দানাশষ্য উত্পাদক মূল দেশ গুলিতেই এই বছরের খরার ফলে বিশ্বের বাজারে গমের দাম বাড়ছে. সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে বিরল রকমের গ্রীষ্মের দাবদাহে অধিকাংশ ফসলই জ্বলে গিয়েছে. রাশিয়াও এই বছরে খরার ফলে কম শষ্য উত্পাদন করতে পেরেছে. তা স্বত্ত্বেও সরকার বিদেশে রপ্তানীর বিষয়ে কোন রকমের বাধা নিষেধ আরোপ করে নি. বিশেষজ্ঞদের মতে এই পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বিশ্বের বাজারে দানাশষ্যের দামে স্থিতিশীলতা আসতে পারে.

বছরের শেষে খাদ্য বস্তুর দাম বাড়া, এই বারে অনেক বেশী হতে পারে পূর্বাভাসের চেয়েও. এর জন্য দোষী বিশ্বের মূল কৃষিজাত দ্রব্য উত্পাদক অঞ্চল: অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারতবর্ষ ও রাশিয়াতে খরা. সবচেয়ে বেশী ক্ষতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্পাদন হ্রাস হওয়ার ফলেই হতে চলেছে, আর প্রাথমিক ভাবে ভুট্টার ফলন কম হওয়ার ফলে. এই গৃহ পালিত প্রাণীদের খাদ্য বস্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানীর বিষয়ে প্রধান – আর তা পশুপালনের ক্ষেত্রেও মূল. এখন বিশ্বে ইতিমধ্যেই মাংস, দুধ ও অন্য কিছু জিনিষের দাম বেড়ে গিয়েছে. বছরের মাঝামাঝি সময়ে মাসিক মূল্যবৃদ্ধির হার শতকরা পাঁচ শতাংশ হয়ে গিয়েছিল, আর এটাই শেষ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন.

ফলনের বিষয়ে বর্তমানে প্রধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যশষ্য উত্পাদনের হার কমায় অনেক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বাজারে, কারণ তারা এখনও নিজেদের ক্ষতির পরিমান ঘোষণা করে নি. এই ধরনের অনির্দিষ্ট অবস্থা চুক্তির ক্ষেত্রে গমের দাম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে. এই পরিস্থিতিতে একমাত্র সঞ্চয় করা শষ্য কোনও একটা স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে পারে, যা রাশিয়ার কাছেও রয়েছে. কিন্তু এই বছরে খরার ফলে এর পরিমানও কম হয়েছে, এই রকম কথা উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ নিকিতা মাসলেন্নিকভ বলেছেন:

“ভারতবর্ষ বিশ্বের বাজারে প্রায় চল্লিশ লক্ষ টন দানাশষ্য ছাড়তে পারে, অন্যেরা পারে প্রায় দশ লক্ষ টন করে. রাশিয়ার এই বছরে রপ্তানীর ক্ষমতা কম. ফলনের বিষয়ে পূর্বাভাস প্রতি দিনই কম করে বলা হচ্ছে. আমরা ৭ কোটি ৩০ লক্ষ টন অবধি ফসল তুলতে সক্ষম হবো. দেশের ভিতরেই কিন্তু স্থিতিশীল ভাবে বাজারের প্রয়োজন হয় ৭ কোটি ১০ লক্ষ টন”.

অনেক অন্য বিশেষজ্ঞরা কিন্তু এই পরিস্থিতিকে মোটেও সঙ্কট বলে মনে করছেন না. যেমন “অ্যাগ্রোপ্রম” কোম্পানীর জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই দ্যুমুলেন উল্লেখ করেছেন যে, খরা ও তার সঙ্গে জড়িত বাজারের উদ্বেগ – একটা নিয়মিত ভাবে ঘটা আবর্তনের মতই ব্যাপার. তা গড়ে প্রতি চার বছরে একবার করে হয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ, ২০০৮ সালেই গত দশকের মধ্যে সবচেয়ে গভীর খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছিল, যা ছিল খরার কারণেই তৈরী. এখন সমস্ত আলোচনা যা দানাশষ্য কম পড়বে বলে করা হচ্ছে, তার অনেকটাই রাজনৈতিক ধান্ধাবাজী, তাই দ্যুমুলেন উল্লেখ করেছেন:

“আমার মনে হয় যে, আর্জেন্টিনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি খুব দ্রুত খারাপ হবে না. একই সঙ্গে হিসেবের মধ্যে রাখা দরকার যে, দানাশষ্যের বাজার, খনিজ তেলের বাজারের মতই, অনেকটাই কাগজে কলমে করা হয়ে থাকে. দানাশষ্যের অভাব কৃত্রিম ভাবে তৈরী করা যেতে পারে, আরব দেশ গুলির উপরে রাজনৈতিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করার জন্য. এটা একটা চাপ দেওয়ার অস্ত্রও বটে”.

রাশিয়ার প্রশাসন এর মধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, খরা স্বত্ত্বেও বিদেশে দানাশষ্য রপ্তানীর বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞা করা হবে না. ২০১০ সালে শুধু নিষেধাজ্ঞা নিতে হয়েছিল, যখন খরার ফলে দেশে রেকর্ড পরিমানে কম ফসল হয়েছিল. এখন পরিস্থিতি খুবই সঙ্কট জনক নয় ও রপ্তানীর বিষয়ে কোনও নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই, এই কথাই উল্লেখ করা হয়েছে মন্ত্রীসভায়. সুতরাং রাশিয়া বিশ্বের দানাশষ্যের বাজারের একটি প্রধান ক্রীড়নকের মতই এর স্থিতিশীলতার বিষয়ে সাহায্য করবে. তারই সঙ্গে প্রশাসনের কাছে দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানোর জন্য অনুপ্রবেশের উপকরণ ব্যবহার করে দেখার উপায় রয়েছে.

রাশিয়া, বিশ্বের বাজারে দানাশষ্যের স্থিতিশীলতা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে, প্রস্তাব করেছে খাদ্য নিরাপত্তার প্রসঙ্গে অন্যান্য ব্যবস্থার কথাও. যেমন, মস্কো নিয়মিত ভাবেই দানাশষ্যের ক্ষেত্রেও খনিজ তেলের মতই ওপেক সংস্থার মতো সংস্থা তৈরীর, অর্থাত্ আমদানী ও রপ্তানীকারক দের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা তৈরী করার কথা বলেছে. এছাড়া, রাশিয়া জোর দিয়ে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সম্মিলিত নীতি নেওয়ার কথাও বলেছে. এই দলিলে সম্ভাব্য ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা থাকবে ও তার মধ্যে বিশ্ব জোড়া দানাশষ্য সঞ্চয় ভাণ্ডারের কথাও বলা হয়েছে.