বারাক ওবামা মনে করেন যে, মুসলমানরা নির্দোষ সিনেমা শুধু ঐস্লামিক রাষ্ট্র গুলির জন্যই নয়, বরং আমেরিকার জন্য অপমানজনক. তা স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার সামনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন: আমেরিকার লোকদের জন্য সংবিধানে ঘোষিত বাক্ স্বাধীনতা বেশী গুরুত্বপূর্ণ, এই ট্রেলার দেখানোর সম্ভাব্য পরিণতির চেয়ে. সুতরাং আমেরিকার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে এই ট্রেলার আমেরিকার নেট প্রভাইডার কোম্পানী গুলি করবে না.

দেখা গিয়েছে যে, মোটেও সমস্ত দেশ আমেরিকার সংবিধান ও তার যে ব্যাখ্যা বারাক ওবামা করেছেন, তা সমর্তন করে না. ব্রাজিলের সরকার, যাদের ওয়াশিংটন এখনও এমনকি গণতন্ত্রের সংকোচন করছে বলে সন্দেহ করতেও শুরু করে নি, তারা ১০ দিনের মধ্যে এই “মুসলমানরা নির্দোষ” ছবির ট্রেলার ইন্টারনেটে দেখতে পাওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করার দাবী করেছে.

বিশ্বের কুড়িটিরও বেশী দেশে আমেরিকা বিরোধী প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল আর লিবিয়ার বেনগাজী শহরে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন নাগরিক নিহতও হয়েছেন, তার মধ্যে রাষ্ট্রদূত ক্রিস স্টিভেন্স রয়েছেন. এই ট্রেলার এখনও ইন্টারনেটে প্রচার পাচ্ছে – আর তারই সঙ্গে ধর্মভীরু মানুষদের আবেগের ঘূর্ণিকে করছে উত্তপ্ত.

এই ট্রেলারের প্রকাশ যে একটা হিসেব করে করা প্ররোচনা, তা বোঝা গিয়েছে. প্রশ্ন হল যে, কোথায় সেই পুতুল নাচিয়ে আছে, যে সুতো ধরে সেই সমস্ত “সমাজকর্মী” যেমন, টেরি জোনস, তাদের নাচাচ্ছে. আমেরিকার এই প্যাস্টর, ইতিমধ্যেই দুবার কোরান জ্বালিয়েছেন, আর মনে করা যেতে পারে যে, খুবই সন্তোষের সঙ্গে দেখেছেন মুসলিম সমাজে তার উপযুক্ত প্রতিক্রিয়াও. দ্য ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী তিনিই এবারে এই “চমকানো সিনেমার” প্রোডিউসারের ভূমিকায় ছিলেন, আর নিজেই তাঁর ভক্তদের এই ট্রেলার দেখিয়েছেন. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও আজকের এই নাটকে প্যাস্টরকে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় সারির ভূমিকা. এই ট্রেলার শুধু আরব ভাষায় অনুবাদ করে ইন্টারনেটে রাখাই সব ছিল না, দরকার ছিল তার দিকে আবার আঙ্গুল দিয়ে উল্লেখ করার, এই কথাই উল্লেখ করে রাজনৈতিক ছক নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

““মুসলমানরা নির্দোষ” সিনেমা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল টেরি জোনস এই সিনেমার সঙ্গে সরাসরি কোন সম্পর্কই রাখে না. আর এর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে খুব সম্ভবতঃ সৌদি আরব. এই ট্রেলার দু মাসের বেশী সময় নিয়ে ইন্টারনেটে ছিল, আর কেউই তার প্রতি কোনও মনোযোগ দেয় নি. আর সব কিছুই শুরু হয়েছে যখন ইজিপ্টে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রিত একটি টেলিভিশন চ্যানেল কোন অবোধ্য কারণে নিজেদের নেটওয়ার্কে নিয়ে দেখিয়েছিল. আমি প্রায় নিশ্চিত যে, সৌদি আরবের লোকরা বুঝেই এই কাজ করেছে, টেলিভিশনে এটা দেখিয়ে”.

আর কার জন্য এটা বেশী লাভজনক? কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, এই ট্রেলার প্রচার করার মধ্যে জড়িত বারাক ওবামার নির্বাচনের বিরোধী পক্ষের লোকরা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির প্রথম শাসনের সময়ের একটি ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ঐস্লামিক বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা. এটা “আরব বসন্তে” পরিণত হয়েছিল. তাই বারাক ওবামার জন্য এই রকমের “বেদনা দায়ক” একটা জায়গাতেই ওবামা বিরোধীরা আঘাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এই রকম মনে করে ইরানের টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক হাসান বেহেস্তিপুর বলেছেন:

“আমার মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্কালের সঙ্গে ইন্টারনেটে এই স্ক্যান্ডাল তৈরী করা সিনেমা প্রচার করা - সরাসরি ভাবে যুক্ত. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন সব গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের জন্য এই রকমের একটা সম্পূর্ণ রকম ভাবেই অনুমান যোগ্য স্ক্যান্ডাল রাজনৈতিক লাভ আনতে পারে. রিপাব্লিকান দলের একটি প্রভাবশালী প্রবাহ রয়ে গিয়েছে আধুনিক সংরক্ষণশীল পক্ষ. আর তাদের ডেমোক্র্যাটিক দলের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার রাজনীতি একেবারেই পছন্দের বিষয় নয়”.

কিন্তু এমনকি প্রাক্ নির্বাচনী খেলা, যার দাম মানুষের জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে – এটা এখনও সবচেয়ে খারাপ নয়. মুসলমানদের এই ট্রেলারের প্রতি প্রতিক্রিয়া অবশ্যই সেই কারণের সঙ্গে তুলনা মূলক হয় নি – একটা অর্ধেক অপেশাদার সিনেমা, যা কয়েকজন লোককে দিয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে হয়ত তোলা হয়ে থাকবে – তার সঙ্গে. এটার উপরেই এই পরিকল্পনা যারা করেছে, তারা আশা করে থাকবে. পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ ঐস্লামিক বিশ্বকে দেখাতে বাধ্য ছিল এক আগ্রাসী ভূমিকায় ও পশ্চিমের দুনিয়াকে তা ভয় পেতে বাধ্য করত. আর পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ, যা হয়তো এখনই পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তারই জন্য জমি তৈরী করতে করা হয়েছে.