মস্কোর থেকে দুশো কিলোমিটার দক্ষিণে রাশিয়ার প্রাচীন শহর তুলায় এক অন্য ধরনের ফ্ল্যাশমব হয়েছে. প্রায় তিন হাজার যুবক যুবতীরা এমন ভাবে সার দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যাতে এই শহরের প্রতীক সামোভারের মতন দেখায়. এই বারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই মানুষের তৈরী সামোভারের প্রতীকের কথা গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে লেখা হতে চলেছে.

তুলা বহু প্রাচীন সময় থেকেই অস্ত্র ও সামোভারের জন্য বিখ্যাত. এখানে ঐতিহ্য মেনেই খুবই উন্নতি ছিল কামারশালা ও সেই রকমের ওস্তাদী কাজকর্ম. তাই তুলা শহরের ওস্তাদদের আগে তৈরী করতেন তরোয়াল ও ছোরা, তারপরে এখানে তৈরী হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরীর কারখানা. শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার যোগ্য এই শহরের কিছু উত্পাদিত জিনিষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিখ্যাত তুলা শহরের সামোভার. এই শহরে সামোভারের উত্সব করার ধারণা অবশ্য রাশিয়ার একটি প্রধান মোবাইল টেলিফোন পরিষেবা কোম্পানীর কাছ থেকে পাওয়া. আর বাস্তবে তা তুলার রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরাই পরিণত করেছিল. এই মোবাইল কোম্পানীর তুলা শহরের জন সংযোগ ম্যানেজার ওলেগ বলশাকভ রেডিও রাশিয়াকে এই সম্বন্ধে খবর দিয়ে বলেছেন:

“এই কাজটা ফ্ল্যাশমব হিসাবে করা হয়েছিল, যা তুলা শহরে বিখ্যাত স্থানীয় উত্পাদন বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য করা হয়েছে. শহরের মূল চত্বরে চারপাশের স্থাপত্যের মাঝেই এটা করা হয়েছে – তুলার কেল্লা ও তুলা শহরের সামোভারের জাদুঘরের সামনে. এখানে যারা যোগ দিয়েছিলেন, তাদের সকলকে নিয়ে একটা বিশাল সামোভারের মত আকার তৈরী করা হয়েছিল, যা ফোটো ও ভিডিও করা হয়েছে, তার মধ্যে আবার আকাশ থেকেও ছবি নেওয়া হয়েছে”.

এই বিশাল সামোভার হয়েছে একটা ফুটবল মাঠের মতো বড় জায়গায় – ৪০ মিটার প্রস্থ ও ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য জুড়ে. বলশাকভ যোগ করে বলেছেন:

“এটা আমাদের কোম্পানীর তরফ থেকে নেওয়া প্রথম উদ্যোগ নয়, যা করা হয়েছে তুলার ওস্তাদ কারিগরদের বিরল ধরনের উত্পাদন ও সেই কারিগরী বিদ্যার উন্নতির কথা ভেবে. ২০০৮ সালে তুলা শহরে তৈরী এক বিশাল ছাপা পিঠে, যা তৈরীর উদ্যোগ আমরা নিয়েছিলাম, তা রাশিয়ার বুক অফ রেকর্ডসে জায়গা পেয়েছে”.

তুলার আরও একটি প্রতীক বিশেষ ধরনের স্বাদ ও আকারের পিঠে. আর এই নতুন ফ্ল্যাশমব সকলকে আবার করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, তুলাই হল রাশিয়াতে সামোভারের জন্মস্থান, যা সারা বিশ্বেই বহুকাল ধরে রাশিয়ার সঙ্গেই একসাথে মনে করা হয়ে থাকে. এখানে প্রথম সামোভার তৈরীর কামারশালা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে. বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই শহরে ৬০টিরও বেশী কারখানা কাজ কত, যেখানে ১৬০ রকমের সামোভার তৈরী করা হত.

এই ধরনের কারিগরী দিয়ে তৈরী নানা রকমের আকৃতির সামোভার তুলার সামোভারের জাদুঘরে দেখতে পাওয়া যায়. এখানে অংশতঃ ১৯০৯ সালে রাশিয়ার সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাইয়ের ছেলেমেয়েদের উপহার দেওয়া পাঁচটি খুবই ছোট্ট সামোভার দেখতে পাওয়া যায়. সব চেয়ে ছোট সামোভারের মধ্যে স্রেফ তিন ফোঁটা জল ধরে, আর সবচেয়ে বড়টার মধ্যে ধরে ৪৫০ লিটার. প্যারিস, চিকাগো, লন্ডন এই সব শহরে নানা প্রদর্শনীর সময়ে তুলা শহরে তৈরী সামোভার উত্কর্ষের জন্য নানা সময়ে অনেক পুরস্কারের মেডেল পেয়েছে.