ইচ্ছা করে ধর্ম বিশ্বাসী লোকদের অনুভূতিকে আঘাত যারা করবে, তাদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে আসন্ন ভবিষ্যতেই. রাশিয়ার লোকসভাতে ফৌজদারী মামলা সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে সংশোধন আনার জন্য এই আইন নেওয়া হচ্ছে. মনে করা হয়েছে যে, নতুন ধারা, - “নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের অবমাননা” – শুধু ধর্মীয় পবিত্র স্থলগুলিকে নষ্ট ও ধ্বংস করার জন্যই নয়, বরং নাগরিকদের ধর্ম বিশ্বাসে প্রকাশ্যে অবমাননা করা হলেও প্রয়োগ করা যাবে.

এক লক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ রুবল জরিমানা (তিন থেকে পনেরো হাজার ডলার) এবং ৪০০ ঘন্টা বাধ্যতামূলক সামাজিক শ্রম অথবা কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারবে পাঁচ বছর অবধি – এই রকম ধরনেরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ধর্মবিশ্বাসীদের সেই সমস্ত বিকৃত কার্যকলাপের থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য, যা তাঁদের জন্য মূল্যবান, সেই সব কিছুর উপরে, এই রকম বিশ্বাস নিয়েই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় লোকসভার সামাজিক সংস্থা ও ধর্মীয় সংগঠন সংক্রান্ত পরিষদের সভাপতি সের্গেই পাপোভ, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“আমরা নতুন কিছুই ভেবে বার করছি না. আমাদের আগেও এই ধরনের ধারা ছিল আর আমরা শুধু এই টুকুই বলছি যে, এই ধারাকে আবার করে ফিরিয়ে আনা দরকার. প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট ঘটনারই আদালতে বিচার করা হবে. ফৌজদারী মামলা সংক্রান্ত নিয়মাবলীতে লেখা হবে এই সব অপরাধ কি ধরনের ও তার প্রত্যেকটির জন্য আলাদা করে শাস্তির কথা. আর তারপরে বিচারপতি স্থির করবেন প্রত্যেক অপরাধের গুরুত্ব ও আইন ভঙ্গের পরিধি দেখে, কাকে কতটা শাস্তি দেওয়া দরকার”.

রাশিয়ার সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের নিয়ম ভঙ্গের জন্য ফৌজদারী আইন প্রয়োগের সম্ভাবনা খুবই বড় মাপের বিতর্কের উদ্রেক করেছে. নতুন ধারার প্রতিপক্ষের লোকরা বলছেন যে, এই ধারা গৃহীত হলে, রাশিয়াকে আর ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলা সম্ভব হবে না, যা দেশেরই সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে. এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের নাগরিকদের পছন্দ ও সাম্যের পরিপন্থী, এই রকম মনে করে মানবাধিকার রক্ষা কর্মী সের্গেই কভালিয়েভ বলেছেন:

“অধিকারের বিষয়ে সাম্যের নীতিকে খুবই দৃঢ় ভাবে আগলে রাখতে হবে. কোন একটা দলের লোকদের জন্য অবমাননা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আলাদা করে আইন থাকা, দেশের সংবিধান সম্মত নয়. তার ওপরে আমাদের দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ ও গির্জা ও তার ভক্তরা দেশের অন্য গোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গে কোন আলাদা রকমের বিশেষ সুবিধা পেতে পারে না”.

রাশিয়ার অর্থোডক্স গির্জায় আবার উল্টো, বিশ্বাস করা হয়ে থাকে যে, এই আইন প্রয়োজন, যা দেশে ধর্মবিশ্বাসীদের অনুভূতির রক্ষার জন্যই দরকার. এটা গির্জার প্রয়োজন নয়, সমাজেরই প্রয়োজন, এই রকম ব্যাখ্যা করে ধর্ম যাজক ইগর ফোমিন বলেছেন:

“আসলে এই আইন সেই সমস্ত লোকদের প্রয়োজন, যারা সমাজে সংস্কৃতিবাণ হয়ে উঠতে পারেন নি. সংস্কৃতি – আসলে একটা নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা মাত্র. আর সেই লোক, যে অন্যকে সম্মান দিতে শেখে নি, তারই দরকার, বোধহয়, এই ধরনের আইনের”.

রাশিয়ার ঐস্লামিক সমাজে একই সঙ্গে মনে করা হয়েছে যে, ধর্মীয় মতবাদের বিরুদ্ধে কাজ কর্মের জন্য দায়ভার বৃদ্ধি করা - ব্যবস্থা বাধ্য হয়ে করতে হলেও, প্রয়োজনীয়. এই বিষয়ে মুফতি আলবের ক্রগানভ বলেছেন:

“অবশ্যই, প্রশাসনিক ব্যবস্থাই সঠিক হত. কিন্তু অন্য দিক থেকে দেখলে, যখন আগে থেকেই ইচ্ছা করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তখন শাস্তিও হওয়া উচিত্ বেশী করেই কঠিন. কিন্তু এটা শতকরা একশ ভাগ নির্মূল করা সম্ভব হবে না. আমরা এক গণতান্ত্রিক দেশে থাকি, আর গণতন্ত্রের মূল্যবোধ অনস্বীকার্য, যদিও এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কথা মোটেও গণতন্ত্র নিয়ে হচ্ছে না, বরং হচ্ছে মূল্যবোধের অভাব নিয়েই”.

ঈশ্বর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ন্যক্কার জনক আচরণ ও ধর্মবিশ্বাসীদের অনুভূতির অবমাননা করার জন্য বিশ্বের তিরিশটিরও বেশী দেশে খুবই কঠিন সাজা দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, বিশ্ব সমাজে এখনও অবধি বিতর্ক চলছে, কতটা প্রয়োজন কঠিন ব্যবস্থার নেওয়ার, তা নিয়ে. বহু বিশেষজ্ঞই মনে করেন যে, ধর্ম অবমাননার জন্য সবচেয়ে ভাল বিষ দূর করার উপায় মোটেও কড়া শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন নেওয়া নয়, বরং নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ধর্মবিশ্বাসীদের অধিকার ও হিংসার জন্য আহ্বানের সমালোচনাই.