়েনের ওই সব হুঁশিয়ারি যা মূলত রাষ্ট্রের যে অস্তিত্ব রয়েছে তারই বার্তা দেওয়া”.

0অন্য বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে. যদি বানি ভালিদ শহরে সরকার সেনা মোতায়েন না করে তবে মিসুরাক শহরে যেখানে ওমার শাবানকে দাফন করা হয়েছে এবং এখানেই তার আত্বীয়-স্বজনরা বসবাস করছেন, সেখানে হয়ত নিজেরাই আন্দোলন গড়ে তুলবেন. আসন্ন সহিংসতা নিয়ে সবার মাঝে চরম উত্কণ্ঠা ছড়িয়ে পরেছে.