সিরিয়ার শহর গুলিতে সন্ত্রাসবাদী হানার আয়োজন বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সশস্ত্র জঙ্গীরা করছে, যারা বিদেশ থেকে এই দেশে ঢুকে পড়েছে. সিরিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা মন্ত্রক থেকে এই খবর দেওয়া হয়েছে. সিরিয়ার সেনা বাহিনীও নিজেদের পক্ষ থেকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে যে, আলেপ্পো শহরে বেশীর ভাগ যুদ্ধে নিহত ও বন্দী লোকেরা এসেছে বিদেশ থেকেই.

সিরিয়ার সরকারি দপ্তর গুলিকে হয়তো সন্দেহ করা যেত যে, তারা এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে কোন উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছে বলে. যেমন, তারা বুঝি বিশেষ করে উল্লেখ করতে চাইছে যে, যোদ্ধাদের লক্ষ্য সিরিয়া লোকদের কাছে আগ্রহ জনক নয়. কিন্তু সিরিয়ার শান্তি প্রস্তাবে রাজী না হওয়া বিরোধী পক্ষের মধ্যে যে বিদেশীদের সংখ্যা বাড়ছে, তা কিন্তু বলেছে স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম থেকেই. এই সম্বন্ধেই অংশতঃ বলেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের খুবই উচ্চপদস্থ কর্মী পাউলো সের্ঝু পিনেইরা ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে সিরিয়া প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমি.

আরও অন্য রকম সব সাক্ষ্যও রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে ইভগেনি এরমোলায়েভ বলেছেন:

“ফ্রান্সের শল্য চিকিত্সক ও “সীমান্ত বিহীণ চিকিত্সক” আন্দোলনের একজন স্রষ্টা ঝাক বেরেস সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের মধ্যে যোগ দিয়েছিলেন. তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তথাকথিত জঙ্গীদের মধ্যে লক্ষ্যণীয় ভাবে বিদেশীদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে আর তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই ধর্মোন্মাদ প্রকৃতির. অন্যান্য সূত্র থেকেও খবর পাওয়া গিয়েছে, প্রায় অর্ধেক থেকে তিনের চতুর্থাংশ সিরিয়া বিরোধী পক্ষের যোদ্ধারা অন্যান্য আরব দেশের নাগরিক. তাদের মধ্যে বহুল সংখ্যায় রয়েছে লিবিয়ার লোকজন. অন্যান্য দেশ থেকেও রয়েছে, যেখানে তথাকথিত “আরব বসন্ত” জয়লাভ করেছে – আর অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে. তাই যুক্তিসঙ্গত হবে মনে করলে যে, বহু ভাড়াটে যোদ্ধার জন্যই সিরিয়ার যুদ্ধ - শুধু অর্থ রোজগারের পথ মাত্র. অবশ্যই এর জন্য যে কোন লোকই তৈরী নয়, এমনকি যদি তার জন্য নিজের মাতৃভূমিতে কোন কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা নাও থাকে. কিন্তু তাও একটা প্রবণতা লক্ষ্য করতে পারা গিয়েছে. উল্লেখ করব, প্রসঙ্গতঃ সিরিয়াতে, গত দেড় বছরের যুদ্ধে, অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় নি – লোকে কাজ করতে বের হচ্ছেন, মাইনে পাচ্ছেন, ব্যাঙ্ক, কারখানা, দোকান পাট, বাজার ঘাট, সবই কাজ করছে. বোধহয়, এই বিষয়েই সেই সমস্ত ভাড়াটে সেনাদের দেখতে কষ্ট হচ্ছে, যাদের নিজেদের আপন জায়গাতেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আরও খারাপ. আর অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, যদি এই পরিস্থিতিতে বিদেশী ভাড়াটে যোদ্ধারা সিরিয়ার প্রশাসনের প্রতি, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাদের আনা হয়েছে, তাদের ঘৃণার বিষয়ে জোর না দিয়ে তার বদলে একেবারেই সিরিয়ার সমস্ত জনতার উপরেই ক্ষেপে ওঠে. এখান থেকেই সম্ভবতঃ কারণ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, কেন এই যোদ্ধারা তাদের দখলে আসা এলাকায় এই রকমের নৃশংস কাজ কারবার করছে, আর প্রশাসনের দখলে থাকা জায়গায় করে চলেছে সন্ত্রাসবাদী হানা”.

