সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে জেনেভা সম্মেলনের চুক্তি না মানা রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভিত্তিমূলক নীতিকেই প্রশ্নের সম্মুখীণ করেছে. এই ধরনের দৃষ্টিকোণ নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় যোগ দিতে এসে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান প্রকাশ করেছেন. সের্গেই লাভরভ এখানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিকট প্রাচ্য নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন. এই বৈঠকে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আবারও নানা ধরনের মত প্রকাশ করা হয়েছে.

পরিষদের সভা বসার আগে সদস্য দেশ গুলির অবস্থান জানাই ছিল. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার অধিবেশনের মঞ্চ থেকে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা আবারও সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, সিরিয়ার জনগনের কষ্ট শেষ হবে বাশার আসাদের পতনের সঙ্গেই. এই ঘোষণা একটা চরমপত্রের মতই ছিল – যদি সিরিয়ার লোকরা আসাদকে সমর্থন করা বন্ধ না করে (আর দেশের অনেক জনতাই আগের মত রাষ্ট্রপতিকেই সমর্থন করে থাকে), তবে সিরিয়ার বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চলতেই থাকবে. ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রান্সুয়া অল্যান্দ আরও অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘকে আহ্বান করেছেন সিরিয়ার সেই সমস্ত এলাকা গুলিকে রক্ষা করার, যা বিরোধী পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করছে. অর্থাত্ – ঘটনার পরিবর্তনে লিবিয়ার মতো করেই সব কিছু করার.

বিশেষজ্ঞরা যেমন লক্ষ্য করেছেন যে, এই ধরনের বক্তৃতা স্পষ্টই সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়: সিরিয়াতে রক্তক্ষয় কেন হচ্ছে. নিরাপত্তা পরিষদে নিজের বক্তৃতায় সের্গেই লাভরভ এই বিষয়ের প্রতিই মনোযোগ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

“এই ক্রমাগত চলা রক্তক্ষয়ের খুব একটা কম দায়ভার সেই সমস্ত দেশের উপরে পড়ে না, যারা বাশার আসাদের বিরোধী পক্ষকে উসকানি দিচ্ছে অগ্নি সম্বরণে রাজী না হতে, আলোচনায় না বসতে, দাবী করাচ্ছে প্রশাসনের শর্তহীণ পদত্যাগের জন্য. এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু অবাস্তবই নয়, বরং বাস্তবে তা সন্ত্রাসবাদী পথই ধরিয়ে দিচ্ছে, যা প্রায়ই সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ নিয়েছে”.

বিগত দুই মাস ধরে সিরিয়াতে যত সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড হয়েছে, তা শুধু পশ্চিমের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়াই দেখতে পায় নি, এমনকি নিরাপত্তা পরিষদেও এর কোন সমালোচনা করা হয় নি. আর এটা এমনকি সেই সব বিষয়ে না দেখেও যে, জেনেভার চুক্তি অনুযায়ী পরস্পর বিরোধী পক্ষ এই ধরনের পদ্ধতি থেকে বিরত হবে বলেই ঠিক করা হয়েছিল. সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্মেলনে সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন:

“প্রধান হল যে, জেনেভা সম্মেলনের সমস্ত অংশগ্রহণকারীরা যেন এই চুক্তির থেকে নিজেদের সহমত তুলে না নেন. সন্ত্রাসবাদী ঘটনার সংবাদে আমাদের কিছু সহকর্মী দেশ খুবই বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন আর ঘোষণা করেন যে, সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড কারখানা – “এটা খারাপ ঠিকই, কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই সব লোকদের কথা হচ্ছে, যারা এক রক্তাক্ত প্রশাসনের থেকে উদ্ধার পাওয়ার বিষয়ে সমস্ত রকমের আশা হারিয়েছে”. এটা খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থান, যা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার পথেই গড়িয়ে যাবে”.

“কাজের গোষ্ঠীর” জেনেভা সম্মেলনের কমিউনিকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী সদস্য দেশ গুলি সমর্তন করেছিল, আরব লীগ, তুরস্ক, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবেরও তাতে সায় ছিল. কিন্তু কিছু দেশের জন্য এই দলিল সেই কাগজের লেখা হয়েই রয়ে গিয়েছে. তারা নিজেদের কোন রকম ব্যবস্থা না নেওয়াকে সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সিদ্ধান্তের অভাব রয়েছে বলেই ব্যাখ্যা করছে. রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে: জেনেভার বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য নতুন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই. এই মত রাশিয়ার ব্রিকস দেশ গুলির সহকর্মীরাও সমর্থন করেছেন, আর তাদের মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসাবে রয়েছে রাশিয়া ও চিন. সাধারন সভার কাঠামোর মধ্যে ব্রিকস দেশ গুলির সদস্যরা জেনেভার বিজ্ঞপ্তির সমর্থনে এক সম্মিলিত ঘোষণা নিয়েছে, যাকে বলা হয়েছে সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ভিত্তি বলেই.

সিরিয়াতে পরিস্থিতি – মোটেও এই এলাকায় একমাত্র সমাধান না হওয়া সমস্যা নয়, এই বিষয়ে তা ভোলা যায় না. এরই মধ্যে প্যালেস্টাইন – ইজরায়েল বিরোধের সমাধানের প্রচেষ্টাও বিগত বছর গুলিতে হিমঘরে পাঠানো অবস্থায় রয়েছে, তাই সের্গেই লাভরভ যোগ করে বলেছেন:

“রাশিয়া খুবই জোর দিয়ে আহ্বান করছে নিকটপ্রাচ্য সমস্যার সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী “চতুষ্টয়কে” আরব লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যত দ্রুত সম্ভব প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের মধ্যে আলোচনা শুরু করার ব্যবস্থার জন্য. আমরা মনে করি খুবই সিরিয়াস ভুল হয়ে যাবে এই বারের রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার অধিবেশনের সময়ে সমস্ত পক্ষের রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে “চতুষ্টয়ের” পক্ষে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ব্যবস্থা না করা”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের অধিবেশনের নেপথ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে – ইজরায়েল – প্যালেস্টাইন বিরোধে মধ্যস্থতাকারী “চতুষ্টয়ের” বৈঠক সম্ভবপর হয় নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনিচ্ছার জন্যই.