মুহম্মর গাদ্দাফি একজন ধর্ষকামী ও লম্পট প্রকৃতির লোক ছিলেন. এই রকম লিবিয়ার জামাহিরির নেতাকে এক ফরাসী মহিলা সাংবাদিক অ্যানিক কোঝানের বইতে বর্ণনা করা হয়েছে. তার তথ্য অনুযায়ী গাদ্দাফি নিজের জন্য এক গুপ্ত হারেম তৈরী করেছিলেন, যেখানে স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীরা আটকে পড়েছিল. এটা কি – এক স্বৈরতন্ত্রী নেতার সম্বন্ধে সত্য বর্ণনা করা হচ্ছে, নাকি পশ্চিমের আরব দেশ গুলির বিরুদ্ধে তথ্য যুদ্ধের আরও একটি পাক?

অ্যানিক কোঝানের “গাদ্দাফির হারেমের বন্দী” নামের বই লিবিয়ার উত্খাত ও নিহত শাসকের যৌন অপরাধ নিয়ে লেখা. “আব্বা গাদ্দাফি” – সাংবাদিকের ভাষায় গাদ্দাফি নিজেকে এই নামেই ডাকা হোক বলে মনে করেছেন – তাঁর চরিত্র একেবারে ন্যক্কার জনক এক ধর্ষকামী লোকের মত করে লেখা হয়েছে, যার জন্য ধর্ষণ ছিল স্বাভাবিক ও প্রত্যহের ক্রিয়া কর্ম. যোগাড় করা তথ্য থেকে বোঝানো হয়েছে যে, এই স্বৈরতন্ত্রী শাসকের হারেমে ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কা সমস্ত লুঠ করে আনা মেয়েরা, যাদের তিনি বিভিন্ন উত্সবের সময়ে খেয়াল করে রাখতেন.

এই স্ক্যান্ডাল তৈরী করা প্রকাশনা নিয়ে এর মধ্যেই যারা কর্ণেলকে ব্যক্তিগত ভাবে জানতেন তাঁরা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন. তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এটা মোটেও নিহত গাদ্দাফির স্মৃতিকে কলঙ্কিত করার প্রথম চেষ্টা নয়. কেন এই সমস্ত রকমের ফাঁসানোর চেষ্টা আগে করা হয় নি, যখন নেতা জীবিত ছিলেন? – এই রকমই একটা বহু সংজ্ঞাবহ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন ওমান রাষ্ট্রের লেখক ও রাজনীতিবিদ এবং গাদ্দাফির এক বন্ধু আলি বিন মাসুদ, তিনি বলেছেন:

“তাদের জন্য যারা এক দেশের নেতাকে হত্যা করেছে, যথেষ্ট নয় যে, তাঁকে শারীরিক ভাবে হত্যা করাই, তাদের এখন দরকার তাকে মানসিক ভাবেও হত্যা করার. অর্থাত্ মুহম্মর গাদ্দাফির ব্যক্তিত্ব, তাঁর সন্দেহের উর্দ্ধে থাকা শক্তিশালী দিক গুলি ও অসাধারণ সমস্ত মানসিক গুণ তাদের জন্য তাঁর শারীরিক ভাবে উপস্থিতির চেয়ে কিছু কম বিপজ্জনক নয়. তাই তারা আগে তাঁকে হত্যা করেছে, আর এখন এমন করতে চাইছে যে, যাতে মুহম্মর গাদ্দাফির সম্বন্ধে মানুষের মনে ভাল কিছু থেকে না যায়”.

খোদ ফ্রান্সেই এই বই বের হওয়া খুবই কড়া প্রতিক্রিয়া হয়েছে. অনেক ফরাসী লোককেই বিশ্বাস করানো সম্ভব হয় নি যে, গত বছরে ন্যাটো জোটের লিবিয়ার বিরুদ্ধে অপারেশন ছিল লিবিয়ার জনসাধারনের জন্য একমাত্র উদ্ধারের পথ. কোন কারণ ছাড়াই ইতিমধ্যেই নৃশংস ভাবে হত্যা হওয়া গাদ্দাফির বিরুদ্ধে এই বইয়ের কথা সেই সব সংবাদ মাধ্যমই প্রচার করছে না, যারা তার পতনের জন্য আগেও উত্সাহ দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক তথ্য ও আলোচনার সাইট “ভল্তেয়র নেট” এর প্রধান তিয়েরি মেইস্সান বলেছেন:

““লে ম্যণ্ড” সংবাদপত্র সেই সময়ে বেআইনি অনুপ্রবেশকে সমর্থন করেছিল. লিবিয়ার যুদ্ধে প্রায় এক লক্ষ ষাট হাজার লোকের প্রাণ গিয়েছে. শুধু ন্যাটো জোটের একটি অপারেশন, যা ত্রিপোলি শহর দখলের জন্য করা হয়েছিল, তাতে মারা গিয়েছিলেন ৪০ হাজার লোক. আর “লে ম্যণ্ড” সেই সময়ে বহুল প্রসারিত অপপ্রচারের কাজে অংশ নিয়ে এখন চেষ্টা করেছে, কিছু একটা করে নিজেদের অবস্থানকে সমর্থন করার. দেশ চালানোর বিষয়ে কর্নেল গাদ্দাফির প্রশাসনের বিপক্ষে কোন সিরিয়াস যুক্তি খাড়া না করতে পেরে, এই সব লোকরা এখন লিবিয়ার নেতার ব্যক্তিগত জীবনের বিশদ বর্ণনার খুঁটিনাটি বার করে আনার কাজে লেগেছে. আর সবই এই কারণে করা হচ্ছে যাতে একজন লোককে অপমান করা যেতে পারে, যার এমনকি আত্ম পক্ষ সমর্থনের জন্যও কোন উপায় নেই”.

মেইস্সান মনে করেন যে, যদি “স্বৈরতন্ত্রী” বলার অর্থ হয় গণহত্যা, তবে তা বেশীর ভাগ পশ্চিমের নেতার সম্বন্ধেই বলা যেতে পারে. উদাহরণ হিসাবে, বারাক ওবামা নিজেই স্বীকার করেছেন যে, প্রতিদিন সকালে তাঁকে কার্যকরী কমিটির সভায় অংশ নিতে হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশে, “যেখানে আমেরিকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট” হয়ে রয়েছে, তাতে সম্ভাব্য নিহতদের সংখ্যা স্থির করতে হয়. আর সেই সব ইউরোপের নেতারা, যারা লিবিয়াতে সেনা বাহিনী পাঠিয়েছিলেন, তারা নিজেরা কি জানতেন না যে, শান্তিপ্রিয় জনগনের মধ্যে কত জন তাদের কাজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে.

প্রাচীন কালে কোন শহরের বিরুদ্ধে, যেখানে খুবই কঠোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হত, তা একবার জয় করতে পারলে ধূলিসাত্ করে দেওয়া হত. আর তার এলাকা হাল দিয়ে চষে ফেলা হত – যাতে এমনকি স্মৃতিও না থাকে. এখন যুদ্ধ শুধু ভূমিতেই হয় না, অন্তরীক্ষে ও জলেও চলছে, তার সঙ্গেই চলছে তথ্য সমুদ্রেও. তাকেই আজ পশ্চিম চেষ্টা করেছে “হলকর্ষণ” করতে – শুধু নিজেদের জন্য লাভজনক স্মৃতিটুকুই থাকতে দিয়ে.