সেই সমস্ত অত্যাচার, যা সিরিয়াতে ভাড়াটে যোদ্ধারা সিরিয়ার শান্তিপূর্ণ জনগনের বিরুদ্ধে করে চলেছে, তার সামান্য অংশই যথেষ্ট হওয়া উচিত্, যাতে এদের সারা বিশ্বের লোকই অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদী বলে তকমা এঁটে দিতে পারে. কিন্তু পশ্চিম কোন ভাবেই তাড়াহুড়ো করছে না গণ হত্যার স্পষ্ট প্রমাণকে মেনে নিতে, যা সিরিয়াতে যোদ্ধারা করে চলেছে. যদিও নিজেদের কষ্ট করে চেপে ধরা মুখ থেকে মাঝে মধ্যে বলে ফেলছে যে, এদের মধ্যে অনেক চরমপন্থী রয়েছে, তারা আবার আল- কায়দার লোক. এই ধরনের দ্বিমুখী মত কি করে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে? এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কির মত তিনি নিজেই বলেছেন:

“শুরুতে তথাকথিত “আরব বসন্তে”, পশ্চিম দেখা গিয়েছিল যে, খেই হারিয়ে ফেলেছে. কিন্তু তার পরেই পরিবর্তনের অবধারিত ধাক্কায় চেষ্টা করেছিল, তাকে নিজেদের প্রয়োজনীয় দিকে নিয়ে যেতে. এর জন্য তারা নিকটপ্রাচ্যে তাদের আশাকেই উত্সাহিত করেছিল, যাদের মধ্যবিত্ত শ্রেনী বলা হয়ে থাকে, পশ্চিম পন্থী বুদ্ধিজীবিদের. কিন্তু এই সামাজিক স্তর এই এলাকায় খুবই ক্ষীণ. আর না তারা, না ঐস্লামিকরাও, এমনকি তাদের মধ্যে যারা চরমপন্থী সেই সব লোকও, তথাকথিত “আরব বসন্তের” পরে মাথা চাড়া দিতে পারে নি. আর যেহেতু পশ্চিমের আসল উদ্দেশ্য ছিল এই সব এলাকায় কোন গণতন্ত্র তৈরী করা নয়, বরং এই স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ এলাকার উপরেই নিয়ন্ত্রণ, তারা চরমপন্থীদের সঙ্গে একজোট হওয়াকে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে করেছে. এই রকমই হয়েছিল লিবিয়াতে, এই রকমই হচ্ছে সিরিয়াতে এখন. এই বিষয়ে দেখতে হলে সিরিয়াতে রক্তক্ষয়ের জন্য অনেকটাই যে বিদেশী যোদ্ধারা দায়ী তা যথেষ্ট রকমের ভিত্তি মূলক”.

তারই মধ্যে, এই ধরনের জোটের পরিণাম হবে খুবই দুঃখ জনক. নিকট প্রাচ্যের জন্য এটা পরবর্তী সময়ের অস্থিতিশীলতা ও নতুন করে ক্ষয় ক্ষতি. কিন্তু পশ্চিমের জন্য সালাফিত চরমপন্থী লোক দিয়ে তৈরী ক্ষমতাসীন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা কোন ভাল কিছুই করবে না. এটা প্রমাণ করে দিয়েছে এই অদ্ভুত মৈত্রীর পূর্ববর্তী অধ্যায় গুলি. এগুলির সবই অবধারিত ভাবে খারাপ দিয়েই শেষ হয়েছে, আর এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই. যেমন প্রবচনে রয়েছে, যদি নেকড়ে বাঘের সঙ্গে খেলতে যাও, তাহলে পরে ক্ষোভ দেখিয়ে কোন লাভ নেই যে, বাঘে কেন কামড়ায়.