রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদদের অষ্টম সম্মেলন কাজান শহরে শেষ হয়েছে. তাতারস্থানের রাজধানীতে প্রায় চারশো বিশেষজ্ঞ অংশ নিয়েছেন. নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, এখানের বিরোধে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অঙ্গ, যা নিয়ে আজ আরব দেশ গুলি ব্যতিব্যস্ত ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে.

বিষয় যা বাছা হয়েছিল, তা হঠাত্ করেই করা হয়নি, এই নিয়ে ব্যাখ্যা করে রেডিও রাশিয়াকে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিতালি নাউমকিন বলেছেন:

“বিশ্বের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বাধ্য করেছে, আমাদের আগের অনেক মূল্যায়ণ নতুন করে করার, আমাদের অবস্থান পাল্টাতে হয়েছে, আর এই ধরনের পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে দেখা যে, কি করে পারস্পরিক ভাবে কাজ করতে পারে সেই সব বিষয়, যেমন, সমাজ ও ধর্ম, রাজনীতি ও ধর্ম. এই সম্মেলনে নানা রকমের সংস্কৃতি ও সভ্যতার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে অনেক আলোচনা করা হয়েছে. আমি সভ্যতার লড়াই সংজ্ঞা এড়িয়ে যেতে চাই. আমি মনে করি যে, তা আদতে নেই. বিরোধের ঘটনা রয়েছে, খুবই সিরিয়াস সমস্যা রয়েছে. যুদ্ধও রয়েছে. আরব – ইজরায়েলের মধ্যে না সমাধান হওয়া সমস্যা রয়েছে. পশ্চিমের দেশ গুলির পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে অপারেশন চলছে. বোঝা যাচ্ছে না, ইরাকে পরিস্থিতি কি করে স্থিতিশীল হবে. এই সবই আমাদের, প্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের, বাধ্য করেছে খুবই মনোযোগ দিয়ে ঘটনা পরম্পরা দেখতে, যা অবশ্যই, আরব বসন্তের কথা মনে রাখলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যবস্থার মধ্যে সামগ্রিক ভাবে অনির্দিষ্ট বলে মনে হয়েছে”.

কাজান শহরের সম্মেলন দেখিয়ে দিয়েছে যে, রাশিয়ার প্রাচ্য গবেষণায় নতুন দিক যোগ হয়েছে – রাজনৈতিক প্রাচ্য গবেষণা, পরিবেশ সংক্রান্ত, জনসংখ্যা সংক্রান্ত ও বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস সংক্রান্ত, তাই ভিতালি নাউমকিন বলেছেন:

“পূর্বাভাস দেওয়া এই জন্যই মূল্যবান নয় যে, বিজ্ঞানীরা কিছু একটা আগে থেকে বলতে পারেন. আমরা তো আর গণক নই! আর বরং দরকার সেই জন্য যে, তা নির্দিষ্ট সমস্যার দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করে, বাধ্য করে সেই গুলিকে গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করার, তাদের প্রকৃতি বুঝতে সাহায্য করে আর হতে পারে যে, অতীত থেকে ভবিষ্যতের মধ্যে একটা সেতু বন্ধন করতে পারে. আমি মনে করি যে, বিজ্ঞান কোন পূর্বাভাস দেয় না. মানবিক বিজ্ঞান নানা রকমের ঘটনা পরম্পরা কল্পনা করে সেই সব মানুষকে দেখিয়ে দেয়, যারা ক্ষমতায় রয়েছেন, বিভিন্ন দিকে বিশ্বে কিভাবে পরিবর্তন আসতে পারে”.