চিনের পারমানবিক ক্ষমতা অনেকদিনই হল আর “কাগুজে বাঘ” নেই. খুব সম্ভবতঃ যে, চিন ইতিমধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় পারমানবিক শক্তি সম্পন্ন রাষ্ট্র হয়েছে, আর বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, তাদের এই ক্ষেত্রে রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে পিছিয়ে থাকাকে মোটেও মনে করা উচিত্ হবে না যে রকম ধরে নেওয়া হয়েছিল, ততটা পিছিয়ে থাকা বিষয়. এই রকমের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে রয়েছে, যা মস্কোতে পেশ করা হয়েছে.

“বৃহত্ পাঁচটি” রাষ্ট্রের মধ্যে চিন একমাত্র দেশ, যারা নিজেদের পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা ও ধরণ সম্বন্ধে কোন রকমের সরকারি সংবাদ প্রকাশ করে না. এটা উল্লেখ করেছেন এই রিপোর্টের এক লেখক, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির দ্ভোরকিন, তিনি বলেছেন:

“পারমানবিক পরিকল্পনা, চিনের পারমানবিক অস্ত্র সম্ভারের সংখ্যা খুব বেশী রকমেরই গোপনীয় তথ্য. অন্যান্য দেশের পারমানবিক পরিকল্পনার সঙ্গে তা কোন ভাবেই তুলনীয় নয়. চিন নিজেদের পারমানবিক অস্ত্রের অনেকটাই লুকিয়ে রেখেছে”.

বেজিং থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, তাদের পারমানবিক অস্ত্র ভাণ্ডার খুব বড় নয় আর তা কোন ভাবেই রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনার যোগ্য নয়. তারই মধ্যে চিনের পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে গোপনীয়তা মোটেও তার স্বল্প পরিমান বা সহজে ধ্বংস করার যোগ্য বলেই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে না. এর পিছনে থাকতে পারে বাড়তি পারমানবিক ক্ষমতা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা.

বিশেষজ্ঞরা নতুন সব তথ্য দিয়েছেন, যার ভিত্তি অংশতঃ গুপ্তচর বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও করা হয়েছে. গত বছরের শেষে চিন অস্ত্রে ব্যবহার যোগ্য ৪০ টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে ও তাছাড়া ১০ টন প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে. আর এর মানে হল যে, খুব সম্ভবতঃ, তাদের পক্ষে ১৮০০ টি পারমানবিক বোমা বানানো সম্ভব হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, এই অস্ত্রের অর্ধেক হয়তো দ্রুত ব্যবহার যোগ্য অবস্থায় তৈরী করে রাখা হয়েছে. এটা ভ্লাদিমির দ্ভোরকিনকে, যিনি তাঁর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অবসর নেওয়ার আগে পর্যন্ত স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন নিয়ে দেখাশোনা করতেন, তাঁকে একটা ভিত্তি দিয়েছে বলার:

“চিনের দুই থেকে তিন গুণ বেশী পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে, যা তাদের সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ মহলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তার চেয়ে সম্প্রতি করা মূল্যায়ণ থেকে, অংশতঃ, সুইডেনের স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বলা যেতে পারে, যে, এই অস্ত্রের পরিমান সম্বন্ধে সরকারি ভাবে স্বীকৃত ধারণা অনেকটাই কম করে করা, যা চিনের কাছে আসলে মজুদ থাকতে পারে”.

বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, চিনের পারমানবিক শক্তির অবমূল্যায়ণ খুবই বিপজ্জনক. বিশেষত চিনের পক্ষ থেকে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের কথা ভাবলে. তার উপরে এখন তা শুধু আর নিজেদের দেশের কাছাকাছি এলাকা বা সামুদ্রিক অঞ্চলেই তা সীমাবদ্ধ নেই. সারা বিশ্ব জুড়েই বেজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রমাণ হয়েছে চিনের নৌবাহিনীর বিশ্ব মহাসাগরে অভিযান দিয়ে, আর তারই সঙ্গে দূর জায়গায় নিজেদের সামরিক ভাবে ঘাঁটি গড়ার মতো জায়গা খোঁজা দিয়ে, অংশতঃ ভারত মহাসাগরে.

বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, চিন খুবই পরম্পরা রেখে নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক রকেটের গুণ মান ভাল করছে, মাঝারি পাল্লা ও যুদ্ধের প্রয়োজনের জন্য কৌশলগত রকেটের ক্ষেত্রেও তা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ, শেষ দুটি ধরনের রকেটের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আবার পারমানবিক অস্ত্র সজ্জিত করার ব্যবস্থাও হয়েছে.

প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের রিপোর্টে করা সিদ্ধান্ত “রেডিও রাশিয়ার” সামরিক বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিনের মনে হয়েছে মোটেও তর্কের উর্দ্ধে থাকা কোন বিষয় নয় বলেই, তিনি উল্লেখ করেছেন:

“চিন কৌশলগত পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করেছে, যখন তাদের সোভিয়েত দেশের সঙ্গে বিরোধ ছিল. কিন্তু এমন কোনও তথ্য নেই যে, তারা এটাকে গণ হারে বাড়িয়েছে, আর সেই গুলি এখন উড়ান প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে আর এই ধরনের রকেটের বোমা পারমানবিক”.

এই রিপোর্টের লেখকরা বরং উল্টো মনে করেন যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া চিন হল বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা পারমানবিক ক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে ফেলার মতো ক্ষমতা রাখে খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই. আর এই ক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে. আজকের পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের গোষ্ঠীর মধ্যে অন্য কোন একটি দেশের পক্ষেও ক্ষমতা আজ চিনের সঙ্গে তুলনার যোগ্য নয়.

চিনের রকেট – পারমানবিক ক্ষমতার দ্রুত বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ, প্রাথমিক ভাবেই, বোধহয় এক মর্যাদার প্রশ্ন. কিন্তু এটা কোন ভাবেই বাদ দিতে পারে না, তাদের পক্ষ থেকে সেই লক্ষ্য, যা তারা করে থাকতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পারমানবিক শক্তিকে আটকে রাখার জন্য, অথবা ভারতবর্ষ বা রাশিয়ার জন্যও. এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন খুবই সক্রিয় ভাবে “চিনের বিষয়ের” উপরে নজর দিতে, যখন রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন রকমের নতুন উদ্যোগ, যা পারমানবিক অস্ত্রের প্রসার রোধ বা কম করার জন্য নেওয়া হতে পারে, তখন. আর তা নেওয়া দরকার যেমন আলোচনা পর্যায়ে তেমনই পারমানবিক অস্ত্র সংক্রান্ত কোন রকমের এক তরফা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেও.